সরকারি দলের আচরণে সংসদে থাকার আগ্রহ কমে যাচ্ছে: বিরোধীদলীয় উপনেতা
- আপডেট সময় : ১১:২২:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 6
সংসদ পরিচালনায় সরকারি দলের আচরণে সংসদে থাকার আগ্রহ কমে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদ বণ্টন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সব পদ দখলে রাখাকে ‘স্বৈরাচারী’ আচরণ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
একইসঙ্গে সরকারকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেছেন, ‘আমরা আরেকটা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চাচ্ছি না।’
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় কমিটি গঠনের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা।
অধিবেশনে ফ্লোর নিয়ে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘সরকার দলের আচরণে আমাদের এই পার্লামেন্টে থাকার ব্যাপারে খুব ইন্টারেস্ট কমে যাচ্ছে। এটা আমি মনে করি দুর্ভাগ্যজনক।
সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ বণ্টনে চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘বৈঠকে ২৬ শতাংশ শেয়ার বিরোধী দল পাওয়ার কথা। মেম্বার অব পার্লামেন্টদের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এটা হওয়ার কথা এবং সরকারি দল সেটা এগ্রি করেছে।
সংবিধান বা কার্যপ্রণালি বিধিতে উল্লেখ না থাকলেও আলোচনার ভিত্তিতে একসময় সরকারি দলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলকে ১০টি সভাপতির পদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল এবং তালিকাও দেওয়া হয়েছিল বলে জানান বিরোধীদলীয় উপনেতা।
ডা. তাহের বলেন, ‘সরকারি দল মেজরিটির কারণে কিছুটা ব্যাপক হয়েছে। তারা নিজেরাই যেভাবে ডিসাইড করছে, সেটাই এখানে প্রয়োগ করছে।’
পদ দেওয়ার বিনিময়ে সরকারি দলের শর্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমরা তো বাচ্চা ছেলে না যে আমাদেরকে ললিপপ দেখাইয়া দেখাইয়া আপনি নিয়ে যাবেন। সভাপতির যে পদটি, এটা তো আমরা সরকারের কাছে চাচ্ছি না, এটা আমাদের রাইট।’
সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সব পদ আটকে রাখাকে স্বৈরাচারের সঙ্গে তুলনা করে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, ‘মেজরিটি পার্টি বিকাম অব পার্লামেন্ট– এটাকেই তো স্বৈরাচার বলে। স্বৈরাচার মিনস আমি যা যা চাই, এটাই আমার আচরণ। আমরা এই পার্লামেন্টকে এভাবে দেখতে চাই না।’ মেজরিটির জোরে একটি অন্যায়কে পার্লামেন্টে এস্টাবলিশ করা হচ্ছে বলে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।
এসময় মন্ত্রীরা বক্তব্যের জবাব দিতে বারবার দাঁড়ানোয় সংসদে আলোচনার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ডা. তাহের। স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এভাবে তো একজন আরেকজনের কথা থাকতে হবে। একটা জায়গায় তো শেষ হতে হবে। আমি আপনার মাধ্যমে অনুরোধ করব, এই বিষয়টি আপনার দিক থেকেও একটু খেয়াল রাখা উচিত।’
বিরোধীদলীয় উপনেতার বক্তব্যের পর স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘আপনি তিনটা পয়েন্ট উল্লেখ করেছেন। প্রথম পয়েন্টটা আমাকে অ্যাড্রেস করে, আই অ্যাপ্রিশিয়েট। আপনি ডিসেন্সির (ভদ্রতা) পরিচয় দিয়েছেন, বলার সাথে সাথে বসে গেছেন। দ্যাট ইজ দ্য বিউটি অব এ পার্লামেন্ট।’






















চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস