ঢাকা ০১:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে ভারতের সবচেয়ে বড় হার

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:১৬:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • / 12

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে নিজেদের সবচেয়ে বড় হারের স্বাদ পেল ভারত। ট্রেন্ট ব্রিজে ইংল্যান্ডের দুই পেসার জফরা আর্চার ও জশ টংয়ের গতির ঝড়ে মাত্র ৭৬ রানেই গুটিয়ে গেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। স্বাগতিকদের বিপক্ষে ১২৫ রানের এই বিধ্বংসী পরাজয়ে সিরিজ হারের পথে অনেকটা এগিয়ে গেল ম্যান ইন ব্লুজরা।

পাঁচ ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২০১ রানের পাহাড়সম পুঁজি গড়ে। ফিল সল্ট ৩৬ বলে ৭০ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। এছাড়া জস বাটলার ২১ বলে ৩৬ এবং স্যাম কারান শেষ দিকে ২৪ বলে অপরাজিত ৪১ রান করে দলকে ২০০ পার করান।

২০২ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ইংলিশ পেসারদের তোপের মুখে পড়ে ভারত। মাত্র ১১.৫ ওভারেই ৭৬ রানে অলআউট হয়ে যায় সফরকারীরা। এর আগে ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮০ রানে হার ছিল ভারতের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরাজয়। ট্রেন্ট ব্রিজে সেই রেকর্ডটিও ভেঙে নতুন এক বিব্রতকর নজির গড়ল শ্রেয়াস আইয়ারের দল।

ইংল্যান্ডের দুই পেসার জফরা আর্চার ও জশ টংয়ের গতির সামনে ভারতের টপ অর্ডার দাঁড়াতেই পারেনি। আর্চার ২৯ রানে ৩টি এবং টং ২৮ রানে ৪টি উইকেট শিকার করে ভারতের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। মাত্র ৫ ওভারের মধ্যেই ৫২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ভারত ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে পড়ে। কিশোর ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী কিছুটা সাহসিকতা দেখালেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।

ম্যাচ শেষে নিজেদের পারফরম্যান্সকে ‘জঘন্য’ বলে মন্তব্য করেছেন ভারত অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। তিনি বলেন, ‘এটি ছিল জঘন্য। এর চেয়ে ভালো কোনো শব্দ আমার জানা নেই। এত বড় ব্যবধানে হার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছি।’

তবে হতাশার মাঝেও ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছেন আইয়ার, ‘এটা শক্তভাবে ফিরে আসার দারুণ সুযোগ। অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে হবে না। আমরা খুব বাজে ক্রিকেট খেলেছি, তবে এখান থেকে শেখারও অনেক কিছু আছে।’

অন্যদিকে, ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক সল্টের প্রশংসা করে বলেন, ‘সল্ট অসাধারণ একটি ইনিংস খেলেছে। এমন কঠিন উইকেটে ২০০ রান করা ছিল দারুণ অর্জন। লক্ষ্য ছিল স্টাম্পে বল রাখা এবং মাঝে মাঝে বাউন্সার ব্যবহার করা। পরিকল্পনাটা যতটা সহজ শোনায়, মাঠে ঠিক ততটাই কার্যকর হয়েছে।’

উল্লেখ্য, এই জয়ের ফলে ৫ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। বৃষ্টিতে প্রথম ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পর সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ড জিতেছিল ৪ উইকেটে। আগামী বৃহস্পতিবার ব্রিস্টলে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে ভারত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর-
ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ২০১/৭ (ফিল সল্ট ৭০, স্যাম কারান ৪১*; প্রিন্স যাদব ২/৩০, হার্ষিত রানা ২/৪০)।
ভারত: ১১.৫ ওভারে ৭৬/১০ (বৈভব সূর্যবংশী ১৩, ইষাণ কিষাণ ১৩; জশ টং ৪/২৮, জফরা আর্চার ৩/২৯)।
ফলাফল: ইংল্যান্ড ১২৫ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: জফরা আর্চার।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে ভারতের সবচেয়ে বড় হার

আপডেট সময় : ১২:১৬:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে নিজেদের সবচেয়ে বড় হারের স্বাদ পেল ভারত। ট্রেন্ট ব্রিজে ইংল্যান্ডের দুই পেসার জফরা আর্চার ও জশ টংয়ের গতির ঝড়ে মাত্র ৭৬ রানেই গুটিয়ে গেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। স্বাগতিকদের বিপক্ষে ১২৫ রানের এই বিধ্বংসী পরাজয়ে সিরিজ হারের পথে অনেকটা এগিয়ে গেল ম্যান ইন ব্লুজরা।

পাঁচ ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২০১ রানের পাহাড়সম পুঁজি গড়ে। ফিল সল্ট ৩৬ বলে ৭০ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। এছাড়া জস বাটলার ২১ বলে ৩৬ এবং স্যাম কারান শেষ দিকে ২৪ বলে অপরাজিত ৪১ রান করে দলকে ২০০ পার করান।

২০২ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ইংলিশ পেসারদের তোপের মুখে পড়ে ভারত। মাত্র ১১.৫ ওভারেই ৭৬ রানে অলআউট হয়ে যায় সফরকারীরা। এর আগে ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮০ রানে হার ছিল ভারতের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরাজয়। ট্রেন্ট ব্রিজে সেই রেকর্ডটিও ভেঙে নতুন এক বিব্রতকর নজির গড়ল শ্রেয়াস আইয়ারের দল।

ইংল্যান্ডের দুই পেসার জফরা আর্চার ও জশ টংয়ের গতির সামনে ভারতের টপ অর্ডার দাঁড়াতেই পারেনি। আর্চার ২৯ রানে ৩টি এবং টং ২৮ রানে ৪টি উইকেট শিকার করে ভারতের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। মাত্র ৫ ওভারের মধ্যেই ৫২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ভারত ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে পড়ে। কিশোর ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী কিছুটা সাহসিকতা দেখালেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।

ম্যাচ শেষে নিজেদের পারফরম্যান্সকে ‘জঘন্য’ বলে মন্তব্য করেছেন ভারত অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। তিনি বলেন, ‘এটি ছিল জঘন্য। এর চেয়ে ভালো কোনো শব্দ আমার জানা নেই। এত বড় ব্যবধানে হার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছি।’

তবে হতাশার মাঝেও ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছেন আইয়ার, ‘এটা শক্তভাবে ফিরে আসার দারুণ সুযোগ। অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে হবে না। আমরা খুব বাজে ক্রিকেট খেলেছি, তবে এখান থেকে শেখারও অনেক কিছু আছে।’

অন্যদিকে, ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক সল্টের প্রশংসা করে বলেন, ‘সল্ট অসাধারণ একটি ইনিংস খেলেছে। এমন কঠিন উইকেটে ২০০ রান করা ছিল দারুণ অর্জন। লক্ষ্য ছিল স্টাম্পে বল রাখা এবং মাঝে মাঝে বাউন্সার ব্যবহার করা। পরিকল্পনাটা যতটা সহজ শোনায়, মাঠে ঠিক ততটাই কার্যকর হয়েছে।’

উল্লেখ্য, এই জয়ের ফলে ৫ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। বৃষ্টিতে প্রথম ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পর সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ড জিতেছিল ৪ উইকেটে। আগামী বৃহস্পতিবার ব্রিস্টলে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে ভারত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর-
ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ২০১/৭ (ফিল সল্ট ৭০, স্যাম কারান ৪১*; প্রিন্স যাদব ২/৩০, হার্ষিত রানা ২/৪০)।
ভারত: ১১.৫ ওভারে ৭৬/১০ (বৈভব সূর্যবংশী ১৩, ইষাণ কিষাণ ১৩; জশ টং ৪/২৮, জফরা আর্চার ৩/২৯)।
ফলাফল: ইংল্যান্ড ১২৫ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: জফরা আর্চার।