ঢাকা ০১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সব দেশের জন্য বাড়তি অর্থ, ১৫ অক্টোবর সিদ্ধান্ত ফিফার

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৪১:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 0

ফিফার সদস্য সব দেশের জন্য বাড়তি অর্থ বরাদ্দের দাবিতে পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউয়েফা এবং আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের সংস্থা কনকাকাফের পক্ষ ফিফার রিজার্ভ থেকে সদস্য দেশগুলোকে সব মিলিয়ে ২১০ কোটি ডলার দেওয়ার দাবি জানানোর পর এসেছে এই উদ্যোগ।

তবে বাড়তি অর্থের পরিমাণ কত হবে, সে বিষয়ে এখনই কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি ইনফান্তিনো। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী এক চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি নিয়ে করা মূল্যায়ন আগামী ১৫ অক্টোবর ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। আর্থিক যাচাই ও আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পরই কেবল অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চিঠিতে ইনফান্তিনো লিখেছেন, মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো অঙ্ককেই সদস্য দেশগুলোর জন্য অনুমোদিত অর্থ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

প্রতি সদস্য দেশকে অন্তত ১ কোটি ডলারের দাবি
চলতি মাসে উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিন ও কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টাগলিয়ানি ফিফার ২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যেককে ২০২৭–৩০ চক্রে অন্তত ১০ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এই অর্থ ফিফার বিদ্যমান উন্নয়ন তহবিলের অতিরিক্ত হিসেবে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তারা একই সঙ্গে ফিফার রিজার্ভের স্বতন্ত্র পর্যালোচনারও দাবি জানান।

সেফেরিন ও মন্টাগলিয়ানির ১৮ সেপ্টেম্বরের চিঠিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ফিফার রিজার্ভ প্রায় ৬০০ কোটি ডলারে দাড়াতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত অর্থ বিতরণের পরও পরবর্তী চক্রজুড়ে ফিফার রিজার্ভ ১৫০ কোটি ডলারের বেশি রাখা সম্ভব হবে বলে তারা হিসাব দেন।

তাদের প্রশ্ন ছিল, ফিফার অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহের জন্য প্রস্তাবিত বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনার আদৌ প্রয়োজন ছিল কি না।

বাতিল বিনিয়োগ পরিকল্পনার পক্ষে ইনফান্তিনো
ফিফার ‘ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রকল্পের মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা গত জুলাইয়ে বাতিল করা হয়। ইউয়েফা, কনকাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনসহ কয়েকটি কনফেডারেশন পর্যাপ্ত পরামর্শ না করার অভিযোগ তুলে ওই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছিল।

ইনফান্তিনো অবশ্য তার চিঠিতে পরিকল্পনাটির পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল ফিফার বিদ্যমান সম্পদ থেকে দেওয়া অর্থের বিকল্প তৈরি করা নয়; বরং এর বাইরে আরও অর্থ সংগ্রহ করে ফুটবলে বিনিয়োগ বাড়ানো।

ইনফান্তিনোর ভাষায়, ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা বিদ্যমান অর্থায়নের ‘অতিরিক্ত’ অর্থ হিসেবে কাজ করত।

প্রকল্পটি বাতিল হওয়ার পর থেকেই ফিফার পরিচালনব্যবস্থা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে কনফেডারেশনগুলোর মধ্যে অসন্তোষ আরও বেড়েছে।

কীভাবে হবে বাড়তি অর্থ বিতরণ, সিদ্ধান্ত নেবে কাউন্সিল
ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, কনফেডারেশনগুলোর প্রস্তাব পাওয়ার আগেই ফিফার প্রশাসন সদস্য দেশগুলোর জন্য আরও উন্নয়ন ও সংহতি তহবিল দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছিল।

এখন ছয়টি মহাদেশীয় কনফেডারেশনের সভাপতিদের তাদের আর্থিক হিসাব, বিভিন্ন অনুমান ও সংশ্লিষ্ট তথ্য ফিফার মহাসচিবের কাছে জমা দিতে বলেছেন তিনি। ফিফার সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো এসব হিসাব ও অনুমানের যথার্থতা যাচাই করবে।

আগামী ১৫ অক্টোবর ফিফা কাউন্সিলকে কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে- অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ ও বিতরণের সময়সূচি, ফিফার আর্থিক দায়বদ্ধতা ও স্বাধীনতা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় রিজার্ভের পরিমাণ এবং অর্থ পাওয়ার যোগ্যতা, প্রতিবেদন ও নিরীক্ষার শর্ত।

কোনো কোনো কনফেডারেশন যদি কাঠামোগত ও প্রমাণযোগ্য অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে পড়ে, তাদের জন্য সহায়তার বিষয়টিও মূল্যায়নে বিবেচনা করা হবে।

পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া গেলে ১৫ অক্টোবরই কাউন্সিলের কাছে সুপারিশ দেওয়ার কথা। তা সম্ভব না হলে, কাজ শেষ করার জন্য ‘সবচেয়ে কম সময়ের যুক্তিসংগত’ সময়সীমা নির্ধারণ করতে কাউন্সিলকে বলা হবে।

‘যতটা দায়িত্বশীলভাবে দেওয়া সম্ভব, ততটাই’
বাড়তি অর্থের কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক আগেভাগে ঠিক করে দিতে চান না বলে জানিয়েছেন ইনফান্তিনো। তবে তিনি বলেছেন, ফিফার নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায়িত্বশীলভাবে যতটা বেশি অর্থ দেওয়া সম্ভব, তিনি ততটাই দেওয়ার পক্ষে।

তিনি বলেন, অর্থ বিতরণ হতে হবে সবার জন্য ন্যায্য এবং স্বচ্ছ ও নিরীক্ষাযোগ্য ব্যবস্থার আওতায়।

ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করতে কনফেডারেশনগুলোর কাছ থেকে প্রস্তাব চাওয়ার কথাও আবার জানিয়েছেন ইনফান্তিনো। একই সঙ্গে তিনি তাদের ফিফার প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় নেওয়া সিদ্ধান্তকে সম্মান করার আহ্বান জানান।

চিঠিতে তিনি লিখেছেন, মতবিরোধ না থাকাই আস্থা নয়। বরং মতবিরোধের মধ্যেও সরাসরি আলোচনায় বসা, তথ্য ও বাস্তবতার আলোকে প্রস্তাব যাচাই করা এবং প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় নেওয়া সিদ্ধান্তকে সম্মান করাই আস্থার প্রমাণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

সব দেশের জন্য বাড়তি অর্থ, ১৫ অক্টোবর সিদ্ধান্ত ফিফার

আপডেট সময় : ১২:৪১:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফিফার সদস্য সব দেশের জন্য বাড়তি অর্থ বরাদ্দের দাবিতে পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউয়েফা এবং আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের সংস্থা কনকাকাফের পক্ষ ফিফার রিজার্ভ থেকে সদস্য দেশগুলোকে সব মিলিয়ে ২১০ কোটি ডলার দেওয়ার দাবি জানানোর পর এসেছে এই উদ্যোগ।

তবে বাড়তি অর্থের পরিমাণ কত হবে, সে বিষয়ে এখনই কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি ইনফান্তিনো। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী এক চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি নিয়ে করা মূল্যায়ন আগামী ১৫ অক্টোবর ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। আর্থিক যাচাই ও আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পরই কেবল অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চিঠিতে ইনফান্তিনো লিখেছেন, মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো অঙ্ককেই সদস্য দেশগুলোর জন্য অনুমোদিত অর্থ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

প্রতি সদস্য দেশকে অন্তত ১ কোটি ডলারের দাবি
চলতি মাসে উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিন ও কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টাগলিয়ানি ফিফার ২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যেককে ২০২৭–৩০ চক্রে অন্তত ১০ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এই অর্থ ফিফার বিদ্যমান উন্নয়ন তহবিলের অতিরিক্ত হিসেবে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তারা একই সঙ্গে ফিফার রিজার্ভের স্বতন্ত্র পর্যালোচনারও দাবি জানান।

সেফেরিন ও মন্টাগলিয়ানির ১৮ সেপ্টেম্বরের চিঠিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ফিফার রিজার্ভ প্রায় ৬০০ কোটি ডলারে দাড়াতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত অর্থ বিতরণের পরও পরবর্তী চক্রজুড়ে ফিফার রিজার্ভ ১৫০ কোটি ডলারের বেশি রাখা সম্ভব হবে বলে তারা হিসাব দেন।

তাদের প্রশ্ন ছিল, ফিফার অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহের জন্য প্রস্তাবিত বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনার আদৌ প্রয়োজন ছিল কি না।

বাতিল বিনিয়োগ পরিকল্পনার পক্ষে ইনফান্তিনো
ফিফার ‘ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রকল্পের মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা গত জুলাইয়ে বাতিল করা হয়। ইউয়েফা, কনকাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনসহ কয়েকটি কনফেডারেশন পর্যাপ্ত পরামর্শ না করার অভিযোগ তুলে ওই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছিল।

ইনফান্তিনো অবশ্য তার চিঠিতে পরিকল্পনাটির পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল ফিফার বিদ্যমান সম্পদ থেকে দেওয়া অর্থের বিকল্প তৈরি করা নয়; বরং এর বাইরে আরও অর্থ সংগ্রহ করে ফুটবলে বিনিয়োগ বাড়ানো।

ইনফান্তিনোর ভাষায়, ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা বিদ্যমান অর্থায়নের ‘অতিরিক্ত’ অর্থ হিসেবে কাজ করত।

প্রকল্পটি বাতিল হওয়ার পর থেকেই ফিফার পরিচালনব্যবস্থা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে কনফেডারেশনগুলোর মধ্যে অসন্তোষ আরও বেড়েছে।

কীভাবে হবে বাড়তি অর্থ বিতরণ, সিদ্ধান্ত নেবে কাউন্সিল
ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, কনফেডারেশনগুলোর প্রস্তাব পাওয়ার আগেই ফিফার প্রশাসন সদস্য দেশগুলোর জন্য আরও উন্নয়ন ও সংহতি তহবিল দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছিল।

এখন ছয়টি মহাদেশীয় কনফেডারেশনের সভাপতিদের তাদের আর্থিক হিসাব, বিভিন্ন অনুমান ও সংশ্লিষ্ট তথ্য ফিফার মহাসচিবের কাছে জমা দিতে বলেছেন তিনি। ফিফার সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো এসব হিসাব ও অনুমানের যথার্থতা যাচাই করবে।

আগামী ১৫ অক্টোবর ফিফা কাউন্সিলকে কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে- অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ ও বিতরণের সময়সূচি, ফিফার আর্থিক দায়বদ্ধতা ও স্বাধীনতা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় রিজার্ভের পরিমাণ এবং অর্থ পাওয়ার যোগ্যতা, প্রতিবেদন ও নিরীক্ষার শর্ত।

কোনো কোনো কনফেডারেশন যদি কাঠামোগত ও প্রমাণযোগ্য অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে পড়ে, তাদের জন্য সহায়তার বিষয়টিও মূল্যায়নে বিবেচনা করা হবে।

পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া গেলে ১৫ অক্টোবরই কাউন্সিলের কাছে সুপারিশ দেওয়ার কথা। তা সম্ভব না হলে, কাজ শেষ করার জন্য ‘সবচেয়ে কম সময়ের যুক্তিসংগত’ সময়সীমা নির্ধারণ করতে কাউন্সিলকে বলা হবে।

‘যতটা দায়িত্বশীলভাবে দেওয়া সম্ভব, ততটাই’
বাড়তি অর্থের কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক আগেভাগে ঠিক করে দিতে চান না বলে জানিয়েছেন ইনফান্তিনো। তবে তিনি বলেছেন, ফিফার নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায়িত্বশীলভাবে যতটা বেশি অর্থ দেওয়া সম্ভব, তিনি ততটাই দেওয়ার পক্ষে।

তিনি বলেন, অর্থ বিতরণ হতে হবে সবার জন্য ন্যায্য এবং স্বচ্ছ ও নিরীক্ষাযোগ্য ব্যবস্থার আওতায়।

ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করতে কনফেডারেশনগুলোর কাছ থেকে প্রস্তাব চাওয়ার কথাও আবার জানিয়েছেন ইনফান্তিনো। একই সঙ্গে তিনি তাদের ফিফার প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় নেওয়া সিদ্ধান্তকে সম্মান করার আহ্বান জানান।

চিঠিতে তিনি লিখেছেন, মতবিরোধ না থাকাই আস্থা নয়। বরং মতবিরোধের মধ্যেও সরাসরি আলোচনায় বসা, তথ্য ও বাস্তবতার আলোকে প্রস্তাব যাচাই করা এবং প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় নেওয়া সিদ্ধান্তকে সম্মান করাই আস্থার প্রমাণ।