ঢাকা ১১:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের কড়া জবাব দিলেন মামদানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:১৯:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 8

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। নেতানিয়াহু জাতিসংঘে মামদানিকে সরাসরি আক্রমণ করার পর তিনি পাল্টা বক্তব্য দেন।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে সমালোচনার জবাব দেন। একইসঙ্গে তিনি মামদানির ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের সমালোচনা করেন এবং নিউইয়র্কে ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নেতানিয়াহু মামদানিকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী মেয়র’ বলেও আখ্যা দেন।

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পর এক বিবৃতিতে মামদানি বলেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা থেকে নজর সরাতে নেতানিয়াহু জাতিসংঘের মঞ্চ ব্যবহার করেছেন। তিনি আরও বলেন, নেতানিয়াহুর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলমান বিতর্কের অবসান হবে না।

মামদানি দীর্ঘদিন ধরে গাজা যুদ্ধ এবং নেতানিয়াহুর সরকারের নীতির সমালোচনা করে আসছেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। মামদানি এর আগে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের নিজস্বভাবে আইসিসির পরোয়ানা কার্যকর করার ক্ষমতা নিয়ে আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

জাতিসংঘের ভাষণে নেতানিয়াহু গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষণের শুরুতেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের একটি অংশ হল থেকে বেরিয়ে যায়।

নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় মামদানি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের হলে উপস্থিত ছিলেন না। এর পরিবর্তে তিনি নিউইয়র্কে ফিলিস্তিনি কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান এবং একটি জলপাইগাছের চারা রোপণ করেন। এ নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন।

নেতানিয়াহু ও মামদানির পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন গাজা যুদ্ধ, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির পরোয়ানা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের কড়া জবাব দিলেন মামদানি

আপডেট সময় : ০৮:১৯:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। নেতানিয়াহু জাতিসংঘে মামদানিকে সরাসরি আক্রমণ করার পর তিনি পাল্টা বক্তব্য দেন।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে সমালোচনার জবাব দেন। একইসঙ্গে তিনি মামদানির ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের সমালোচনা করেন এবং নিউইয়র্কে ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নেতানিয়াহু মামদানিকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী মেয়র’ বলেও আখ্যা দেন।

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পর এক বিবৃতিতে মামদানি বলেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা থেকে নজর সরাতে নেতানিয়াহু জাতিসংঘের মঞ্চ ব্যবহার করেছেন। তিনি আরও বলেন, নেতানিয়াহুর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলমান বিতর্কের অবসান হবে না।

মামদানি দীর্ঘদিন ধরে গাজা যুদ্ধ এবং নেতানিয়াহুর সরকারের নীতির সমালোচনা করে আসছেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। মামদানি এর আগে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের নিজস্বভাবে আইসিসির পরোয়ানা কার্যকর করার ক্ষমতা নিয়ে আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

জাতিসংঘের ভাষণে নেতানিয়াহু গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষণের শুরুতেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের একটি অংশ হল থেকে বেরিয়ে যায়।

নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় মামদানি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের হলে উপস্থিত ছিলেন না। এর পরিবর্তে তিনি নিউইয়র্কে ফিলিস্তিনি কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান এবং একটি জলপাইগাছের চারা রোপণ করেন। এ নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন।

নেতানিয়াহু ও মামদানির পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন গাজা যুদ্ধ, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির পরোয়ানা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।