ঢাকা ০৫:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:০৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • / 7

পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে, সংবিধান ধ্বংস করা হয়েছে। এ সংশোধনী পুরোটা বাতিল হওয়া উচিত।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদকসহ চার ব্যক্তির আপিলের শুনানিতে তাদের আইনজীবী শরীফ ভূইঁয়া এমন কথা বলেছেন। বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে এ আপিল করা হয়।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে শুনানি হয়। এসময় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

এর আগে সোমবার (৬ জুলাই) আপিলের শুনানি শুরু হয়। ওইদিন পঞ্চদশ সংশোধনী একাধিক কারণে ক্রটিপূর্ণ বলে শুনানিতে উল্লেখ করেন বলে জানান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূইঁয়া।

শুনানির বিষয়ে তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ায় এই সংশোধনী সংসদে গৃহীত হয়, তা ক্রটিপূর্ণ ছিল। সংশোধনীর জন্য সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটিতে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা রাখা হবে বলে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা রাখার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সংসদে বিল উপস্থাপন করা হয়। এমনকি এ নিয়ে সংসদে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই এটি পাস হয়। সংসদে আলোচনা ছাড়াই পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক চরিত্র পরিবর্তন করা হয়েছে।

শরীফ ভূইঁয়া আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্র ধ্বংস করে দেওয়া হয়। এর ফলে পরপর তিনটি ভোটারবিহীন নির্বাচন হয়। এতে করে দেশে একটা কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা তৈরি হয়। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নাগরিকের কথা বলার স্বাধীনতা ও সংবিধান বিষয়ে আলোচনা করার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়াসহ মৌলিক অধিকার গুরুতরভাবে খর্ব করা হয়েছে।

এই সংশোধনী যে প্রক্রিয়ায় পাস হয়েছিল, তা ক্রটিপূর্ণ ছিল। এটার মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ধ্বংস করে কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা চালু করা হয়। দেশে কার্যত একটা একদলীয় শাসনব্যবস্থা তৈরি করার জন্য এই সংশোধনী করা হয়। কাজেই এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের সঙ্গে একধরনের প্রতারণা করা হয়েছে। এ কারণে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল হওয়া উচিত, যোগ করেন এ আইনজীবী।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে

আপডেট সময় : ০৪:০৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে, সংবিধান ধ্বংস করা হয়েছে। এ সংশোধনী পুরোটা বাতিল হওয়া উচিত।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদকসহ চার ব্যক্তির আপিলের শুনানিতে তাদের আইনজীবী শরীফ ভূইঁয়া এমন কথা বলেছেন। বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে এ আপিল করা হয়।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে শুনানি হয়। এসময় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

এর আগে সোমবার (৬ জুলাই) আপিলের শুনানি শুরু হয়। ওইদিন পঞ্চদশ সংশোধনী একাধিক কারণে ক্রটিপূর্ণ বলে শুনানিতে উল্লেখ করেন বলে জানান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূইঁয়া।

শুনানির বিষয়ে তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ায় এই সংশোধনী সংসদে গৃহীত হয়, তা ক্রটিপূর্ণ ছিল। সংশোধনীর জন্য সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটিতে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা রাখা হবে বলে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা রাখার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সংসদে বিল উপস্থাপন করা হয়। এমনকি এ নিয়ে সংসদে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই এটি পাস হয়। সংসদে আলোচনা ছাড়াই পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক চরিত্র পরিবর্তন করা হয়েছে।

শরীফ ভূইঁয়া আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্র ধ্বংস করে দেওয়া হয়। এর ফলে পরপর তিনটি ভোটারবিহীন নির্বাচন হয়। এতে করে দেশে একটা কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা তৈরি হয়। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নাগরিকের কথা বলার স্বাধীনতা ও সংবিধান বিষয়ে আলোচনা করার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়াসহ মৌলিক অধিকার গুরুতরভাবে খর্ব করা হয়েছে।

এই সংশোধনী যে প্রক্রিয়ায় পাস হয়েছিল, তা ক্রটিপূর্ণ ছিল। এটার মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ধ্বংস করে কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা চালু করা হয়। দেশে কার্যত একটা একদলীয় শাসনব্যবস্থা তৈরি করার জন্য এই সংশোধনী করা হয়। কাজেই এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের সঙ্গে একধরনের প্রতারণা করা হয়েছে। এ কারণে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল হওয়া উচিত, যোগ করেন এ আইনজীবী।