রেকর্ড বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম; পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে নতুন শঙ্কা
- আপডেট সময় : ০৪:২০:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
- / 16
মঙ্গলবার বেলা ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৮৬ মিলিমিটার রেকর্ড বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। ডুবে গেছে নগরীসহ আশপাশের কয়েক উপজেলার লোকালয়, সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পতেঙ্গায় ধসে পড়েছে সড়কের একপাশ। পানিতে তলিয়ে স্থবির হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলার কয়েক লাখ মানুষের জনজীবন। পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বাড়ায় আশপাশের জনপদে বাড়ছে আতঙ্ক। বৈরী আবহাওয়ায় বন্ধ আছে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্হিনোঙ্গরে পণ্য খালাস, ফেরত গেছে বিমানবন্দরের তিনটি ফ্লাইটও। এদিকে রাঙ্গামাটিতে সকালে গাছ চাপা পড়ে মারা গেছে এক নারী। আগামী ২৪ ঘণ্টাতেও চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড় ধসের শঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
একটানা দুই দিনের বৃষ্টি, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বছরের সর্বোচ্চ ৩৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এমন অতিভারী বৃষ্টি সাম্প্রতিক সময়ে দেখেনি চট্টগ্রামবাসী। কোথাও কোমর সমান, কোথাও হাঁটু পানিতে পানিতে ডুবেছে নগরী। স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো জনজীবন।
বিশেষ করে কাতালগঞ্জ, মোহরা, আগ্রাবাদ, হালিশহর এলাকায় পানিতে ডুবেছে ঘরবাড়ি, আবাসিক এলাকা, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। সড়কে পানি উঠে সাময়িক বন্ধ হয় যান চলাচল। বন্ধ ঘোষণা করা হয় বেশরিভাগ স্কুল,কলেজও। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না কেউ।
স্থানীয়রা জানান, এ নালা দিয়ে এতো পানি যাওয়া সম্ভব নয়। প্রতিবছর বর্ষা আসলে রাস্তা-ঘাট পানির নিচে চলে যায়। কেউ কেউ আবার জানান একটু বৃষ্টিতেই পানিতে ডুবে যাচ্ছে পথ-ঘাট।
এদিকে ভারী বৃষ্টিতে ধসে পড়েছে পতেঙ্গায় সড়কের একপাশ। এসময় ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেটি সাময়িক সংস্কার করা হয়। নগরীর বাইরে রাঙ্গুনিয়া, সীতাকুণ্ড, সাতকানিয়া, বাঁশখালীসহ বিভিন্ন উপজেলায় লোকালয়, ফসলি মাঠ ও সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। পানি উঠে বন্ধ কাপ্তাই- চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল। এছাড়া বেড়িবাঁধ ভেঙ্গেছে বাঁশখালরি খানখানাবাদ এলাকায়। পাহাড়ি ঢলে পানি বাড়ছে হালদা, সাঙ্গু, মাতামুহুরিসহ বিভিন্ন নদী ও খালের।
বৈরি আবহাওয়া চট্টগ্রাম বর্হিনোঙ্গরে বন্দরে জাহাজ থেকে খোলা পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে গেছে। বিমানবন্দরে নামতে না পেরে ঢাকা ফিরে গেছে অভ্যন্তরীণ রুটের তিনটি ফ্লাইট। এদিকে কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে এলএনজি টার্মিনালে গ্যাসের সরবরাহ ৩০০এম এমসি এফ ডি কমায় গ্যাসের স্বল্পচাপ থাকবে বল ঘোষণা দিয়েছে কর্ণফুলী গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
এদিকে একটানা বুষ্টিতে দেখা দিয়েছে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার পাহাড় ধসের ঝুঁকিও। মাইকিং করে সচেতন করা হচ্ছে ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে। প্রস্তুত করা হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র।
একটানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পর্যটন নগরী কক্সবাজার। সদর উপজেলা, উখিয়ার হলদিয়াপালং, টেকনাফ, রামুর বেশ কিছু এলাকা ও সড়ক ডুবে গেছে পাহাড়ি ঢলের পানিতে। লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় বাড়ছে আতঙ্ক। এদিকে দুর্যোগ ও পাহাড় ধস মোকাবেলায় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে প্রশাসন।
পার্বত্য জেলা বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতেও হচ্ছে ভারী বৃষ্টিপাত। বাড়ছে সব নদ নদীর পানি । পাহাড়ি ঢলের তোড়ে আতংক বেড়েছে আশপাশের জনপদে। বেশ কিছু সড়কে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। সকালে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে গাছের ঢাল ভেঙে মারা গেছে এক নারী ।
নিম্নচাপের প্রভাবে আরও একদিন চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ও পাহাড় ধসের আশংকায় সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
























ক্যানসার আক্রান্ত সন্তানসহ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জুলাই শহিদের মায়ের সাক্ষাৎ