ইসলামি দেশ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার সশস্ত্র গোষ্ঠীর
- আপডেট সময় : ০২:২২:৫০ অপরাহ্ন, রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 7
দক্ষিণ থাইল্যান্ডে দুই দশক ধরে চলা বিদ্রোহে হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়ার পরও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির প্রধান মালয়-মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বারিসান রেভোলিউশন ন্যাশনাল (বিআরএন)। সংগঠনটির বলেছে, তাদের লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম চলবে। বিআরএনের শান্তি আলোচনা দলের মুখপাত্র নিকমাতুল্লাহ সেরি এএফপিকে দেয়া এক বিরল সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এই সংগ্রাম শেষ সময় পর্যন্ত চলবে। যতক্ষণ আমাদের লক্ষ্য অর্জিত না হবে, ততক্ষণ আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।’
দক্ষিণ থাইল্যান্ডের মুসলিম-অধ্যুষিত অঞ্চলে স্বাধীন ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিআরএনের সদস্যরা ১৯৬০-এর দশক থেকে লড়াই করে আসছেন। তবে বর্তমান সহিংসতার পর্ব শুরু হয় ২০০৪ সালে। ২০১৩ সাল থেকে মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় বিআরএনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছে থাইল্যান্ড। সর্বশেষ উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয় গত ডিসেম্বরে।
তবে শান্তি আলোচনা বারবার থমকে গেছে। জুলাইয়ে একটি হামলায় পাঁচ সেনা নিহত হওয়ার পর ব্যাংকক আলোচনা স্থগিত করে। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে নিকমাতুল্লাহ বলেন, ‘লক্ষ্য একই রয়েছে। সেটি হলো স্বাধীনতার দাবি।’
দক্ষিণ থাইল্যান্ডের এই অঞ্চল একসময় মালয়-মুসলিম পাতানি সালতানাতের অংশ ছিল। পরে বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ থাইল্যান্ড, তৎকালীন সিয়াম, অঞ্চলটি নিজেদের দখলে নেয়। দক্ষিণাঞ্চলের সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ডিপ সাউথ ওয়াচের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিদ্রোহী, থাই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক মানুষসহ ৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
নিকমাতুল্লাহ জানান, বিআরএন ব্যাংককের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি ব্যবস্থা প্রস্তাব করেছে। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, নির্বাচনের মাধ্যমে নয়, বিআরএনই এই অঞ্চলের ক্ষমতায় আসতে চায়। তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক ক্ষমতা চাই। অর্থাৎ, বিআরএন যেন মালয়েশিয়া সীমান্তের কাছে থাইল্যান্ডের চারটি প্রদেশজুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চল শাসন করতে পারে।’
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামি আইন অনুসারে শরিয়া পুলিশ ও আদালতের মাধ্যমে অঞ্চলটি পরিচালিত হবে। তবে এই ব্যবস্থা শুধু মুসলিমদের জন্য প্রযোজ্য হবে। তিনি বলেন, ‘পাঁচ বা ১০ বছরের একটি অন্তর্বর্তী সময় থাকবে, যে সময়ে আমরা শাসন করব। আমরা জনগণের কাছে তা ফিরিয়ে দেব, যাতে তারা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন করতে পারে।’
তিনি অভিযোগ করেন, জাতিগত মালয় মুসলিমরা তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট বৈষম্যের শিকার এবং কখনোই তারা নিরাপদ বোধ করেনি। তবে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে থাইল্যান্ড। থাইল্যান্ডের প্রধান আলোচক থানুত সুভারনানান্দা আগস্টে স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আলোচনার টেবিলে বিচ্ছিন্নতার বিষয়ে কোনো কথা নেই। বরং যুদ্ধবিরতি অঞ্চল গঠন, চেকপোস্ট কমানো এবং দৈনন্দিন জীবনে বিঘ্ন ঘটানো অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা শিথিল করার বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে।’
২০০৫ সাল থেকে বিশেষ নিরাপত্তা আইনের আওতায় এই অঞ্চল পরিচালিত হচ্ছে। এসব আইনের মাধ্যমে থাই কর্তৃপক্ষ অভিযোগ ছাড়াই সন্দেহভাজনদের আটক এবং কারফিউ জারির ক্ষমতা পায়। এ নিয়ে সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
নিকমাতুল্লাহ জানান, গত দুই দশকে বিআরএনের সামরিক শাখার প্রায় ১ হাজার যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। তবে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ ছিল শেষ অবলম্বন। আমরা সাধারণ জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করি না- আমাদের লক্ষ্য সরকার।’
দক্ষিণ থাইল্যান্ডে জন্ম নেয়া নিকমাতুল্লাহ ১৮ বছর বয়সে বিআরএনে যোগ দেন। গত মাসে সমন্বিতভাবে রাতের বেলায় চালানো বেশ কয়েকটি হামলায় কয়েকজন আহত হন। একই সঙ্গে সরকারি সম্পত্তি ও বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এর আগে জুলাইয়ে একটি চেকপয়েন্টে গুলি ও বোমা হামলায় পাঁচ থাই সেনা নিহত এবং ছয় বেসামরিক মানুষ আহত হন বলে থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল। ওই হামলায় বিআরএন জড়িত ছিল কি না, তা বলতে রাজি হননি নিকমাতুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আমরা ঔপনিবেশিকদের গোয়েন্দা এজেন্ট নই।’
কালো চামড়ার জ্যাকেট ও মুসলিম পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী কালো টুপি ‘সংকক’ পরে সাক্ষাৎকার দেয়া নিকমাতুল্লাহ কোথায় থাকেন, তা স্পষ্ট করেননি। তবে তিনি দাবি করেন, স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিআরএনের সমর্থন রয়েছে এবং সদস্যদের অনুদান থেকেই সংগঠনটির অর্থায়ন হয়।
অস্ত্রের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সেগুলো বিআরএনের শত্রুদের কাছ থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছে। আমরা বিনামূল্যে এগুলো নিয়ে নিই, কারণ তারা এখানে এসে আমাদের ভূমিতে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে।’
নিকমাতুল্লাহ আরও জানান, মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতাকারীর অনুপস্থিতির কারণে শান্তি আলোচনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে অক্টোবর মাসে থাইল্যান্ডের সঙ্গে বিআরএনের ‘ব্যাক-চ্যানেল বা অনানুষ্ঠানিক আলোচনা’ হতে পারে বলেও জানান তিনি।
এএফপিকে দেয়া এক বিবৃতিতে মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহামেদ খালেদ নরদিন বলেন, নতুন একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনাধীন। শান্তিপূর্ণ সমাধানই কুয়ালালামপুরের অগ্রাধিকার। মোহামেদ খালেদ বলেন, ‘মালয়েশিয়া থাইল্যান্ডের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে এবং স্বীকার করে যে এর নাগরিকদের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো থাইল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে।’
যদিও সহিংসতার জন্য কোনো পক্ষকে দায়ী করতে রাজি নন তিনি। এ বিষয়ে বলেন, ‘সহিংসতার পথ বেছে নেয়া বা শান্তি প্রক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করা কোনো পক্ষকে আশ্রয় বা লুকানোর জায়গা হিসেবে মালয়েশিয়াকে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না।’

























বাধ্য হয়েই জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী