ঢাকা ০২:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলকে ৪০ হাজার বোমা দিতে দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৩১:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 4

গাজায় ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানির আশঙ্কায় দুই বছর আগে যে ২ হাজার পাউন্ড ওজনের শক্তিশালী বোমার চালান আটকে দিয়েছিল জো বাইডেন প্রশাসন, এবার সেই ধরনের বোমাই ইসরায়েলকে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবিত ২.৮ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজে থাকছে ৪০ হাজার ভারী বোমা।

মঙ্গলবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই মার্কিন কর্মকর্তা এবং পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত এক ব্যক্তি এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসকে অনানুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।

প্যাকেজটিতে ২০ হাজার এমকে-৮৪ (MK-84) এবং ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ (BLU-117) বোমা রয়েছে। চুক্তির বড় অংশের অর্থ পরিশোধ করা হবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিং’ কর্মসূচির মাধ্যমে। এ ব্যবস্থায় মার্কিন সরকার ইসরায়েলকে অর্থ দেয় এবং সেই অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেই অস্ত্র কেনে দেশটি।

বাইডেনের নিষেধাজ্ঞা, ট্রাম্পের অনুমোদন
২০২৪ সালে গাজায় ভারী বোমা ব্যবহারে ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের আশঙ্কায় বাইডেন প্রশাসন ইসরায়েলের জন্য নির্ধারিত একটি এমকে-৮৪ বোমার চালান আটকে দিয়েছিল।

তবে ২০২৫ সালে ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প প্রশাসন ওই চালানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এর আগে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের শুরুর মাসগুলোতে বাইডেন প্রশাসনও ইসরায়েলকে হাজার হাজার ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা সরবরাহ করেছিল।

এরপর ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের স্বাভাবিক পর্যালোচনা প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে ইসরায়েলের কাছে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়। ওই চালানে ৩৫ হাজার ৫০০-এর বেশি বোমা ছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আরও ৬.৬৭ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়।

কেন এত বিতর্ক ভারী বোমা নিয়ে?
২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমাগুলোর বিভিন্ন সংস্করণ রয়েছে। কিছু বোমা মাটির গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তু ভেদ করতে পারে, আবার কিছু মাটির ওপর বিস্ফোরিত হয়ে বড় পরিসরে ধ্বংস ঘটাতে সক্ষম।

গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এক টন ওজনের বোমা বহুবার ব্যবহারের তথ্য বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ টেকনিশিয়ান ট্রেভর বল ‘দ্য পোস্ট’-কে বলেন, সন্দেহভাজন যোদ্ধাদের অবস্থান করা ভবন ধ্বংস করতে ইসরায়েলি বাহিনী এমকে-৮৪ বোমা ব্যবহার করেছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, একটি এমকে-৮৪ বোমা একটি পুরো ভবন ধসিয়ে দিতে সক্ষম।

ঘনবসতিপূর্ণ গাজায় বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি
গাজায় ইসরায়েল কী ধরনের বোমা ও কামানের গোলা কোথায় ব্যবহার করেছে, সে বিষয়ে দেশটির সেনাবাহিনী বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে হামলার ভিডিও এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অস্ত্র ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন।

হামাসের সুড়ঙ্গ ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এসব ভারী বোমা ব্যবহার করা হলেও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক উদ্বেগ রয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলায় দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হন। এর পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হয়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলি হামলায় ৭৩ হাজার ২৬৪ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই সংখ্যার মধ্যে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় নিহতরাও অন্তর্ভুক্ত।

এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলকে আরও ৪০ হাজার ভারী বোমা দেওয়ার পরিকল্পনা সামনে আসায় গাজায় বেসামরিক নিরাপত্তা, অস্ত্র ব্যবহারের ধরন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েলকে ৪০ হাজার বোমা দিতে দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

আপডেট সময় : ০১:৩১:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজায় ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানির আশঙ্কায় দুই বছর আগে যে ২ হাজার পাউন্ড ওজনের শক্তিশালী বোমার চালান আটকে দিয়েছিল জো বাইডেন প্রশাসন, এবার সেই ধরনের বোমাই ইসরায়েলকে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবিত ২.৮ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজে থাকছে ৪০ হাজার ভারী বোমা।

মঙ্গলবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই মার্কিন কর্মকর্তা এবং পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত এক ব্যক্তি এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসকে অনানুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।

প্যাকেজটিতে ২০ হাজার এমকে-৮৪ (MK-84) এবং ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ (BLU-117) বোমা রয়েছে। চুক্তির বড় অংশের অর্থ পরিশোধ করা হবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিং’ কর্মসূচির মাধ্যমে। এ ব্যবস্থায় মার্কিন সরকার ইসরায়েলকে অর্থ দেয় এবং সেই অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেই অস্ত্র কেনে দেশটি।

বাইডেনের নিষেধাজ্ঞা, ট্রাম্পের অনুমোদন
২০২৪ সালে গাজায় ভারী বোমা ব্যবহারে ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের আশঙ্কায় বাইডেন প্রশাসন ইসরায়েলের জন্য নির্ধারিত একটি এমকে-৮৪ বোমার চালান আটকে দিয়েছিল।

তবে ২০২৫ সালে ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প প্রশাসন ওই চালানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এর আগে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের শুরুর মাসগুলোতে বাইডেন প্রশাসনও ইসরায়েলকে হাজার হাজার ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা সরবরাহ করেছিল।

এরপর ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের স্বাভাবিক পর্যালোচনা প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে ইসরায়েলের কাছে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়। ওই চালানে ৩৫ হাজার ৫০০-এর বেশি বোমা ছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আরও ৬.৬৭ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়।

কেন এত বিতর্ক ভারী বোমা নিয়ে?
২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমাগুলোর বিভিন্ন সংস্করণ রয়েছে। কিছু বোমা মাটির গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তু ভেদ করতে পারে, আবার কিছু মাটির ওপর বিস্ফোরিত হয়ে বড় পরিসরে ধ্বংস ঘটাতে সক্ষম।

গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এক টন ওজনের বোমা বহুবার ব্যবহারের তথ্য বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ টেকনিশিয়ান ট্রেভর বল ‘দ্য পোস্ট’-কে বলেন, সন্দেহভাজন যোদ্ধাদের অবস্থান করা ভবন ধ্বংস করতে ইসরায়েলি বাহিনী এমকে-৮৪ বোমা ব্যবহার করেছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, একটি এমকে-৮৪ বোমা একটি পুরো ভবন ধসিয়ে দিতে সক্ষম।

ঘনবসতিপূর্ণ গাজায় বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি
গাজায় ইসরায়েল কী ধরনের বোমা ও কামানের গোলা কোথায় ব্যবহার করেছে, সে বিষয়ে দেশটির সেনাবাহিনী বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে হামলার ভিডিও এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অস্ত্র ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন।

হামাসের সুড়ঙ্গ ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এসব ভারী বোমা ব্যবহার করা হলেও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক উদ্বেগ রয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলায় দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হন। এর পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হয়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলি হামলায় ৭৩ হাজার ২৬৪ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই সংখ্যার মধ্যে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় নিহতরাও অন্তর্ভুক্ত।

এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলকে আরও ৪০ হাজার ভারী বোমা দেওয়ার পরিকল্পনা সামনে আসায় গাজায় বেসামরিক নিরাপত্তা, অস্ত্র ব্যবহারের ধরন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে।