ঢাকা ০২:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিশেষ সতর্কীকরণ নোটিশ ::
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম চালু করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীদের দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা হবে। এ জন্য ০১৩১৮২৩৪৯৬২, ০১৩১৮২৩৪৯৬৩, ০১৩২১১৩৯৫৪২ ও ০১৭০৯৬৫৪৭৯১ মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়া ffwcbwdb@gmail.com এবং ffwc05@yahoo.com ই-মেইলেও তথ্য পাওয়া যাবে।

৮ বিভাগে ঝরবে ভারী বৃষ্টি, বাড়ছে নদ-নদীর প্রবাহ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:২৮:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • / 4

সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।

এ কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৬টা থকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তায় এই পূর্বাভাসা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

এদিকে, আজ সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

এদিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬টি নদীর ১০টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীগুলোর মধ্যে রয়েছে সাঙ্গু, মাতামুহুরী, কুশিয়ারা, মনু, ধলাই ও খোয়াই নদী। এর মধ্যে খোয়াই নদীর বল্লা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২২০ সেন্টিমিটার এবং হবিগঞ্জ পয়েন্টে ১১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া মাতামুহুরী নদীর লামা পয়েন্টে ১৫৪ সেন্টিমিটার এবং সাঙ্গু নদীর বান্দরবান পয়েন্টে ১৪২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, মোট ১২৭টি পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনের মধ্যে ৯৩টি স্টেশনে পানি বাড়ছে, ৩১টিতে কমছে এবং ৩টি স্টেশনে পানি অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিপদসীমার কাছাকাছি বা সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদী। এর মধ্যে তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর পয়েন্ট; কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ ও শেরপুর পয়েন্ট এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা ও লরেরগড় পয়েন্টে পানি সতর্কসীমায় অবস্থান করছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ও উজানে ব্যাপক বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে সর্বোচ্চ ২৯৮.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামে। একই সময়ে দেশের উজানে ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে সর্বোচ্চ ২২৪.০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

৮ বিভাগে ঝরবে ভারী বৃষ্টি, বাড়ছে নদ-নদীর প্রবাহ

আপডেট সময় : ০৪:২৮:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।

এ কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৬টা থকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তায় এই পূর্বাভাসা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

এদিকে, আজ সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

এদিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬টি নদীর ১০টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীগুলোর মধ্যে রয়েছে সাঙ্গু, মাতামুহুরী, কুশিয়ারা, মনু, ধলাই ও খোয়াই নদী। এর মধ্যে খোয়াই নদীর বল্লা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২২০ সেন্টিমিটার এবং হবিগঞ্জ পয়েন্টে ১১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া মাতামুহুরী নদীর লামা পয়েন্টে ১৫৪ সেন্টিমিটার এবং সাঙ্গু নদীর বান্দরবান পয়েন্টে ১৪২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, মোট ১২৭টি পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনের মধ্যে ৯৩টি স্টেশনে পানি বাড়ছে, ৩১টিতে কমছে এবং ৩টি স্টেশনে পানি অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিপদসীমার কাছাকাছি বা সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদী। এর মধ্যে তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর পয়েন্ট; কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ ও শেরপুর পয়েন্ট এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা ও লরেরগড় পয়েন্টে পানি সতর্কসীমায় অবস্থান করছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ও উজানে ব্যাপক বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে সর্বোচ্চ ২৯৮.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামে। একই সময়ে দেশের উজানে ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে সর্বোচ্চ ২২৪.০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।