যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করে শেষ আটে বেলজিয়াম
- আপডেট সময় : ০১:১০:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
- / 9
চার্লস ডি কেটেলারের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ স্বপ্ন থামিয়ে দিয়েছে বেলজিয়াম। দুই গোলের সঙ্গে একটি অ্যাসিস্ট করে ৪-১ ব্যবধানের জয়ে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন এই ফরোয়ার্ড।
শেষ ষোলোর ম্যাচে বিতর্কিত সিদ্ধান্তে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেয়ে খেলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন। তবে মার্কিন রক্ষণভাগের একের পর এক ভুলের সুযোগ নিয়ে সহজেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বেলজিয়াম।
এই জয়ে ১২ বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করল বেলজিয়াম। একই সঙ্গে টানা ১৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডও ধরে রাখল তারা।
কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়েছে তারা। শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম ও স্পেন। সেই ম্যাচের বিজয়ী সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স বা মরক্কোর।
এই হারের মাধ্যমে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল কনকাকাফ অঞ্চলের সব দল। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা—তিন আয়োজক দেশই শেষ ষোলো থেকে ছিটকে গেছে। বিশ্বকাপের শেষ আটে ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার দলগুলো টিকে আছে।
গতকাল ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে বেলজিয়াম। দ্বিতীয় মিনিটেই ইউরি টিলেমানসের শট প্রতিহত হওয়ার পর টিমোথি কাস্তানিয়ের দূরপাল্লার শট আঙুলের ডগায় ছুঁয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিস। পরের কয়েক মিনিটেও চার্লস দে কেতেলারে ও টিলেমানস গোলের সুযোগ পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগ কোনোভাবে বিপদ সামলে নেয়।
তবে নবম মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। ডোডি লুকেবাকিওর চমৎকার সুইচ পাস থেকে বাঁ প্রান্তে বল পেয়ে ক্রস করেন লিয়ান্দ্রো ট্রসার্ড। প্রথম প্রচেষ্টা প্রতিহত হলেও বল পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। সুযোগ বুঝে নিকোলাস রাসকিন বক্সের ভেতরে দে কেতেলারের উদ্দেশে নিখুঁত পাস বাড়িয়ে দেন। কাছ থেকে সহজ ফিনিশে দলকে এগিয়ে দেন বেলজিয়ামের এই ফরোয়ার্ড।
গোলের পরও আক্রমণ অব্যাহত রাখে বেলজিয়াম। তবে ম্যাচের মাঝপথে চোট পান মিডফিল্ডার আমাদু ওনানা। কিছুক্ষণ খেলার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে তুলে নিয়ে হান্স ভানাকেনকে নামাতে বাধ্য হন কোচ রুডি গার্সিয়া।
প্রথমার্ধের ২৯ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে ফোলারিন বালোগুনকে ফাউল করলে ফ্রি-কিক পায় যুক্তরাষ্ট্র। সেখান থেকেই সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। মালিক টিলম্যানের নেওয়া জোরালো শট ভানাকেনের মাথায় লেগে দিক পরিবর্তন করায় ভুল পথে চলে যান থিবো কোর্তোয়া। ৩১ মিনিটে ১-১ সমতায় ফেরে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে সেই আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র দুই মিনিট। ৩৩ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। টিলেমানস ও ট্রসার্ডের দারুণ বোঝাপড়ায় তৈরি হওয়া আক্রমণ থেকে ট্রসার্ডের নিখুঁত ক্রস পেয়ে পেছনের পোস্টে অসাধারণ হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন দে কেতেলারে। বিশ্বকাপে প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করা তৃতীয় বেলজিয়ান ফুটবলার হিসেবে নাম লেখান তিনি।
বাকি সময়েও আক্রমণে ছিল বেলজিয়ামই। রাসকিন, লুকেবাকিও ও টিলেমানস আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও শেষ দিকে বালোগুন ও ক্রিস্টিয়ান পুলিসিককে দিয়ে চেষ্টা করলেও কোর্তোয়ার সামনে তেমন পরীক্ষা নিতে পারেনি। ফলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বেলজিয়াম।
বিরতির পর ম্যাচে ফেরার আশায় পরিবর্তন আনেন যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পোচেত্তিনো। ডিফেন্ডার সার্জিনিও ডেস্টের জায়গায় নামানো হয় জিওভান্নি রেইনাকে। শুরুতে কিছুটা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও শেষ পাসের অভাবে কোনো পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি স্বাগতিকরা।
বরং দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রাখে বেলজিয়াম। ৫৭ মিনিটে আসে ম্যাচের সবচেয়ে বড় মোড়। জন মেখেলের লম্বা বল নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বক্সের অনেক বাইরে ভয়াবহ ভুল করেন গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিস। বল কেড়ে নিয়ে সামনে থাকা ভানাকেনকে পাস দেন দে কেতেলারে। প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে নেওয়া ভানাকেনের দুর্দান্ত শট জালে জড়ালে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত এটিই সবচেয়ে দূরপাল্লার গোল।
এর কিছুক্ষণ পর চোটের কারণে মাঠ ছাড়েন যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক। তার পরিবর্তে সেবাস্টিয়ান বারহাল্টারকে নামানো হলেও ম্যাচের চিত্র আর বদলায়নি।
৬৭ মিনিটে দুই গোল ও এক অ্যাসিস্ট করা দে কেতেলারেকে বিশ্রাম দিয়ে রোমেলু লুকাকুকে মাঠে নামান গার্সিয়া। একই সময়ে লুকেবাকিওর জায়গায় নামেন জেরেমি ডোকু। নতুন দুই বদলিও আক্রমণের ধার কমতে দেননি।
শেষ ২০ মিনিটে কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাককেনির ক্রস থেকে বারহাল্টারের ভলি অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে যায়। এরপর জিওভান্নি রেইনার পাস ধরে বালোগুনের শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া। পরের কর্নার থেকেও বালোগুনের হেড সহজেই তালুবন্দি করেন বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
শেষ দিকে জেরেমি ডোকুর গতিময় দৌড়ে একাধিকবার বিপাকে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগ। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে আসে শেষ আঘাত। নিজেদের অর্ধ থেকে বল বের করতে গিয়ে ভানাকেনের চাপে বল হারান ক্রিস রিচার্ডস। সেই সুযোগে বল পেয়ে ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে নিচু শটে জালের নিচের কোণায় বল পাঠিয়ে দেন বদলি হিসেবে নামা রোমেলু লুকাকু। তাতেই নিশ্চিত হয় ৪-১ গোলের দাপুটে জয়।
দে কেতেলারে দুই গোল ও এক অ্যাসিস্ট করে ১৯৬৬ সালের পর প্রথম বেলজিয়ান ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের এক ম্যাচে তিনটি গোলে সরাসরি অবদান রাখার কীর্তি গড়েন।
দাপুটে এই জয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে রুডি গার্সিয়ার দল। অন্যদিকে ঘরের মাঠে বড় ব্যবধানের পরাজয়ে শেষ ষোলোর বাধাই পেরোতে পারল না মরিসিও পোচেত্তিনোর যুক্তরাষ্ট্র।





















ভারতের সঙ্গে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ করতে পাকিস্তান প্রস্তুত: বিলাওয়াল ভুট্টো