ঢাকা ০২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস-সভ্যতা ও সম্মান কিছুই নেই: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:২৫:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • / 13

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জানাজায় জড়ো হওয়া ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে ‘এক হামলায়’ হত্যা করা সম্ভব ছিল বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ‘সভ্যতা, ইতিহাস ও সম্মান নেই’ বলেও মন্তব্য করেছে ইরান।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, রোববার (৫ জুলাই) আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে। গত ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র তাদের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে।

পোস্টে বলা হয়, মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে হত্যা করা যায় না। ইরানি দূতাবাস লিখেছে, ‘আপনারা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করেছেন। কিন্তু বাস্তবে একটি সুগন্ধির বোতল ভেঙেছেন, যার সুবাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।’

পোস্টে আরও বলা হয়, ‘আপনারা এসব বুঝবেন না। কারণ আপনাদের সভ্যতা নেই, ইতিহাস নেই, সম্মানও নেই।’

মূলত খামেনির জানাজায় জড়ো হওয়া ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে ‘এক হামলায়’ হত্যা করা সম্ভব ছিল বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যের পরই ইরান এই প্রতিক্রিয়া জানায়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আলি খামেনির জানাজায় হাজার হাজার মানুষকে দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম মানুষ খামেনিকে ঘৃণা করে। হয়তো এসব কান্না নকল’। এরপর ট্রাম্প দাবি করেন, জানাজায় উপস্থিত ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে চাইলে যুক্তরাষ্ট্র ‘এক হামলাতেই’ হত্যা করতে পারত।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেন, ‘ওরা সবাই সেখানে ছিল। এক হামলাতেই আমরা তাদের সবাইকে শেষ করে দিতে পারতাম। কিন্তু আমরা তা করব না। কারণ তাহলে আলোচনার জন্য আর কাউকে পাওয়া যেত না।’

এদিকে রোববার তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তার উত্তরসূরি হিসেবে আলোচিত মোজতাবা খামেনি ছাড়া তার অন্য তিন ছেলে এবং ইরানের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ আলি খামেনি নিহত হন। বর্তমানে তেহরানের মোসাল্লায় তার মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা, কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

তেহরান, কোম, নাজাফ ও কারবালায় কয়েক দিনের শোকযাত্রা শেষে আগামী ৯ জুলাই আলি খামেনিকে দাফন করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস-সভ্যতা ও সম্মান কিছুই নেই: ইরান

আপডেট সময় : ০১:২৫:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জানাজায় জড়ো হওয়া ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে ‘এক হামলায়’ হত্যা করা সম্ভব ছিল বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ‘সভ্যতা, ইতিহাস ও সম্মান নেই’ বলেও মন্তব্য করেছে ইরান।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, রোববার (৫ জুলাই) আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে। গত ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র তাদের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে।

পোস্টে বলা হয়, মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে হত্যা করা যায় না। ইরানি দূতাবাস লিখেছে, ‘আপনারা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করেছেন। কিন্তু বাস্তবে একটি সুগন্ধির বোতল ভেঙেছেন, যার সুবাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।’

পোস্টে আরও বলা হয়, ‘আপনারা এসব বুঝবেন না। কারণ আপনাদের সভ্যতা নেই, ইতিহাস নেই, সম্মানও নেই।’

মূলত খামেনির জানাজায় জড়ো হওয়া ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে ‘এক হামলায়’ হত্যা করা সম্ভব ছিল বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যের পরই ইরান এই প্রতিক্রিয়া জানায়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আলি খামেনির জানাজায় হাজার হাজার মানুষকে দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম মানুষ খামেনিকে ঘৃণা করে। হয়তো এসব কান্না নকল’। এরপর ট্রাম্প দাবি করেন, জানাজায় উপস্থিত ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে চাইলে যুক্তরাষ্ট্র ‘এক হামলাতেই’ হত্যা করতে পারত।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেন, ‘ওরা সবাই সেখানে ছিল। এক হামলাতেই আমরা তাদের সবাইকে শেষ করে দিতে পারতাম। কিন্তু আমরা তা করব না। কারণ তাহলে আলোচনার জন্য আর কাউকে পাওয়া যেত না।’

এদিকে রোববার তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তার উত্তরসূরি হিসেবে আলোচিত মোজতাবা খামেনি ছাড়া তার অন্য তিন ছেলে এবং ইরানের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ আলি খামেনি নিহত হন। বর্তমানে তেহরানের মোসাল্লায় তার মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা, কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

তেহরান, কোম, নাজাফ ও কারবালায় কয়েক দিনের শোকযাত্রা শেষে আগামী ৯ জুলাই আলি খামেনিকে দাফন করা হবে।