নেপালে ভয়াবহ বন্যা: প্রাণহানি হাজার ছাড়াল, নিখোঁজ ৪৫০০
- আপডেট সময় : ০৩:৫৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 5
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মানুষ। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নেপালের প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ এই বন্যায় নেপালের অংশে আরও ৮৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ায় দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮৭ হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯১৬ জন, যাদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে মোতায়েন ৬৩৯ জন কর্মীও রয়েছেন।
অন্যদিকে, চীনা কর্তৃপক্ষ তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। সেখানে আরও ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি। দুই দেশের তথ্য মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩, আর নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৪৬২ জন। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৮৪৪।
গত ২৬ আগস্ট নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহ ভেঙে যায়। এর ফলে বরফ ও পাথরের বিশাল ধস সৃষ্টি হয়ে তা ভয়াবহ ধ্বংসাবশেষের স্রোতে পরিণত হয়। সীমান্তবর্তী নদী ও উপত্যকার মধ্য দিয়ে সেই স্রোত নেমে আসে।
বন্যার পানির সঙ্গে কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, কাভরে ও কাঠমান্ডু উপত্যকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চীনের তিব্বতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নেপাল সীমান্তের জিরং সীমান্ত ক্রসিংটিও কাদার নিচে চাপা পড়ে।
দুই দেশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশিদের বেশির ভাগই ভারতের নাগরিক। নিখোঁজদের মধ্যে ২৭৫ জন ভারতীয় ও ১০০ জন চীনা নাগরিক রয়েছেন। মরদেহ উদ্ধারের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ফ্রিজার, ডিএনএ পরীক্ষার কিট, দুর্গত এলাকা চিহ্নিত করতে দূরবর্তী-অনুধাবন প্রযুক্তি এবং ড্রোন চেয়েছে কাঠমান্ডু।
উদ্ধার ও অনুসন্ধান কাজে সহায়তা করতে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত জরুরি দল পাঠিয়েছে। তবে দুর্গম ভূখণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ধ্বংসাবশেষের কারণে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে যোগাযোগ ও উদ্ধার অভিযান।






















দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু