বাপেক্সকে পঙ্গু করে রাখায় বর্তমান জ্বালানিসংকট: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১১:২৫:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 3
দেশের বিদ্যমান জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিকাকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, বিগত স্বৈরাচারের সময়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে রীতিমতো পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল। ফলে অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান বা আমদানিনির্ভরতার কারণে সৃষ্ট বর্তমান জ্বালানি সংকট।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিন প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হওয়া অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ১০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের কর্মসূচির আওতায় ৩০টি কূপ খনন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপের মাধ্যমে প্রায় ৪৫০ এমএমএসসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হয়েছে। বর্তমানে চলমান সাতটি কূপ খনন শেষ হলে আরও ৮৫ এমএমএসসিএফডি গ্যাস যুক্ত হবে। অবশিষ্ট কূপসমূহ খননের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।
দেশীয় গ্যাসের নতুন উৎস অনুসন্ধানে ৫ হাজার ৬০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে আরও দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বাপেক্স) শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অফশোর মডেল পিএসসি–২০২৬ অনুমোদনের পর বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। এ ছাড়া অফশোর মডেল পিএসসি অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অফশোর এবং অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের মাধ্যমে গ্যাস পাওয়া গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কক্সবাজারের মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবজোমে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ওই টার্মিনাল থেকে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি বা গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়বে। পাশাপাশি পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে আরও ২–১টি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত এসব ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হলে দেশে সামগ্রিকভাবে জ্বালানি নিরাপত্তা আরও বৃদ্ধি পাবে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।























চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস