ঢাকা ০১:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডাচদের হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:০৮:৫৬ অপরাহ্ন, রোববার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 14

একই প্রতিপক্ষ, একই মঞ্চ-শুধু গল্পটা এবার বদলে গেল! গত বিশ্বকাপের ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরে যে আক্ষেপ জমেছিল, ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চেই তার জবাব দিল আর্জেন্টিনা। আমস্টারডামে মেয়েদের হকি বিশ্বকাপ ফাইনালে টাইব্রেকারের স্নায়ুযুদ্ধে ডাচদের ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো তারা।

ফাইনালে আর্জেন্টিনার মেয়েরা প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছিল সেই নেদারল্যান্ডসকেই, যাদের কাছে আগের আসরের ফাইনালে হারতে হয়েছিল। এবার আর কোনো আক্ষেপ নয়। আমস্টারডামের ফাইনালে ডাচদের ৩-১ গোলে হারিয়ে টাইব্রেকারে শিরোপা নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ছিল ১-১ সমতায়।

আজ মেয়েদের হকি বিশ্বকাপ ফাইনালে ফাইনালের শুরু থেকেই দুই দলের লড়াইয়ে ছিল টানটান উত্তেজনা। প্রথমার্ধ প্রায় শেষ হওয়ার মুখে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন ইবি ইয়ানসেন। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার মাত্র ৫১ সেকেন্ড আগে পাওয়া বিশ্বকাপের ম্যাচের প্রথম পেনাল্টি কর্নার কাজে লাগান তিনি। বাঁ দিক দিয়ে ছুটে আসা তার শক্তিশালী শট জালে জড়াতেই গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। এই গোলেই এবারের বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় আটে, যা আসরে সর্বোচ্চ।

লিড পাওয়ার পর নেদারল্যান্ডস ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু শেষ কোয়ার্টারে বদলে যায় দৃশ্যপট। ম্যাচ শেষ হওয়ার ছয় মিনিট আগে পেনাল্টি কর্নার থেকে মারিয়া গ্রানাতোর গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। এরপর নির্ধারিত সময়ে আর কোনো দল গোল করতে পারেনি। ফলে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণের দায়িত্ব চলে যায় টাইব্রেকারের ওপর।

সেখানেই আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দেন গোলরক্ষক ক্রিস্তিনা কোসেন্তিনো। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ এক মুহূর্তে পিয়েন ডিকের আক্রমণ ঠেকিয়ে তিনি দলকে বিপদমুক্ত রাখেন। গোলপোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে তাঁর দুর্দান্ত প্রতিরোধ আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারেও তার দৃঢ়তায় ভর করে ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচসেরার স্বীকৃতি পাওয়া কোসেন্তিনোর কণ্ঠেও ছিল দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে পাওয়া সাফল্যের আবেগ। ১৬ বছর ধরে যে মুহূর্তটির অপেক্ষায় ছিল দল, অবশেষে সেটিই এসেছে বলে জানান তিনি।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের সিংহাসনে ফিরল আর্জেন্টিনা। নারীদের হকি বিশ্বকাপে এটি তাদের তৃতীয় শিরোপা। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে জয়টি, কারণ টানা তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নেদারল্যান্ডসকে হারিয়েই এবার আর্জেন্টিনা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। গত আসরের ফাইনালের ক্ষতও যেন এর মধ্য দিয়ে মুছে গেল।

শিরোপার লড়াইয়ের পাশাপাশি টুর্নামেন্টে ইতিহাস গড়েছে বেলজিয়ামও। ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো পদক জিতেছে তারা। ৪৮ বছর ধরে যে অপেক্ষা ছিল, আমস্টারডামে এসে তারও অবসান ঘটেছে।

একই শহরে তাই লেখা হলো দুটি ভিন্ন গল্প-একদিকে ১৬ বছর পর আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়, অন্যদিকে ৪৮ বছরের অপেক্ষা শেষে বেলজিয়ামের প্রথম বিশ্বকাপ পদক। তবে রাতের সবচেয়ে বড় উল্লাসটি নিঃসন্দেহে আর্জেন্টিনার, যারা পুরোনো হারের জবাব দিল নতুন শিরোপা দিয়ে!

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ডাচদের হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

আপডেট সময় : ১১:০৮:৫৬ অপরাহ্ন, রোববার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

একই প্রতিপক্ষ, একই মঞ্চ-শুধু গল্পটা এবার বদলে গেল! গত বিশ্বকাপের ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরে যে আক্ষেপ জমেছিল, ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চেই তার জবাব দিল আর্জেন্টিনা। আমস্টারডামে মেয়েদের হকি বিশ্বকাপ ফাইনালে টাইব্রেকারের স্নায়ুযুদ্ধে ডাচদের ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো তারা।

ফাইনালে আর্জেন্টিনার মেয়েরা প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছিল সেই নেদারল্যান্ডসকেই, যাদের কাছে আগের আসরের ফাইনালে হারতে হয়েছিল। এবার আর কোনো আক্ষেপ নয়। আমস্টারডামের ফাইনালে ডাচদের ৩-১ গোলে হারিয়ে টাইব্রেকারে শিরোপা নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ছিল ১-১ সমতায়।

আজ মেয়েদের হকি বিশ্বকাপ ফাইনালে ফাইনালের শুরু থেকেই দুই দলের লড়াইয়ে ছিল টানটান উত্তেজনা। প্রথমার্ধ প্রায় শেষ হওয়ার মুখে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন ইবি ইয়ানসেন। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার মাত্র ৫১ সেকেন্ড আগে পাওয়া বিশ্বকাপের ম্যাচের প্রথম পেনাল্টি কর্নার কাজে লাগান তিনি। বাঁ দিক দিয়ে ছুটে আসা তার শক্তিশালী শট জালে জড়াতেই গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। এই গোলেই এবারের বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় আটে, যা আসরে সর্বোচ্চ।

লিড পাওয়ার পর নেদারল্যান্ডস ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু শেষ কোয়ার্টারে বদলে যায় দৃশ্যপট। ম্যাচ শেষ হওয়ার ছয় মিনিট আগে পেনাল্টি কর্নার থেকে মারিয়া গ্রানাতোর গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। এরপর নির্ধারিত সময়ে আর কোনো দল গোল করতে পারেনি। ফলে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণের দায়িত্ব চলে যায় টাইব্রেকারের ওপর।

সেখানেই আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দেন গোলরক্ষক ক্রিস্তিনা কোসেন্তিনো। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ এক মুহূর্তে পিয়েন ডিকের আক্রমণ ঠেকিয়ে তিনি দলকে বিপদমুক্ত রাখেন। গোলপোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে তাঁর দুর্দান্ত প্রতিরোধ আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারেও তার দৃঢ়তায় ভর করে ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচসেরার স্বীকৃতি পাওয়া কোসেন্তিনোর কণ্ঠেও ছিল দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে পাওয়া সাফল্যের আবেগ। ১৬ বছর ধরে যে মুহূর্তটির অপেক্ষায় ছিল দল, অবশেষে সেটিই এসেছে বলে জানান তিনি।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের সিংহাসনে ফিরল আর্জেন্টিনা। নারীদের হকি বিশ্বকাপে এটি তাদের তৃতীয় শিরোপা। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে জয়টি, কারণ টানা তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নেদারল্যান্ডসকে হারিয়েই এবার আর্জেন্টিনা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। গত আসরের ফাইনালের ক্ষতও যেন এর মধ্য দিয়ে মুছে গেল।

শিরোপার লড়াইয়ের পাশাপাশি টুর্নামেন্টে ইতিহাস গড়েছে বেলজিয়ামও। ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো পদক জিতেছে তারা। ৪৮ বছর ধরে যে অপেক্ষা ছিল, আমস্টারডামে এসে তারও অবসান ঘটেছে।

একই শহরে তাই লেখা হলো দুটি ভিন্ন গল্প-একদিকে ১৬ বছর পর আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়, অন্যদিকে ৪৮ বছরের অপেক্ষা শেষে বেলজিয়ামের প্রথম বিশ্বকাপ পদক। তবে রাতের সবচেয়ে বড় উল্লাসটি নিঃসন্দেহে আর্জেন্টিনার, যারা পুরোনো হারের জবাব দিল নতুন শিরোপা দিয়ে!