জিসান হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল
- আপডেট সময় : ০৩:৪২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
- / 5
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে জিসান হত্যার ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে পুলিশ। তবে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় এশিয়ান টেলিভিশনের চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদসহ ছয়জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাউছার হুসাইন গত ৮ জুলাই ঢাকার আদালতে অভিযোগপত্রটি দাখিল করেন। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করে আগামী ৬ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য করেন।
অভিযোগপত্রে শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয় ছাড়াও আসামি করা হয়েছে তার সাবেক প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, আনিসুল হক ও জাহাঙ্গীর কবীর নানককে।
এ ছাড়া মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু ও মশিউর রহমান সজল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান।
অন্য আসামিরা হলেন যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ খান মুন্না, যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, মেহেদী হাসান সুমন, শান্ত নূর খান, রবিউল ইসলাম হেলালী, সাবেক কাউন্সিলর সফিকুল ইসলাম খান দিলু, আবুল কালাম অনু, সাবেক কমিশনার মোস্তাক আহমেদ, যুবলীগ নেতা ফয়সাল খন্দকার ও জাহাঙ্গীর আলম।
যেভাবে হত্যা করা হয় জিসানকে: অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে মাতুয়াইলের ২ নম্বর তিতাস গ্যাস রোড এলাকায় গণআন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের পানি পান করাতে বাসা থেকে বের হন জিসান।
ওই এলাকায় আন্দোলনকারীদের পানি দেওয়ার সময় পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি গুলি চালান বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় জাহাঙ্গীর আলমের হাতে থাকা একটি কাটা রাইফেল থেকে ছোড়া গুলি জিসানের ডান চোখের ওপর, ভ্রুর সামান্য নিচ দিয়ে ঢুকে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দাফনেও বাধার অভিযোগ: জিসানের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার লাকসামের উত্তর-পশ্চিমগাঁওয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের নির্দেশে স্থানীয় যুবলীগ নেতা রবিউল ইসলাম হেলালী জিসানের মরদেহ দাফনে বাধা দেন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে জিসানের মা বাধ্য হয়ে রাজধানীর মাতুয়াইল কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।
ছয়জনকে অব্যাহতির সুপারিশ: অন্যদিকে, মামলার তদন্তে এশিয়ান টেলিভিশনের চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ কারণে অভিযোগপত্রে তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগপত্রে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আদালতে অভিযোগপত্রের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম ৬ অক্টোবরের শুনানিতে নির্ধারিত হবে।

























অবশেষে যাকে বিয়ে করেছেন মিষ্টি জান্নাত