ঢাকা ০১:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোনালদো-পর্তুগালের বিদায়, কোয়ার্টারে স্পেন

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৩১:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • / 16

আক্রমণাত্মক প্রথমার্ধে দুই দলই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে খেলেছে। সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার হতাশা এবং প্রতিপক্ষের দুই গোলকিপারের নৈপুন্যে ডেডলক ভাঙতে পারেনি কোনো দল। দ্বিতীয়ার্ধ ছিল সে তুলনায় নিস্প্রাণ। তবে বদলি হিসেবে নামা মিকেল মেরিনোর দারুণ গোলে শেষ সময়ে গিয়ে জয় পেয়েছে স্পেন। এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লিখিয়েছে তারা। বিদায় নিল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোদের পর্তুগাল।

মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়েছে স্পেন। নির্ধারিত সময়ের পর ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন মিকেল মেরিনো। শেষ চারে ওঠার লড়াইয়ে স্পেনকে মোকাবিলা করতে হবে যুক্তরাষ্ট্র এবং বেলজিয়ামের মধ্যকার জয়ী দলকে।

২০১০ বিশ্বকাপে শিরোপা জেতার পরের তিনটি আসরের একটিতেও কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারেনি স্পেন। অবশেষে সেই বৃত্ত ভেঙেছে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। ডালাসে আজ ‘আইবেরিয়ান ডার্বি’ জেতার সঙ্গে একটা প্রতিশোধও নিল স্পেন, গত বছর ইউয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে স্পেনকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল পর্তুগাল। এবার বিশ্বমঞ্চে পর্তুগিজদের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দিল স্প্যানিয়ার্ডরা।

সর্বশেষ কাতার বিশ্বকাপেও কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল পর্তুগাল। এবার বিদায় নিতে হলো শেষ ষোলোতেই। সেইসঙ্গে ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে একটি বিশ্বকাপ শিরোপার আক্ষেপ নিয়েই হয়তো আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চকে বিদায় বলতে হচ্ছে রোনালদোকে।

এদিন ষষ্ঠ মিনিটে জোয়াও ক্যানসেলোর দারুণ শট যায় পোস্টের উপরে দিয়ে। খানিক পর স্পেনের ফরোয়ার্ড মিকেল ওয়ারজাবাল থ্রু পাস ধরে উপরে উঠেন। এরপর গোলকিপারের সঙ্গে ওয়ান অন ওয়ান সিচুয়েশনে বল মারেন ডান পোস্টের বাইরে দিয়ে। অবিশ্বাস্য মিস।

১২ মিনিটে ব্রুনো ফের্নান্দেসের পাসে রোনালদোর গতিময় শট কর্নার করে দেন স্পেনের গোলকিপার উনাই সিমন। আক্রমণ প্রতি-আক্রমণে শুরুতেই জমে ওঠে ম্যাচ।

তিন মিনিট পর দিয়োগো কস্তার জোড়া সেভ। প্রথমে, বক্সে লামিনে ইয়ামালের বা পায়ের শট ডানদিকে ঝাপিয়ে রুখেন দেন, এরপর বিপরীত দিক থেকে ফিরতি শটে আলেক্স বায়েনাকেও হতাশ করেন পর্তুগিজ গোলকিপার।

স্পেন গোলের জন্য হানা দিতে থাকে পর্তুগিজ রক্ষণে। কিন্তু কস্তার দুর্দান্ত সেভে ৩১ মিনিটে আরও একবার গোলবঞ্চিত হয় তারা। ৩৭ মিনিটে এবার জোড়া সেভ করেন স্পেন গোলকিপার। প্রথমে ডান দিক থেকে আসা লম্বা ক্রসে হেড নেন ফেলিক্স, সেটি শরীর দিয়ে আটকে দেওয়ার পর ফিরতি বলে রোনালদোর পেছন থেকে নেওয়া শট উঠে দাঁড়িয়ে গ্লাভসবন্দি করেন উনাই সিমন।

৪১ মিনিটে ছোট কর্নারের পর বক্সের সামনের কোনা থেকে নুনো মেন্ডেসের বুলেট শট, স্পেন ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরোর মাথায় লেগে সৌভাগ্যবশত ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য বিরতিতে যায় দুই দল।

তবে প্রথমার্ধের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্তটি আসে ৪১ মিনিটে। পর্তুগালের নুনো মেন্ডেসের বাম পায়ের জোরালো শট স্পেনের পেদ্রো পোরোর মাথায় লেগে জালের দিকে ছুটলে তা অবিশ্বাস্যভাবে ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। কপাল জোরে বেঁচে যাওয়া স্পেন ঠিক তার পরের মিনিটেই (৪২ মিনিটে) ফুটবল ইতিহাসের অমর এক রেকর্ডে নিজেদের নাম লেখায়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ এবং চলমান ২০২৬ আসর মিলিয়ে টানা ৫৬১ মিনিট জাল অক্ষত রেখে সুইজারল্যান্ডের ১৬ বছর পুরোনো বিশ্বরেকর্ড (৫৫৯ মিনিট) ভেঙে দেয় ‘লা রোহা’রা। ম্যাচে ক্লিনশিট রেখে সেই রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেছে তারা (৬০৯ মিনিট)।

পুরো ম্যাচে ইয়ামালকে দারুণভাবে সামলানো নুনো মেন্ডেস চোটের কারণে ৫৬ মিনিটে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। তাঁর জায়গায় নামেন অভিজ্ঞ নেলসন সেমেদো।

৬০ মিনিটে ফেলিক্সের আরেকটি ক্রসে রোনালদোর হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। দুই মিনিট পর পেদ্রির শট রেনাতো ভেইগা ব্লক করেন। ফিরতি আক্রমণে ইয়ামালের শট কর্নারে পাঠিয়ে বিপদ সামাল দেয় পর্তুগাল। ৬৬ মিনিটে বায়েনার বাঁ পায়ের শট সহজেই ধরে ফেলেন কস্তা।

৭৩ মিনিটে আবারও স্পেনকে হতাশ করেন দিয়োগো কস্তা। ইয়ামালের নেওয়া দারুণ বাঁকানো ফ্রি-কিক কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন তিনি। সেই কর্নার থেকেও গোল আদায় করতে পারেনি লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

নির্ধারিত সময়ের পরের সময়ে কোনো দলও সেভাবে আক্রমণ শানাতে পারেনি। দীর্ঘ সময় ধরে গোলের জন্য চেষ্টা চালিয়েও হতাশ হয়েছে দুই দলের খেলোয়াড়দের। ম্যাচের গতি এই সময় কিছুটা কমে। মনে হচ্ছিল অতিরিক্ত সময়েই গড়াবে ম্যাচ। তবে যোগ করা সময়ে হঠাৎই গোল করে দলকে জয়ের সুবাস দেন মিকেল মেরিনো। রদ্রির একটি নিখুঁত, ডিফেন্সচেরা পাস ধরে অসাধারণ এক ফিনিশিংয়ে পর্তুগালের জাল কাঁপান এই বদলি খেলোয়াড়। শেষ পর্যন্ত তাঁর গোলেই জেতে স্পেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

রোনালদো-পর্তুগালের বিদায়, কোয়ার্টারে স্পেন

আপডেট সময় : ১২:৩১:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

আক্রমণাত্মক প্রথমার্ধে দুই দলই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে খেলেছে। সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার হতাশা এবং প্রতিপক্ষের দুই গোলকিপারের নৈপুন্যে ডেডলক ভাঙতে পারেনি কোনো দল। দ্বিতীয়ার্ধ ছিল সে তুলনায় নিস্প্রাণ। তবে বদলি হিসেবে নামা মিকেল মেরিনোর দারুণ গোলে শেষ সময়ে গিয়ে জয় পেয়েছে স্পেন। এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লিখিয়েছে তারা। বিদায় নিল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোদের পর্তুগাল।

মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়েছে স্পেন। নির্ধারিত সময়ের পর ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন মিকেল মেরিনো। শেষ চারে ওঠার লড়াইয়ে স্পেনকে মোকাবিলা করতে হবে যুক্তরাষ্ট্র এবং বেলজিয়ামের মধ্যকার জয়ী দলকে।

২০১০ বিশ্বকাপে শিরোপা জেতার পরের তিনটি আসরের একটিতেও কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারেনি স্পেন। অবশেষে সেই বৃত্ত ভেঙেছে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। ডালাসে আজ ‘আইবেরিয়ান ডার্বি’ জেতার সঙ্গে একটা প্রতিশোধও নিল স্পেন, গত বছর ইউয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে স্পেনকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল পর্তুগাল। এবার বিশ্বমঞ্চে পর্তুগিজদের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দিল স্প্যানিয়ার্ডরা।

সর্বশেষ কাতার বিশ্বকাপেও কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল পর্তুগাল। এবার বিদায় নিতে হলো শেষ ষোলোতেই। সেইসঙ্গে ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে একটি বিশ্বকাপ শিরোপার আক্ষেপ নিয়েই হয়তো আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চকে বিদায় বলতে হচ্ছে রোনালদোকে।

এদিন ষষ্ঠ মিনিটে জোয়াও ক্যানসেলোর দারুণ শট যায় পোস্টের উপরে দিয়ে। খানিক পর স্পেনের ফরোয়ার্ড মিকেল ওয়ারজাবাল থ্রু পাস ধরে উপরে উঠেন। এরপর গোলকিপারের সঙ্গে ওয়ান অন ওয়ান সিচুয়েশনে বল মারেন ডান পোস্টের বাইরে দিয়ে। অবিশ্বাস্য মিস।

১২ মিনিটে ব্রুনো ফের্নান্দেসের পাসে রোনালদোর গতিময় শট কর্নার করে দেন স্পেনের গোলকিপার উনাই সিমন। আক্রমণ প্রতি-আক্রমণে শুরুতেই জমে ওঠে ম্যাচ।

তিন মিনিট পর দিয়োগো কস্তার জোড়া সেভ। প্রথমে, বক্সে লামিনে ইয়ামালের বা পায়ের শট ডানদিকে ঝাপিয়ে রুখেন দেন, এরপর বিপরীত দিক থেকে ফিরতি শটে আলেক্স বায়েনাকেও হতাশ করেন পর্তুগিজ গোলকিপার।

স্পেন গোলের জন্য হানা দিতে থাকে পর্তুগিজ রক্ষণে। কিন্তু কস্তার দুর্দান্ত সেভে ৩১ মিনিটে আরও একবার গোলবঞ্চিত হয় তারা। ৩৭ মিনিটে এবার জোড়া সেভ করেন স্পেন গোলকিপার। প্রথমে ডান দিক থেকে আসা লম্বা ক্রসে হেড নেন ফেলিক্স, সেটি শরীর দিয়ে আটকে দেওয়ার পর ফিরতি বলে রোনালদোর পেছন থেকে নেওয়া শট উঠে দাঁড়িয়ে গ্লাভসবন্দি করেন উনাই সিমন।

৪১ মিনিটে ছোট কর্নারের পর বক্সের সামনের কোনা থেকে নুনো মেন্ডেসের বুলেট শট, স্পেন ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরোর মাথায় লেগে সৌভাগ্যবশত ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য বিরতিতে যায় দুই দল।

তবে প্রথমার্ধের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্তটি আসে ৪১ মিনিটে। পর্তুগালের নুনো মেন্ডেসের বাম পায়ের জোরালো শট স্পেনের পেদ্রো পোরোর মাথায় লেগে জালের দিকে ছুটলে তা অবিশ্বাস্যভাবে ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। কপাল জোরে বেঁচে যাওয়া স্পেন ঠিক তার পরের মিনিটেই (৪২ মিনিটে) ফুটবল ইতিহাসের অমর এক রেকর্ডে নিজেদের নাম লেখায়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ এবং চলমান ২০২৬ আসর মিলিয়ে টানা ৫৬১ মিনিট জাল অক্ষত রেখে সুইজারল্যান্ডের ১৬ বছর পুরোনো বিশ্বরেকর্ড (৫৫৯ মিনিট) ভেঙে দেয় ‘লা রোহা’রা। ম্যাচে ক্লিনশিট রেখে সেই রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেছে তারা (৬০৯ মিনিট)।

পুরো ম্যাচে ইয়ামালকে দারুণভাবে সামলানো নুনো মেন্ডেস চোটের কারণে ৫৬ মিনিটে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। তাঁর জায়গায় নামেন অভিজ্ঞ নেলসন সেমেদো।

৬০ মিনিটে ফেলিক্সের আরেকটি ক্রসে রোনালদোর হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। দুই মিনিট পর পেদ্রির শট রেনাতো ভেইগা ব্লক করেন। ফিরতি আক্রমণে ইয়ামালের শট কর্নারে পাঠিয়ে বিপদ সামাল দেয় পর্তুগাল। ৬৬ মিনিটে বায়েনার বাঁ পায়ের শট সহজেই ধরে ফেলেন কস্তা।

৭৩ মিনিটে আবারও স্পেনকে হতাশ করেন দিয়োগো কস্তা। ইয়ামালের নেওয়া দারুণ বাঁকানো ফ্রি-কিক কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন তিনি। সেই কর্নার থেকেও গোল আদায় করতে পারেনি লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

নির্ধারিত সময়ের পরের সময়ে কোনো দলও সেভাবে আক্রমণ শানাতে পারেনি। দীর্ঘ সময় ধরে গোলের জন্য চেষ্টা চালিয়েও হতাশ হয়েছে দুই দলের খেলোয়াড়দের। ম্যাচের গতি এই সময় কিছুটা কমে। মনে হচ্ছিল অতিরিক্ত সময়েই গড়াবে ম্যাচ। তবে যোগ করা সময়ে হঠাৎই গোল করে দলকে জয়ের সুবাস দেন মিকেল মেরিনো। রদ্রির একটি নিখুঁত, ডিফেন্সচেরা পাস ধরে অসাধারণ এক ফিনিশিংয়ে পর্তুগালের জাল কাঁপান এই বদলি খেলোয়াড়। শেষ পর্যন্ত তাঁর গোলেই জেতে স্পেন।