ঢাকা ০২:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭ হাজার ডিমে তৈরি সম্প্রীতির নাস্তার অমলেট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:১৬:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 10

বেলজিয়ামের ছোট শহর ম্যালমেডি। ইতিহাসের গর্ভে লালিত এই শহর যেমন পরিচিত তার ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রাল, বিস্তৃত মুরল্যান্ড আর মনোরম প্রকৃতির জন্য, তেমনই অজানা এক রন্ধন ঐতিহ্যের জন্যও—যেখানে রোজ সকালের নাস্তা হয়ে ওঠে এক বিরাট উৎসব। এ বছর ফরাসি-ভাষী এই শহরটি তার ৩০তম বার্ষিক জায়ান্ট অমলেট ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করে, যেখানে শেফরা একটি বিশাল বিনামূল্যের অমলেট তৈরি করে সকলের জন্য।

গত ১৫ আগস্ট এই উৎসবের ৩০তম সংস্করণে তৈরি হয় ৭,২০০টি ডিম, বেকন ও নানা মসলা দিয়ে তৈরি এক প্রকান্ড অমলেট, যা রান্না করা হয় ৪ মিটার চওড়া একটি বিশেষ প্যানে। বিশ্বের খাদ্যরসিক ও ভোজনপ্রেমীদের কাছে ঘটনাটি বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।

রূপকথার মতো এক ঐতিহ্যের শুরু
এই অমলেট উৎসবের পেছনে রয়েছে এক রোমাঞ্চকর ইতিহাস। কিংবদন্তি বলে, নবম শতাব্দীতে ফ্রান্সের এক ডিউক তাঁর বিশাল সেনাবাহিনীর জন্য এক প্রকান্ড অমলেট তৈরি করার নির্দেশ দেন—সেখান থেকেই এই ঐতিহ্যের সূত্রপাত।

তবে বর্তমান আকারে এই উৎসবের শুরু ১৯৭৩ সালে, ফ্রান্সের বেসিয়েরেস শহরে। এরপর ধীরে ধীরে এটি আর্জেন্টিনা, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র এবং বেলজিয়ামের ম্যালমেডিতে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৯৬ সাল থেকে ম্যালমেডিতে এই উৎসব নিয়মিত আয়োজিত হতে থাকে। প্রথম দিকে ১০ হাজার ডিমের অমলেট তৈরি করা হলেও, বর্তমানে ৭,২০০ ডিমে এই অমলেট তৈরি করা হয়।

রান্নার মহোৎসব: ৪ মিটার প্যানে ৭,২০০ ডিমের ম্যাজিক
শুধু অমলেট তৈরি নয়, পুরো প্রক্রিয়াটি এক উৎসবের আমেজে মোড়ানো। কাঠের আগুনে ৪ মিটার চওড়া একটি বিশাল প্যান গরম করা হয়। প্রথমে বেকনের টুকরোগুলো ভালো করে ভাজা হয়। তারপর ৭,২০০টি ডিম ফেটিয়ে তাতে পেঁয়াজ, লবণ, মরিচ ও বিভিন্ন মসলা মিশিয়ে তৈরি করা হয়। লম্বা হাতলের স্প্যাটুলা দিয়ে ক্রমাগত নাড়তে থাকে স্বেচ্ছাসেবকরা, যাতে অমলেট সমানভাবে সিদ্ধ হয়। ২০২৩ সালের উৎসবে ১১,০০০ ডিম, ৫০ কেজি বেকন, ২৫ লিটার তেল ব্যবহার করা হয়েছিল, যা অতীতের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়েছে।

‘বিশ্ব অমলেট ব্রাদারহুড’-এর ভূমিকা
এই আয়োজনের পেছনে রয়েছে ‘ওয়ার্ল্ড ফ্র্যাটারনিটি অব দ্য নাইটস অব দ্য জায়ান্ট অমলেট’-এর মতো এক আনুষ্ঠানিক সংগঠন। তাঁরা পরম্পরাগত সাদা টুপি ও বিশেষ পোশাক পরে অমলেট তৈরির তদারকি করেন। এই ব্রাদারহুড সংস্থাটি উৎসবের ঐতিহ্য রক্ষায় কাজ করে। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন আর্জেন্টিনার পিগুয়ে শহরের প্রতিনিধিরাও। ইউরোপের নানা দেশের পর্যটকরা তো আসেনই।

শুধু খাবার নয়, এক মিলনের উৎসব
এই উৎসবের আবেদন শুধু খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের একত্রিত হওয়ার একটি মাধ্যম। অমলেট দলটির সদস্য ম্যাথিউ কেল্লেটার যেমন বলেছেন, “এটি প্রমাণ করে যে মানুষকে একত্রিত করতে আমাদের বেশি কিছু লাগে না” ।

তিনি আরও যোগ করেন, “আশা করি বিশ্বও এই শিক্ষাটা নেবে, এবং আমরা সামান্য জিনিসের মাধ্যমেই বিশ্বকে একত্রিত করতে পারব” । অ্যাপলটিভি নিউজকে জুলি ওরি নামের এক স্বেচ্ছাসেবক বলেছেন, “এটি আমার ২০তম বার্ষিকী, আমি শিশু বয়স থেকেই এখানে আসছি। এটি সত্যিই একটি বড় ইভেন্ট এবং আমরা সবাই অনেক মজা পাই” ।

কেবল রুচি নয়, অমলেটের পেছনে নানা গল্প
এই উৎসব শুধু মজার নয়। এর ইতিহাসে দুঃখের গল্পও আছে। ২০১৭ সালে ইউরোপ জুড়ে ‘ফিপ্রোনিল’ নামক কীটনাশক দিয়ে দূষিত ডিমের কেলেঙ্কারি ছড়িয়ে পড়লে, ম্যালমেডি উৎসবের আয়োজকরা কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন। তারা স্থানীয় সরবরাহকারীদের কাছ থেকে ডিম সংগ্রহ করেন এবং প্রতিটি ডিমের নিরাপত্তা যাচাই করেন। এতে উৎসবে অংশ নেওয়া এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিরাপদে অমলেট খেতে পারেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে, ঐতিহ্য রক্ষায় স্থানীয় সম্প্রদায় কতটা সচেতন ছিলেন এবং ঘটনাটি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এক দৃষ্টান্ত, যেখানে কৃষিকে রাসায়নিক কীটনাশকের কবল থেকে বাঁচানোর আর্তি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে উৎসবের অবদান
শুধু ঐতিহ্য নয়, এই উৎসব ম্যালমেডির অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক এই উৎসব দেখতে আসেন। ফলে স্থানীয় হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হন। ম্যালমেডি পর্যটন অফিস জানিয়েছে, উৎসব উপলক্ষে শহরের ক্যাথেড্রাল ও মালমুন্ডারিয়াম জাদুঘরে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। অনেকে উৎসবের আগে ক্যাথেড্রালে প্রার্থনা ও আশীর্বাদ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

বাংলাদেশে কি এমন উদ্যোগ সম্ভব?
ম্যালমেডির এই উদ্যোগ অন্য বহু দেশের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। বাংলাদেশেও কি কোনো ঐতিহ্যবাহী খাবারকে কেন্দ্র করে এমন উৎসব আয়োজন সম্ভব? ঢাকার পান্তা-ইলিশ, বাখরখানি বা চট্টগ্রামের মেজবানি গোশত—এসব খাবারকে যদি উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু করা যায়, তাহলে যেমন পর্যটন বাড়বে, তেমনি আমাদের খাদ্য ঐতিহ্য বিশ্ব দরবারে পরিচিতি পাবে। পাশাপাশি সম্প্রীতির এমন বন্ধন আরও মজবুত হবে। বাংলাদেশের বাহারী খাদ্যকে শৈল্পিক পর্যায়ে উত্তীর্ণ করে সংস্কৃতির মেলবন্ধনের মাধ্যমে পর্যটক আকর্ষণে কাজে লাগানোর চেষ্টা শুরু করা যেতেই পারে।

যেখানে অমলেট শুধু অমলেট নয়
৭,২০০ ডিম, ৪ মিটার প্যান ও শতশত স্বেচ্ছাসেবক—ম্যালমেডির জায়ান্ট অমলেট ফেস্টিভ্যাল শুধু একটি খাদ্য উৎসব নয়; এটি রুচি, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক অনন্য মিলন। ১৯৯৬ সালে যাত্রা শুরু করে তিরিশ বছরের দীর্ঘ পরিক্রমায় এই উৎসব এখন ম্যালমেডির প্রাণ হয়ে উঠেছে। যেমন ম্যাথিউ কেল্লেটার বলেছেন, ছোট জিনিসই মানুষকে একত্রিত করতে পারে। আর এই অমলেট উৎসব তার বড় উদাহরণ—যেখানে হাজার হাজার ডিমে তৈরি হয় সম্প্রীতির অসাধারণ স্বাদ। এই উৎসব আমাদের সেই বার্তাই দেয়, যা সারা বিশ্বের জন্য শিক্ষণীয়—ঐতিহ্য, খাদ্য ও সম্প্রীতি একত্রে মিলিত হয়ে পারে অসাধারণ কিছু সৃষ্টি করতে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

৭ হাজার ডিমে তৈরি সম্প্রীতির নাস্তার অমলেট

আপডেট সময় : ০১:১৬:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

বেলজিয়ামের ছোট শহর ম্যালমেডি। ইতিহাসের গর্ভে লালিত এই শহর যেমন পরিচিত তার ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রাল, বিস্তৃত মুরল্যান্ড আর মনোরম প্রকৃতির জন্য, তেমনই অজানা এক রন্ধন ঐতিহ্যের জন্যও—যেখানে রোজ সকালের নাস্তা হয়ে ওঠে এক বিরাট উৎসব। এ বছর ফরাসি-ভাষী এই শহরটি তার ৩০তম বার্ষিক জায়ান্ট অমলেট ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করে, যেখানে শেফরা একটি বিশাল বিনামূল্যের অমলেট তৈরি করে সকলের জন্য।

গত ১৫ আগস্ট এই উৎসবের ৩০তম সংস্করণে তৈরি হয় ৭,২০০টি ডিম, বেকন ও নানা মসলা দিয়ে তৈরি এক প্রকান্ড অমলেট, যা রান্না করা হয় ৪ মিটার চওড়া একটি বিশেষ প্যানে। বিশ্বের খাদ্যরসিক ও ভোজনপ্রেমীদের কাছে ঘটনাটি বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।

রূপকথার মতো এক ঐতিহ্যের শুরু
এই অমলেট উৎসবের পেছনে রয়েছে এক রোমাঞ্চকর ইতিহাস। কিংবদন্তি বলে, নবম শতাব্দীতে ফ্রান্সের এক ডিউক তাঁর বিশাল সেনাবাহিনীর জন্য এক প্রকান্ড অমলেট তৈরি করার নির্দেশ দেন—সেখান থেকেই এই ঐতিহ্যের সূত্রপাত।

তবে বর্তমান আকারে এই উৎসবের শুরু ১৯৭৩ সালে, ফ্রান্সের বেসিয়েরেস শহরে। এরপর ধীরে ধীরে এটি আর্জেন্টিনা, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র এবং বেলজিয়ামের ম্যালমেডিতে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৯৬ সাল থেকে ম্যালমেডিতে এই উৎসব নিয়মিত আয়োজিত হতে থাকে। প্রথম দিকে ১০ হাজার ডিমের অমলেট তৈরি করা হলেও, বর্তমানে ৭,২০০ ডিমে এই অমলেট তৈরি করা হয়।

রান্নার মহোৎসব: ৪ মিটার প্যানে ৭,২০০ ডিমের ম্যাজিক
শুধু অমলেট তৈরি নয়, পুরো প্রক্রিয়াটি এক উৎসবের আমেজে মোড়ানো। কাঠের আগুনে ৪ মিটার চওড়া একটি বিশাল প্যান গরম করা হয়। প্রথমে বেকনের টুকরোগুলো ভালো করে ভাজা হয়। তারপর ৭,২০০টি ডিম ফেটিয়ে তাতে পেঁয়াজ, লবণ, মরিচ ও বিভিন্ন মসলা মিশিয়ে তৈরি করা হয়। লম্বা হাতলের স্প্যাটুলা দিয়ে ক্রমাগত নাড়তে থাকে স্বেচ্ছাসেবকরা, যাতে অমলেট সমানভাবে সিদ্ধ হয়। ২০২৩ সালের উৎসবে ১১,০০০ ডিম, ৫০ কেজি বেকন, ২৫ লিটার তেল ব্যবহার করা হয়েছিল, যা অতীতের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়েছে।

‘বিশ্ব অমলেট ব্রাদারহুড’-এর ভূমিকা
এই আয়োজনের পেছনে রয়েছে ‘ওয়ার্ল্ড ফ্র্যাটারনিটি অব দ্য নাইটস অব দ্য জায়ান্ট অমলেট’-এর মতো এক আনুষ্ঠানিক সংগঠন। তাঁরা পরম্পরাগত সাদা টুপি ও বিশেষ পোশাক পরে অমলেট তৈরির তদারকি করেন। এই ব্রাদারহুড সংস্থাটি উৎসবের ঐতিহ্য রক্ষায় কাজ করে। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন আর্জেন্টিনার পিগুয়ে শহরের প্রতিনিধিরাও। ইউরোপের নানা দেশের পর্যটকরা তো আসেনই।

শুধু খাবার নয়, এক মিলনের উৎসব
এই উৎসবের আবেদন শুধু খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের একত্রিত হওয়ার একটি মাধ্যম। অমলেট দলটির সদস্য ম্যাথিউ কেল্লেটার যেমন বলেছেন, “এটি প্রমাণ করে যে মানুষকে একত্রিত করতে আমাদের বেশি কিছু লাগে না” ।

তিনি আরও যোগ করেন, “আশা করি বিশ্বও এই শিক্ষাটা নেবে, এবং আমরা সামান্য জিনিসের মাধ্যমেই বিশ্বকে একত্রিত করতে পারব” । অ্যাপলটিভি নিউজকে জুলি ওরি নামের এক স্বেচ্ছাসেবক বলেছেন, “এটি আমার ২০তম বার্ষিকী, আমি শিশু বয়স থেকেই এখানে আসছি। এটি সত্যিই একটি বড় ইভেন্ট এবং আমরা সবাই অনেক মজা পাই” ।

কেবল রুচি নয়, অমলেটের পেছনে নানা গল্প
এই উৎসব শুধু মজার নয়। এর ইতিহাসে দুঃখের গল্পও আছে। ২০১৭ সালে ইউরোপ জুড়ে ‘ফিপ্রোনিল’ নামক কীটনাশক দিয়ে দূষিত ডিমের কেলেঙ্কারি ছড়িয়ে পড়লে, ম্যালমেডি উৎসবের আয়োজকরা কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন। তারা স্থানীয় সরবরাহকারীদের কাছ থেকে ডিম সংগ্রহ করেন এবং প্রতিটি ডিমের নিরাপত্তা যাচাই করেন। এতে উৎসবে অংশ নেওয়া এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিরাপদে অমলেট খেতে পারেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে, ঐতিহ্য রক্ষায় স্থানীয় সম্প্রদায় কতটা সচেতন ছিলেন এবং ঘটনাটি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এক দৃষ্টান্ত, যেখানে কৃষিকে রাসায়নিক কীটনাশকের কবল থেকে বাঁচানোর আর্তি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে উৎসবের অবদান
শুধু ঐতিহ্য নয়, এই উৎসব ম্যালমেডির অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক এই উৎসব দেখতে আসেন। ফলে স্থানীয় হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হন। ম্যালমেডি পর্যটন অফিস জানিয়েছে, উৎসব উপলক্ষে শহরের ক্যাথেড্রাল ও মালমুন্ডারিয়াম জাদুঘরে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। অনেকে উৎসবের আগে ক্যাথেড্রালে প্রার্থনা ও আশীর্বাদ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

বাংলাদেশে কি এমন উদ্যোগ সম্ভব?
ম্যালমেডির এই উদ্যোগ অন্য বহু দেশের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। বাংলাদেশেও কি কোনো ঐতিহ্যবাহী খাবারকে কেন্দ্র করে এমন উৎসব আয়োজন সম্ভব? ঢাকার পান্তা-ইলিশ, বাখরখানি বা চট্টগ্রামের মেজবানি গোশত—এসব খাবারকে যদি উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু করা যায়, তাহলে যেমন পর্যটন বাড়বে, তেমনি আমাদের খাদ্য ঐতিহ্য বিশ্ব দরবারে পরিচিতি পাবে। পাশাপাশি সম্প্রীতির এমন বন্ধন আরও মজবুত হবে। বাংলাদেশের বাহারী খাদ্যকে শৈল্পিক পর্যায়ে উত্তীর্ণ করে সংস্কৃতির মেলবন্ধনের মাধ্যমে পর্যটক আকর্ষণে কাজে লাগানোর চেষ্টা শুরু করা যেতেই পারে।

যেখানে অমলেট শুধু অমলেট নয়
৭,২০০ ডিম, ৪ মিটার প্যান ও শতশত স্বেচ্ছাসেবক—ম্যালমেডির জায়ান্ট অমলেট ফেস্টিভ্যাল শুধু একটি খাদ্য উৎসব নয়; এটি রুচি, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক অনন্য মিলন। ১৯৯৬ সালে যাত্রা শুরু করে তিরিশ বছরের দীর্ঘ পরিক্রমায় এই উৎসব এখন ম্যালমেডির প্রাণ হয়ে উঠেছে। যেমন ম্যাথিউ কেল্লেটার বলেছেন, ছোট জিনিসই মানুষকে একত্রিত করতে পারে। আর এই অমলেট উৎসব তার বড় উদাহরণ—যেখানে হাজার হাজার ডিমে তৈরি হয় সম্প্রীতির অসাধারণ স্বাদ। এই উৎসব আমাদের সেই বার্তাই দেয়, যা সারা বিশ্বের জন্য শিক্ষণীয়—ঐতিহ্য, খাদ্য ও সম্প্রীতি একত্রে মিলিত হয়ে পারে অসাধারণ কিছু সৃষ্টি করতে।