ঢাকা ০১:৫৯ অপরাহ্ন, রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:০৭:৩৭ অপরাহ্ন, রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 10

হামলার শিকার হওয়ার পর সৌদি আরব একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দিয়েছে। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী একটি জাহাজে নতুন করে হামলার খবর পেয়েছেন সামুদ্রিক ট্র্যাকাররা। এর ফলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে থাকা হুমকি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে গেছে।

যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনী-সংযুক্ত সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় একটি জাহাজে অস্ত্রের আঘাত হানার খবর তাদের কাছে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, রোববারের শুরুর দিক পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ক্রুদের অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।

এদিকে বাগদাদ ও রিয়াদ উভয়পক্ষই জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়ারা সক্রিয় রয়েছে এমন একটি এলাকা থেকে সৌদিতে ড্রোন হামলা হয়েছিল।

এরপর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সৌদি আরব তাদের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানানোর কয়েকঘণ্টা পরই ইউকেএমটিও এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া এই যুদ্ধের ফলে চলমান হামলাগুলো জ্বালানি মূল্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

এর আগে গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে পুনরায় ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। আরব উপদ্বীপের ওপর দিয়ে চলে যাওয়া ১,২০০ কিলোমিটার বা ৭৪৫ মাইল দীর্ঘ এই পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি গত ছয় মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যের তেল বিশ্ববাজারে পাঠানোর প্রধান রুট হিসেবে কাজ করে আসছিল। কারণ যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ রয়েছে।

এর মাধ্যমে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হচ্ছিল, যা বিশ্ব সরবরাহের ৪ থেকে ৫ শতাংশ। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য তেল ও গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলো যে সংকটের মুখে পড়েছিল, সৌদি আরব তা থেকে অনেকাংশে রক্ষা পেয়েছিল।

পাইপলাইনে চালানো এ হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, মদিনার দক্ষিণে পাইপলাইনের একটি এলাকায় কালো ধোঁয়া উড়ছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় কিছু মানুষ আহত হয়েছে ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এর ফলে রপ্তানির ওপর ঠিক কী প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার একটি রিসোর্টে আয়োজিত গলফ টুর্নামেন্টে যোগ দিতে আয়ারল্যান্ড সফরকালে বলেছেন, সম্ভবত এর জন্য ইরান দায়ী।

শনিবার সৌদি সিভিল ডিফেন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হুতিদের ছোড়া একটি অস্ত্রের আঘাতে জাজান অঞ্চলে দুইজন আহত হয়েছেন এবং একটি মসজিদসহ বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০১:০৭:৩৭ অপরাহ্ন, রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হামলার শিকার হওয়ার পর সৌদি আরব একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দিয়েছে। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী একটি জাহাজে নতুন করে হামলার খবর পেয়েছেন সামুদ্রিক ট্র্যাকাররা। এর ফলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে থাকা হুমকি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে গেছে।

যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনী-সংযুক্ত সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় একটি জাহাজে অস্ত্রের আঘাত হানার খবর তাদের কাছে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, রোববারের শুরুর দিক পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ক্রুদের অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।

এদিকে বাগদাদ ও রিয়াদ উভয়পক্ষই জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়ারা সক্রিয় রয়েছে এমন একটি এলাকা থেকে সৌদিতে ড্রোন হামলা হয়েছিল।

এরপর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সৌদি আরব তাদের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানানোর কয়েকঘণ্টা পরই ইউকেএমটিও এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া এই যুদ্ধের ফলে চলমান হামলাগুলো জ্বালানি মূল্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

এর আগে গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে পুনরায় ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। আরব উপদ্বীপের ওপর দিয়ে চলে যাওয়া ১,২০০ কিলোমিটার বা ৭৪৫ মাইল দীর্ঘ এই পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি গত ছয় মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যের তেল বিশ্ববাজারে পাঠানোর প্রধান রুট হিসেবে কাজ করে আসছিল। কারণ যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ রয়েছে।

এর মাধ্যমে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হচ্ছিল, যা বিশ্ব সরবরাহের ৪ থেকে ৫ শতাংশ। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য তেল ও গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলো যে সংকটের মুখে পড়েছিল, সৌদি আরব তা থেকে অনেকাংশে রক্ষা পেয়েছিল।

পাইপলাইনে চালানো এ হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, মদিনার দক্ষিণে পাইপলাইনের একটি এলাকায় কালো ধোঁয়া উড়ছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় কিছু মানুষ আহত হয়েছে ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এর ফলে রপ্তানির ওপর ঠিক কী প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার একটি রিসোর্টে আয়োজিত গলফ টুর্নামেন্টে যোগ দিতে আয়ারল্যান্ড সফরকালে বলেছেন, সম্ভবত এর জন্য ইরান দায়ী।

শনিবার সৌদি সিভিল ডিফেন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হুতিদের ছোড়া একটি অস্ত্রের আঘাতে জাজান অঞ্চলে দুইজন আহত হয়েছেন এবং একটি মসজিদসহ বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স