‘খার্গ দ্বীপ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে’, ট্রাম্পের ভিডিও ঘিরে রহস্য

- আপডেট সময় : ০২:৩১:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
- / 21
হরমুজ প্রণালীর লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেলকেন্দ্র খার্গ দ্বীপে বোমাবর্ষণের দৃশ্য দাবি করে দুটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে খার্গে এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন হামলার খবর পাওয়া যায়নি। ট্রাম্পের শেয়ার করা ফুটেজগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে জানা গেছে।
রোববার ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে এসব ভিডিও শেয়ার করেন। একটি ফুটেজে খার্গ দ্বীপে তেল সংরক্ষণ ট্যাঙ্ক ও একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে বড় ধরনের বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়।
ভিডিওতে একটি বিমানকেও ওই এলাকার ওপর দিয়ে উড়ে যেতে দেখা যায়। পোস্টে লেখা ছিল, ‘খার্গ দ্বীপ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে!!! প্রেসিডেন্ট ডিজেটি।’
এর আগে জুলাইয়ের শেষের পর ইরানের ওপর প্রথম হামলা হিসেবে মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালীর ছোট দ্বীপ লারাকে ইরানের রকেট লঞ্চার লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে ইরানকে আরও সামুদ্রিক মাইন স্থাপন থেকে বিরত রাখতেই এই অভিযান চালানো হয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে ‘আসন্ন হুমকি’ তৈরি করা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মাইন স্থাপনকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে তারা সীমিত ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে।
তবে ট্রাম্পের ভিডিওতে দেখানো খার্গ দ্বীপে কোনো মার্কিন হামলার তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এটি ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি ও ভয় দেখানোর কৌশলও হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই-নির্মিত ও অতিরঞ্জিত কনটেন্ট শেয়ার করার নজির এর আগেও রয়েছে ট্রাম্পের।
এদিকে ইরানের আইআরজিসি ওয়াশিংটন-মিত্র জর্ডানে দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। এতে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলে দাবি করা হয়। জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।
তেহরান পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক কর্মীদেরও লক্ষ্যবস্তু করার কথা জানায়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের প্রকাশ করা ভিডিওটির বিস্ফোরণের দৃশ্য সম্ভবত এআই দিয়ে তৈরি। ভিডিওটি পরীক্ষা করেও সেটি কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। পোস্টের কয়েক ঘণ্টা পরও খার্গ দ্বীপে হামলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস ও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। ইরানের গণমাধ্যমেও এ নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
ইরানের জন্য খার্গ দ্বীপের কৌশলগত গুরুত্ব অনেক। যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমে হতো। ফলে সেখানে হামলা হলে ইরানের তেল রপ্তানি এবং অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তার দেশ যুদ্ধ চায় না। তবে কোনো ধরনের আগ্রাসনের মুখে ইরান নীরব থাকবে না এবং হামলাকারীদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে। কিরগিজস্তান সফরে যাওয়ার আগে সোমবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তবে খার্গ দ্বীপ নিয়ে ট্রাম্পের পোস্টের আগে নাকি পরে পেজেশকিয়ান ওই মন্তব্য করেছেন, তা স্পষ্ট নয়। ইরানের গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে জর্দানে থাকা দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। লারাক দ্বীপটি খার্গ দ্বীপ থেকে প্রায় ৬৬০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লারাক দ্বীপে হামলা চালাতে ব্যবহৃত এবং ওই হামলায় সহায়তা করা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করেই জর্দানে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, লারাকে হামলার প্রতিক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ঘাঁটিটিতে মার্কিন সেনা ও হেলিকপ্টার মোতায়েন ছিল বলেও দাবি করেছে তারা।
ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার দেশটির এলিট বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে। বাহিনীটির বিবৃতি অনুযায়ী, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়। পরে সেটি উপসাগরের পানিতে পড়ে যায়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে আরও বলা হয়েছে, আইআরজিসির আরেকটি বিবৃতি অনুযায়ী, দক্ষিণ হরমুজ প্রণালিতে দুটি নৌ-মাইনে আঘাত পেয়ে একটি বড় তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায়। পরে জাহাজটি পুরোপুরি থেমে যায়।
সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কয়েক সপ্তাহ ধরে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল অনুসরণ করছিল ট্রাম্প প্রশাসন। এ সময় ইরান ও দেশটির ব্যবসায়িক অংশীদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়। এর মধ্যেই আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সামরিক সংঘাত শুরু হলো।




















