শরণার্থী নেওয়ার কর্মসূচি চালু করছে যুক্তরাজ্য

- আপডেট সময় : ১২:৫৩:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 0
যুক্তরাজ্যে শরণার্থীদের পুনর্বাসনের জন্য বন্ধ থাকা একটি কর্মসূচি আবার চালু করছে দেশটির সরকার। নিরাপদ ও বৈধ পথে যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের যুক্তরাজ্যে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়াই এর লক্ষ্য। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন করে চালু হওয়া কর্মসূচিতে শুরুতে কয়েকশ শরণার্থীকে নেওয়া হবে এবং এদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ হতে পারেন আফগান নারী ও কিশোরী এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থী।
সোমবার লিভারপুলে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, অভিবাসন ব্যবস্থায় ন্যায্যতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে। একই সঙ্গে যুদ্ধ, নিপীড়ন ও সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা মানুষের জন্য নিরাপদ ও বৈধ পথ চালু রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। নতুন কর্মসূচির আওতায় প্রথম শরণার্থীদের চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাজ্যে আসার কথা রয়েছে।
নতুন পরিকল্পনাটি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং ইন্টারন্যাশনাল রিফিউজি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্টের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। ইউএনএইচসিআর বিভিন্ন দেশে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থীদের শনাক্ত ও মূল্যায়নের মাধ্যমে পুনর্বাসনের জন্য সুপারিশ করবে। এর আগে যুক্তরাজ্যের আফগানিস্তানভিত্তিক একটি পুনর্বাসন পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হলো।
সরকার জানিয়েছে, নতুন কর্মসূচির পাশাপাশি শরণার্থীদের জন্য আরও তিনটি নিরাপদ ও বৈধ পথ চালু করা হচ্ছে। এসব ব্যবস্থায় স্থানীয় সম্প্রদায়, বিশ্ববিদ্যালয় ও নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান শরণার্থীদের যুক্তরাজ্যে আসার ক্ষেত্রে পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারবে। স্থানীয় সম্প্রদায় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবাসন, সমাজে একীভূত হওয়া এবং কাজ খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে।
অক্টোবর থেকে দাতব্য ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো সম্প্রদায়ভিত্তিক পৃষ্ঠপোষক হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবে। এই ব্যবস্থায় প্রথম শরণার্থীরা আগামী বছরের শরতে যুক্তরাজ্যে আসতে পারেন। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শরণার্থী শিক্ষার্থীদের পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারবে। কর্মসংস্থানভিত্তিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের বসন্তে এবং ওই পথেও পরবর্তীতে শরণার্থীদের যুক্তরাজ্যে আসার সুযোগ তৈরি হবে।
যুক্তরাজ্য সরকার বলছে, নতুন পুনর্বাসন কর্মসূচি ও তিনটি পৃষ্ঠপোষকতা পথ মিলিয়ে শুরুতে শরণার্থীর সংখ্যা কয়েকশ হবে। পরে অনিয়মিত অভিবাসন কমার সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা বছরে কয়েক হাজারে পৌঁছাতে পারে। তবে প্রতি বছর মোট কতজনকে এসব বৈধ পথে নেওয়া হবে, তার জন্য একটি নির্দিষ্ট সীমা বা সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। সরকার বলছে, এর মাধ্যমে একদিকে ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থীদের জন্য বৈধ পথ রাখা হবে, অন্যদিকে অনিয়মিত পথে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ নিরুৎসাহিত করা হবে।
শাবানা মাহমুদ বলেন, যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা মানুষের প্রতি ব্রিটিশ জনগণের মানবিক দায়িত্ববোধ এখনো রয়েছে। তবে তার মতে, শরণার্থী গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে এবং নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। যেসব সম্প্রদায় নতুন শরণার্থীদের গ্রহণ করবে, তাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও সক্ষমতাও থাকতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই উদ্যোগের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য সরকার অভিবাসন ব্যবস্থায় বেশ কিছু কঠোর পরিবর্তনও আনছে। বৈধ পথে আসা কিছু অভিবাসীর স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতির জন্য অপেক্ষার সময় বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। লেবার পার্টির ভেতর থেকেও এসব পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। হাউজিং সেক্রেটারি অ্যাঞ্জেলা রেনার সম্প্রতি বলেছেন, কিছু প্রস্তাবের কারণে অভিবাসীদের জন্য আগের নিয়মের তুলনায় নতুন বাস্তবতা তৈরি হতে পারে এবং তিনি এ নিয়ে উদ্বিগ্ন।
সরকারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া ১২ মাসে যুক্তরাজ্যের নিরাপদ ও বৈধ মানবিক পথগুলোতে মোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৩০টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই ছিল যুক্তরাজ্যে আগে থেকেই অবস্থানরত মানুষের থাকার অনুমতি বাড়ানোর বিষয়। একই সময়ে শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে যুক্তরাজ্যে নেওয়ার কার্যক্রমও অব্যাহত ছিল।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, নতুন পুনর্বাসন নীতির আওতায় যারা আসবেন, তাদের পাঁচ বছরের মধ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের পথে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। সরকার এটিকে অনিয়মিত পথে ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার তুলনায় একটি নিয়ন্ত্রিত ও বৈধ বিকল্প হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে সরকার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং অনিয়মিত অভিবাসন কমানোর পদক্ষেপও চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। সূত্র: যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, রয়টার্স























