ঢাকা ১১:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্রোয়েশিয়াকে বিদায় করে শেষ ষোলোয় পর্তুগাল

স্পোটর্স ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • / 3

ম্যাচের শুরু থেকে প্রবল আক্রমণে ক্রোয়েশিয়াকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখল পর্তুগাল। ক্রোয়াটরা আক্রমণের ঢেউ সামলে এবং নিজেদের জাল অক্ষত রেখে গুছিয়ে উঠল দ্বিতীয়ার্ধে, এরপর এই অর্ধে শুরুতেই নিল লিড। কিন্তু পিছিয়ে পড়ে প্রত্যাবর্তনের দুর্দান্ত গল্প লিখল পর্তুগাল। যদিও অন্তিম মুহূর্তে গোল করে ফের খেলা জমিয়ে তুলেছিল ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু নাটকীয়তা তখনও বাকি, অফসাইডের কারণে মেলেনি গোল। শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চকর জয়ে ক্রোয়েশিয়াকে কাঁদিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল।

শুক্রবার সকালে বিশ্বকাপে শেষ ৩২-এর ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছে পর্তুগাল। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে হয়েছে তিনটি গোল। ইভান পেরিসিচের গোলে আগে লিড নেয় ক্রোয়েশিয়া। এরপর পেনাল্টি থেকে দলকে সমতায় ফেরার রোনালদো, আর শেষ দিকে জয়সূচক গোলটি করেন বদলি হিসেবে নামা গনসালো রামোস।

এই জয়ের ফলে শেষ ষোলোয় পর্তুগালকে মোকাবিলা করতে রাতের অন্য ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারানো স্পেনকে। পর্তুগাল এবং স্পেন এর আগে বিশ্বকাপে দুইবার একই দিনে জয়লাভ করেছে। একটি ২০১০ বিশ্বকাপে এবং অন্যটি ২০১৮ বিশ্বকাপে।

এছাড়া পর্তুগাল তাদের শেষ দুটি বড় টুর্নামেন্টে প্রথম নকআউট পর্বের রেকর্ড এদিনও ধরে রাখে। ২০২২ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে তারা সুইজারল্যান্ডকে ৬-১ গোলে হারায় এবং ইউরো ২০২৪-এর শেষ ষোলোতে গোলশূন্য ড্র হওয়ার পর পেনাল্টিতে স্লোভেনিয়াকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে।

এটি আগেই জানা কথা ছিল যে দুই কিংবদন্তির- লুকা মদরিচ কিংবা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর মধ্যে যে কোনো একজনের বিশ্বকাপ যাত্রা আজই শেষ হতে যাচ্ছে। আর সেটি হলো মদরিচের। রোনালদোর বিশ্বকাপ স্বপ্ন এখনও টিকে থাকল এই জয়ের মাধ্যমে।

এদিন, ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই ক্রোয়েশিয়া গোলকিপারের দারুণ সেভ। পর্তুগাল ফরোয়ার্ড রাফায়েল লিওর ক্রসে শট নেন ব্রুনো ফের্নান্দেস, ডমিনিক লিভাকোভিচ সেভ করলেও পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি। ফিরতি শটে ভিতিনিয়ার চেষ্টাও বিফলে যায়। কর্নার থেকে ১৬ মিনিটে রেনাতো ভেইগার শট যায় পোস্টের উপরে দিয়ে।

আক্রমণের ধারা বজায় রাখে পর্তুগাল। কিন্তু ২৩ মিনিটে আরও একবার গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেও জালের দেখা পায়নি তারা। তবে হাইড্রেশন ব্রেকে যাওয়ার আগে মোট ৭টি শট নিয়ে আধিপত্য বজায় রাখে। যেখানে ক্রোয়েশিয়া নেয় স্রেফ একটি শট।

পর্তুগালের আক্ষেপ বাড়ানোর তালিকায় এবার স্বয়ং রোনালদো। ৩০ মিনিটে বক্সে দারুণ ক্রস পেয়েও বলে পা ছোয়াতে পারেননি তিনি। তাঁর পেছনে বলের লাইনে ছিলেন ফের্নান্দেসও, তিনিও মিস করে গেছেন।

ম্যাচে এই সময় পর্যন্ত একটি শট নিয়েছেন রোনালদো। যদিও তা লক্ষ্যে ছিল না। তবে একটি তেতো রেকর্ডে এরই সঙ্গে নাম তুলেছেন পর্তুগিজ যুবরাজ। এই প্রচেষ্টাটি ছিল বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে তাঁর নেওয়া মোট ৩০তম শট। যা সবশেষ ৬০ বছরের মধ্যে টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এখনও গোল করতে না পারা যে কোনো খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যর্থ শট।

এই অর্ধের শেষ দিকে গুছিয়ে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। সেই ধারা অব্যহত থাকে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও। ৪৮ মিনিটে প্রায় একাই গোলে পেয়ে যাচ্ছিলেন মাতেও কোভাচিচ, কিন্তু ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডারের নেওয়া শট কর্নার করে দেন গোলকিপার দিয়োগো কস্তা।

দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত খেলা ক্রোয়েশিয়াকে বেশিক্ষণ আটকে রাখা যায়নি। ৫৩ মিনিটে ইভান পেরিসিচের গোলে লিড নেয় তারা। ডান দিক থেকে দেওয়া ইয়োসিপ স্তানিসিচ এর ক্রস মাটিতে নামিয়ে নিচু শটে পোস্টের ডান দিকের কোনা দিয়ে গোল করেন বাম দিকে ফাঁকায় থাকা পেরিসিচ। তিন মিনিট পর আরও একবার জালে বল জড়ায় ক্রোয়েশিয়া, কিন্তু দুর্ভাগ্য অফসাইডে গোল পায়নি তারা।

ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। গোলের ‍খুব কাছে গিয়েও কয়েক ইঞ্চি দূরে থেকে হতাশায় ডুবে যেতে হয় তাদের, যখন ৫৮ মিনিটে লিওর শট লাগে ক্রসবারে। তিন মিনিট পর রোনালদোও একবার জালে বল জড়ান, কিন্তু এবার অফসাইডে কাটা পড়েন তিনি।

শেষ পর্যন্ত পর্তুগাল ম্যাচে ফেরে পেনাল্টি গোলে। ৬৮ মিনিটে স্পটকিকে দলকে ১-১ গোলের সমতায় ফেরান রোনালদো। আর এই গোলের সৌজন্যে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে এসে কোনো নকআউট ম্যাচে প্রথমবারের মতো গোল পেলেন পর্তুগিজ যুবরাজ।

৭৫ মিনিটে পেরিসিচের দূরপাল্লার নিচু শট ঝাপিয়ে পড়ে কর্নার করে দেন দিয়োগো কস্তা। ২ মিনিটি পর লম্বা ক্রস বুক দিয়ে বক্সের কোনায় মাটিতে নামান কোভাচিচ, এরপর শট নিলেও কস্তা আরও একবার বাঁচিয়ে দেন পর্তুগালকে। এ সময় টানা আক্রমণে পর্তুগালের রক্ষণের পরীক্ষা নেয় ক্রোয়াটরা। আর ৮০ মিনিটে নিজেদের জাল আরও একবার কাঁপলেও এবার তাদের বাঁচিয়ে দেয় অফসাইডনামক ফাঁদ।

৮৮ মিনিটে ম্যাচের এখন পর্যন্ত সেরা সুযোগটাই পায় ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু গোলমুখের সামনে দুর্দান্ত ক্রস পেয়েও ফাঁকা গোলে নিতে হেডে বল রাখতে পারেননি মারিও পাসালিচ।

তবে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে গনসালো রামোস আর ভুল করেননি। বাম দিক থেকে লিওর দুর্দান্ত ক্রসে লাফিয়ে উঠে হেড নেন রামোস। গোলকিপার ঝাপিয়ে পড়েও বলের নাগাল পাননি। ২-১ ব্যবধানে লিড নেয় পর্তুগাল।

যোগ করা সময়ের ১৩ মিনিটে মনে হচ্ছিল ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ বাঁচিয়ে দেবে। বাম দিক থেকে পেরিসিচের শেষ মুহূর্তের ক্রস, মাতানোভিচ ফ্লিক করে ফার পোস্টে থাকা পাসালিচের কাছে পৌঁছে দেন। বল এই মিডফিল্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গাভার্দিওলের কাছে যায়, যিনি খুব কাছ থেকে জোরাল শটে গোল করে টরন্টোতে চরম উন্মাদনা বইয়ে দেন। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ান সমর্থকদের সেই উচ্ছ্বাস টেকেনি বেশিক্ষণ। ভিএআর রিভিউয়ে দেখা যায় পাসালিচ নিশ্চিতভাবেই অফসাইড ছিলেন। শেষ হাসি আর হাসা হল না লুকা মদরিচদের। বিদায় নিল শেষ ৩২ থেকেই।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ক্রোয়েশিয়াকে বিদায় করে শেষ ষোলোয় পর্তুগাল

আপডেট সময় : ১০:০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

ম্যাচের শুরু থেকে প্রবল আক্রমণে ক্রোয়েশিয়াকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখল পর্তুগাল। ক্রোয়াটরা আক্রমণের ঢেউ সামলে এবং নিজেদের জাল অক্ষত রেখে গুছিয়ে উঠল দ্বিতীয়ার্ধে, এরপর এই অর্ধে শুরুতেই নিল লিড। কিন্তু পিছিয়ে পড়ে প্রত্যাবর্তনের দুর্দান্ত গল্প লিখল পর্তুগাল। যদিও অন্তিম মুহূর্তে গোল করে ফের খেলা জমিয়ে তুলেছিল ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু নাটকীয়তা তখনও বাকি, অফসাইডের কারণে মেলেনি গোল। শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চকর জয়ে ক্রোয়েশিয়াকে কাঁদিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল।

শুক্রবার সকালে বিশ্বকাপে শেষ ৩২-এর ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছে পর্তুগাল। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে হয়েছে তিনটি গোল। ইভান পেরিসিচের গোলে আগে লিড নেয় ক্রোয়েশিয়া। এরপর পেনাল্টি থেকে দলকে সমতায় ফেরার রোনালদো, আর শেষ দিকে জয়সূচক গোলটি করেন বদলি হিসেবে নামা গনসালো রামোস।

এই জয়ের ফলে শেষ ষোলোয় পর্তুগালকে মোকাবিলা করতে রাতের অন্য ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারানো স্পেনকে। পর্তুগাল এবং স্পেন এর আগে বিশ্বকাপে দুইবার একই দিনে জয়লাভ করেছে। একটি ২০১০ বিশ্বকাপে এবং অন্যটি ২০১৮ বিশ্বকাপে।

এছাড়া পর্তুগাল তাদের শেষ দুটি বড় টুর্নামেন্টে প্রথম নকআউট পর্বের রেকর্ড এদিনও ধরে রাখে। ২০২২ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে তারা সুইজারল্যান্ডকে ৬-১ গোলে হারায় এবং ইউরো ২০২৪-এর শেষ ষোলোতে গোলশূন্য ড্র হওয়ার পর পেনাল্টিতে স্লোভেনিয়াকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে।

এটি আগেই জানা কথা ছিল যে দুই কিংবদন্তির- লুকা মদরিচ কিংবা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর মধ্যে যে কোনো একজনের বিশ্বকাপ যাত্রা আজই শেষ হতে যাচ্ছে। আর সেটি হলো মদরিচের। রোনালদোর বিশ্বকাপ স্বপ্ন এখনও টিকে থাকল এই জয়ের মাধ্যমে।

এদিন, ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই ক্রোয়েশিয়া গোলকিপারের দারুণ সেভ। পর্তুগাল ফরোয়ার্ড রাফায়েল লিওর ক্রসে শট নেন ব্রুনো ফের্নান্দেস, ডমিনিক লিভাকোভিচ সেভ করলেও পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি। ফিরতি শটে ভিতিনিয়ার চেষ্টাও বিফলে যায়। কর্নার থেকে ১৬ মিনিটে রেনাতো ভেইগার শট যায় পোস্টের উপরে দিয়ে।

আক্রমণের ধারা বজায় রাখে পর্তুগাল। কিন্তু ২৩ মিনিটে আরও একবার গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেও জালের দেখা পায়নি তারা। তবে হাইড্রেশন ব্রেকে যাওয়ার আগে মোট ৭টি শট নিয়ে আধিপত্য বজায় রাখে। যেখানে ক্রোয়েশিয়া নেয় স্রেফ একটি শট।

পর্তুগালের আক্ষেপ বাড়ানোর তালিকায় এবার স্বয়ং রোনালদো। ৩০ মিনিটে বক্সে দারুণ ক্রস পেয়েও বলে পা ছোয়াতে পারেননি তিনি। তাঁর পেছনে বলের লাইনে ছিলেন ফের্নান্দেসও, তিনিও মিস করে গেছেন।

ম্যাচে এই সময় পর্যন্ত একটি শট নিয়েছেন রোনালদো। যদিও তা লক্ষ্যে ছিল না। তবে একটি তেতো রেকর্ডে এরই সঙ্গে নাম তুলেছেন পর্তুগিজ যুবরাজ। এই প্রচেষ্টাটি ছিল বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে তাঁর নেওয়া মোট ৩০তম শট। যা সবশেষ ৬০ বছরের মধ্যে টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এখনও গোল করতে না পারা যে কোনো খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যর্থ শট।

এই অর্ধের শেষ দিকে গুছিয়ে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। সেই ধারা অব্যহত থাকে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও। ৪৮ মিনিটে প্রায় একাই গোলে পেয়ে যাচ্ছিলেন মাতেও কোভাচিচ, কিন্তু ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডারের নেওয়া শট কর্নার করে দেন গোলকিপার দিয়োগো কস্তা।

দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত খেলা ক্রোয়েশিয়াকে বেশিক্ষণ আটকে রাখা যায়নি। ৫৩ মিনিটে ইভান পেরিসিচের গোলে লিড নেয় তারা। ডান দিক থেকে দেওয়া ইয়োসিপ স্তানিসিচ এর ক্রস মাটিতে নামিয়ে নিচু শটে পোস্টের ডান দিকের কোনা দিয়ে গোল করেন বাম দিকে ফাঁকায় থাকা পেরিসিচ। তিন মিনিট পর আরও একবার জালে বল জড়ায় ক্রোয়েশিয়া, কিন্তু দুর্ভাগ্য অফসাইডে গোল পায়নি তারা।

ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। গোলের ‍খুব কাছে গিয়েও কয়েক ইঞ্চি দূরে থেকে হতাশায় ডুবে যেতে হয় তাদের, যখন ৫৮ মিনিটে লিওর শট লাগে ক্রসবারে। তিন মিনিট পর রোনালদোও একবার জালে বল জড়ান, কিন্তু এবার অফসাইডে কাটা পড়েন তিনি।

শেষ পর্যন্ত পর্তুগাল ম্যাচে ফেরে পেনাল্টি গোলে। ৬৮ মিনিটে স্পটকিকে দলকে ১-১ গোলের সমতায় ফেরান রোনালদো। আর এই গোলের সৌজন্যে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে এসে কোনো নকআউট ম্যাচে প্রথমবারের মতো গোল পেলেন পর্তুগিজ যুবরাজ।

৭৫ মিনিটে পেরিসিচের দূরপাল্লার নিচু শট ঝাপিয়ে পড়ে কর্নার করে দেন দিয়োগো কস্তা। ২ মিনিটি পর লম্বা ক্রস বুক দিয়ে বক্সের কোনায় মাটিতে নামান কোভাচিচ, এরপর শট নিলেও কস্তা আরও একবার বাঁচিয়ে দেন পর্তুগালকে। এ সময় টানা আক্রমণে পর্তুগালের রক্ষণের পরীক্ষা নেয় ক্রোয়াটরা। আর ৮০ মিনিটে নিজেদের জাল আরও একবার কাঁপলেও এবার তাদের বাঁচিয়ে দেয় অফসাইডনামক ফাঁদ।

৮৮ মিনিটে ম্যাচের এখন পর্যন্ত সেরা সুযোগটাই পায় ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু গোলমুখের সামনে দুর্দান্ত ক্রস পেয়েও ফাঁকা গোলে নিতে হেডে বল রাখতে পারেননি মারিও পাসালিচ।

তবে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে গনসালো রামোস আর ভুল করেননি। বাম দিক থেকে লিওর দুর্দান্ত ক্রসে লাফিয়ে উঠে হেড নেন রামোস। গোলকিপার ঝাপিয়ে পড়েও বলের নাগাল পাননি। ২-১ ব্যবধানে লিড নেয় পর্তুগাল।

যোগ করা সময়ের ১৩ মিনিটে মনে হচ্ছিল ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ বাঁচিয়ে দেবে। বাম দিক থেকে পেরিসিচের শেষ মুহূর্তের ক্রস, মাতানোভিচ ফ্লিক করে ফার পোস্টে থাকা পাসালিচের কাছে পৌঁছে দেন। বল এই মিডফিল্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গাভার্দিওলের কাছে যায়, যিনি খুব কাছ থেকে জোরাল শটে গোল করে টরন্টোতে চরম উন্মাদনা বইয়ে দেন। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ান সমর্থকদের সেই উচ্ছ্বাস টেকেনি বেশিক্ষণ। ভিএআর রিভিউয়ে দেখা যায় পাসালিচ নিশ্চিতভাবেই অফসাইড ছিলেন। শেষ হাসি আর হাসা হল না লুকা মদরিচদের। বিদায় নিল শেষ ৩২ থেকেই।