ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ ::
ওয়েব সাইড আপগ্রেট করার কারণে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে সংবাদ সম্প্রচার বন্ধ থাকবে। এ জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

বিয়ন্সে: পপসংগীতের রানি থেকে বিলিয়নিয়ার

বিনোদন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:২৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 5

বিশ্ব সংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী তারকা বিয়ন্সে নোলস। গানের পাশাপাশি নাচ, অভিনয়, প্রযোজনা ও ব্যবসায়ও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। তিন দশকের বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক বিনোদন অঙ্গনে সক্রিয় এই শিল্পী আজও নতুন কাজ ও সাফল্য দিয়ে আলোচনায় থাকেন।

আজ ৪ সেপ্টেম্বর বিয়ন্সের জন্মদিন। ১৯৮১ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি আগ্রহী ছিলেন বিয়ন্সে। মাত্র নয় বছর বয়সে ‘গার্লস টাইম’ নামের একটি কিশোরী গানের দলে যুক্ত হন। নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সেই দলই পরবর্তী সময়ে ‘ডেস্টিনিজ চাইল্ড’ নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পায়।

নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে ডেস্টিনিজ চাইল্ডের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে থাকে। ‘বিলস বিলস বিলস’, ‘সে মাই নেম’ ও ‘সারভাইভার’-এর মতো গান দলটিকে আন্তর্জাতিক তারকাখ্যাতি এনে দেয়। দলের প্রধান কণ্ঠ ও পারফর্মার হিসেবে বিয়ন্সের পরিচিতিও তখন আরও দৃঢ় হয়।

২০০৩ সালে একক ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায় শুরু করেন তিনি। প্রকাশ করেন প্রথম অ্যালবাম ‘ডেঞ্জারাসলি ইন লাভ’। অ্যালবামের ‘ক্রেজি ইন লাভ’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার পাশাপাশি বিয়ন্সেকে একক শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ওই অ্যালবামের জন্য এক রাতেই পাঁচটি গ্র্যামি পুরস্কার জেতেন তিনি।

এরপর ‘বি’ডে’, ‘আই অ্যাম…সাশা ফিয়ার্স’, ‘বিয়ন্সে’, ‘লেমনেড’ ও ‘রেনেসাঁ’র মতো অ্যালবামের মাধ্যমে নিজের সংগীতভাষাকে বারবার বদলেছেন এই শিল্পী। ২০১৬ সালের ‘লেমনেড’-এ ব্যক্তিগত অনুভূতি ও সম্পর্কের নানা জটিলতা উঠে আসে। ২০২২ সালের ‘রেনেসাঁ’য় নাচ ও ড্যান্স সংগীতকে গুরুত্ব দেন তিনি।

২০২৪ সালে ‘কাউবয় কার্টার’ দিয়ে নতুন চমক দেখান বিয়ন্সে। কান্ট্রি সংগীতের জগতে প্রবেশ করে অ্যালবামটি তাঁকে এনে দেয় ২০২৫ সালের গ্র্যামিতে অ্যালবাম অব দ্য ইয়ারসহ তিনটি পুরস্কার। একই সঙ্গে কান্ট্রি অ্যালবাম বিভাগে জয়ী প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী শিল্পী হিসেবেও ইতিহাস তৈরি করেন তিনি।

পুরস্কারের হিসাবেও বিয়ন্সে অনন্য। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ৩৫টি গ্র্যামি পুরস্কার এবং ৯৯টি মনোনয়ন। গ্র্যামির ইতিহাসে সর্বাধিক পুরস্কার ও মনোনয়নের রেকর্ড দুটিই বর্তমানে তাঁর দখলে।

সংগীতের বাইরে ব্যবসায়ও সফল বিয়ন্সে। ফ্যাশন, বিনোদন ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক উদ্যোগের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন বড় এক সাম্রাজ্য। ফোর্বসের হিসাবে তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার।

ব্যক্তিজীবনে সংগীতশিল্পী জে-জেডের সঙ্গে তাঁর বিয়ে ২০০৮ সালে। তাঁদের তিন সন্তান—ব্লু আইভি, রুমি ও স্যার কার্টার। ব্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতাও বিভিন্ন সময়ে তাঁর সৃষ্টিতে প্রভাব ফেলেছে।

শৈশবের ছোট্ট একটি গানের দল থেকে বিশ্বমঞ্চের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পী হয়ে ওঠার গল্পে বিয়ন্সে দেখিয়েছেন, প্রতিভার সঙ্গে পরিশ্রম ও সৃজনশীলতার মেলবন্ধন কতটা দূর নিয়ে যেতে পারে। জন্মদিনে তাই তাঁকে ঘিরে উদ্‌যাপন শুধু একজন তারকার নয়, বরং সংগীত ও জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিনের এক অসাধারণ প্রভাবেরও।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বিয়ন্সে: পপসংগীতের রানি থেকে বিলিয়নিয়ার

আপডেট সময় : ০৩:২৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ব সংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী তারকা বিয়ন্সে নোলস। গানের পাশাপাশি নাচ, অভিনয়, প্রযোজনা ও ব্যবসায়ও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। তিন দশকের বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক বিনোদন অঙ্গনে সক্রিয় এই শিল্পী আজও নতুন কাজ ও সাফল্য দিয়ে আলোচনায় থাকেন।

আজ ৪ সেপ্টেম্বর বিয়ন্সের জন্মদিন। ১৯৮১ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি আগ্রহী ছিলেন বিয়ন্সে। মাত্র নয় বছর বয়সে ‘গার্লস টাইম’ নামের একটি কিশোরী গানের দলে যুক্ত হন। নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সেই দলই পরবর্তী সময়ে ‘ডেস্টিনিজ চাইল্ড’ নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পায়।

নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে ডেস্টিনিজ চাইল্ডের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে থাকে। ‘বিলস বিলস বিলস’, ‘সে মাই নেম’ ও ‘সারভাইভার’-এর মতো গান দলটিকে আন্তর্জাতিক তারকাখ্যাতি এনে দেয়। দলের প্রধান কণ্ঠ ও পারফর্মার হিসেবে বিয়ন্সের পরিচিতিও তখন আরও দৃঢ় হয়।

২০০৩ সালে একক ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায় শুরু করেন তিনি। প্রকাশ করেন প্রথম অ্যালবাম ‘ডেঞ্জারাসলি ইন লাভ’। অ্যালবামের ‘ক্রেজি ইন লাভ’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার পাশাপাশি বিয়ন্সেকে একক শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ওই অ্যালবামের জন্য এক রাতেই পাঁচটি গ্র্যামি পুরস্কার জেতেন তিনি।

এরপর ‘বি’ডে’, ‘আই অ্যাম…সাশা ফিয়ার্স’, ‘বিয়ন্সে’, ‘লেমনেড’ ও ‘রেনেসাঁ’র মতো অ্যালবামের মাধ্যমে নিজের সংগীতভাষাকে বারবার বদলেছেন এই শিল্পী। ২০১৬ সালের ‘লেমনেড’-এ ব্যক্তিগত অনুভূতি ও সম্পর্কের নানা জটিলতা উঠে আসে। ২০২২ সালের ‘রেনেসাঁ’য় নাচ ও ড্যান্স সংগীতকে গুরুত্ব দেন তিনি।

২০২৪ সালে ‘কাউবয় কার্টার’ দিয়ে নতুন চমক দেখান বিয়ন্সে। কান্ট্রি সংগীতের জগতে প্রবেশ করে অ্যালবামটি তাঁকে এনে দেয় ২০২৫ সালের গ্র্যামিতে অ্যালবাম অব দ্য ইয়ারসহ তিনটি পুরস্কার। একই সঙ্গে কান্ট্রি অ্যালবাম বিভাগে জয়ী প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী শিল্পী হিসেবেও ইতিহাস তৈরি করেন তিনি।

পুরস্কারের হিসাবেও বিয়ন্সে অনন্য। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ৩৫টি গ্র্যামি পুরস্কার এবং ৯৯টি মনোনয়ন। গ্র্যামির ইতিহাসে সর্বাধিক পুরস্কার ও মনোনয়নের রেকর্ড দুটিই বর্তমানে তাঁর দখলে।

সংগীতের বাইরে ব্যবসায়ও সফল বিয়ন্সে। ফ্যাশন, বিনোদন ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক উদ্যোগের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন বড় এক সাম্রাজ্য। ফোর্বসের হিসাবে তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার।

ব্যক্তিজীবনে সংগীতশিল্পী জে-জেডের সঙ্গে তাঁর বিয়ে ২০০৮ সালে। তাঁদের তিন সন্তান—ব্লু আইভি, রুমি ও স্যার কার্টার। ব্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতাও বিভিন্ন সময়ে তাঁর সৃষ্টিতে প্রভাব ফেলেছে।

শৈশবের ছোট্ট একটি গানের দল থেকে বিশ্বমঞ্চের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পী হয়ে ওঠার গল্পে বিয়ন্সে দেখিয়েছেন, প্রতিভার সঙ্গে পরিশ্রম ও সৃজনশীলতার মেলবন্ধন কতটা দূর নিয়ে যেতে পারে। জন্মদিনে তাই তাঁকে ঘিরে উদ্‌যাপন শুধু একজন তারকার নয়, বরং সংগীত ও জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিনের এক অসাধারণ প্রভাবেরও।