অনুমোদন পেলে বৃহস্পতিবারের মধ্যে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন
- আপডেট সময় : ০৩:১৬:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
- / 5
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) অনুমোদনের জন্য আগামী সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। ওইদিন অনুমোদন পেলে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। তবে চূড়ান্ত খসড়ায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির হার এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন আগামী সপ্তাহের মধ্যেই জারি হতে পারে। ইতোমধ্যে এর যাবতীয় প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো এজেন্ডাভুক্ত করে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। অনুমোদন হলে বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
তবে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত করা চূড়ান্ত খসড়ায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির হার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানাতে রাজি হননি অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা।
এর আগে গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় তা ঘোষণা হতে পারে।
গত ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশন ঘোষণা নিয়ে কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে তা শিগগিরই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন করলে এরপর প্রজ্ঞাপন জারির কাজ শুরু হবে।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইতোমধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। দুই ধাপে এটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর হতে পারে।
চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন এখনো প্রকাশ না হওয়ায় গ্রেডভিত্তিক বেতনকে নিশ্চিত বেতন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রস্তাবিত কাঠামো হিসেবে যে তথ্য এসেছে, তাতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০তম গ্রেডে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী গ্রেডভিত্তিক মূল বেতন হতে পারে—
গ্রেড প্রস্তাবিত মূল বেতন
১ম গ্রেড ১,৬০,০০০ টাকা (নির্ধারিত)
২য় গ্রেড ১,৩২,০০০–১,৫৩,০০০ টাকা
৩য় গ্রেড ১,১৩,০০০–১,৪৮,৮০০ টাকা
৪র্থ গ্রেড ১,০০,০০০–১,৪২,৪০০ টাকা
৫ম গ্রেড ৮৬,০০০–১,৩৯,৭০০ টাকা
৬ষ্ঠ গ্রেড ৭১,০০০–১,৩৪,০০০ টাকা
৭ম গ্রেড ৫৮,০০০–১,২৬,৮০০ টাকা
৮ম গ্রেড ৪৭,২০০–১,১৩,৭০০ টাকা
৯ম গ্রেড ৪৫,১০০–১,০৮,৮০০ টাকা
১০ম গ্রেড ৩২,০০০–৭৭,৩০০ টাকা
১১তম গ্রেড ২৫,০০০–৬০,৫০০ টাকা
১২তম গ্রেড ২৪,৩০০–৫৮,৭০০ টাকা
১৩তম গ্রেড ২৪,০০০–৫৮,০০০ টাকা
১৪তম গ্রেড ২৩,৫০০–৫৬,৮০০ টাকা
১৫তম গ্রেড ২২,৮০০–৫৫,২০০ টাকা
১৬তম গ্রেড ২১,৯০০–৫২,৯০০ টাকা
১৭তম গ্রেড ২১,৪০০–৫১,৯০০ টাকা
১৮তম গ্রেড ২১,০০০–৫০,৯০০ টাকা
১৯তম গ্রেড ২০,৫০০–৪৯,৬০০ টাকা
২০তম গ্রেড ২০,০০০–৪৮,৪০০ টাকা
এই তালিকা আগের কমিশন ও সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের প্রস্তাবিত কাঠামোর ভিত্তিতে প্রকাশিত তথ্য। সরকারি প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশের আগে এটিকে চূড়ান্ত বেতন কাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক একটি ই-বুক প্রকাশ করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ওই বইয়ে ‘নবম পে-স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ শিরোনামে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন এ বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।
বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করে জাকির আহমেদ খান কমিশন। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়। আর সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়।
এদিকে, ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে বলে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতন কাঠামোয় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। তাই ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।
























লেক অন্টারিও’র নাম লেক আমেরিকা করে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ