ঢাকা ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিন্ডিকেট ধরতে সেপ্টেম্বরের এলপিজি বিক্রির তথ্য চেয়েছে বিইআরসি

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৫১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0

বাড়তি দামেও মিলছে না এলপি গ্যাস, বাড়তি মুনাফার জন্য আমদানিকারকরা বিক্রি বন্ধ করে কৃত্রিম সংকটের কারণ মনে করা হচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে সেপ্টেম্বর মাসের আমদানি ও বিক্রির তথ্য চেয়ে ১২ আমদানিকারককে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

শনিবার (৩ অক্টোবর) ছুটির দিনে ইস্যু করা চিঠিতে একদিন পরেই (৪ অক্টোবর) হিসাব জমা দিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে প্রাপ্ত আমদানির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এলপিজি বিক্রির তথ্য চাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, আগামীকাল (৪ অক্টোবর) তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। এরপর পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে এলপি গ্যাসের সংকট শুরু হয়েছে। কৃত্রিম সংকটের সঙ্গে ইস্টকোস্ট গ্রুপ, বিএম এলপিজি, পেট্রোম্যাক্স, যমুনা স্পেসটেক জেভি লিমিটেডের নাম পাওয়া যাচ্ছে। পরিবেশক, খুচরা বিক্রেতা এবং গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে অবৈধভাবে মজুতের বিষয়টি।

তারই ধারাবাহিকতায় এলপিজির আমদানি ও বিক্রির তথ্য চাওয়া হয়েছে ১২ আমদানিকারককে। এরমধ্যে ইস্টকোস্ট গ্রুপ, বিএম এলপিজি, পেট্রোম্যাক্স, যমুনা স্পেসটেক জেভি লিমিটেড রয়েছে। বিইআরসির ওই চিঠি ইস্যুর বিষয়টি আরও আগে করা গেলে এই সংকট কিছুটা হলেও এড়ানো যেত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা দাবি করেছেন, শেষ সময়ে হলেও চিঠি ইস্যু করে কিছুটা কাজ এগিয়ে নিয়েছে। তারা যদি আন্তরিকতার সঙ্গে যাচাই এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারেন, তাহলে ভবিষ্যতে ভোক্তাদের জিম্মি করার সাহস কেউ দেখাবে না।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, শুধু বিক্রি ও মজুতের তথ্য নিলেও কৃত্রিম সংকট ধরা পড়বে এমনটা ভাবার সুযোগ নেই। অপরাধীরা ভুয়া তথ্য দিতে পারে, সরকার এবং বিইআরসি যদি সত্যি আন্তরিক হন, তাহলে বিক্রির তথ্যের সঙ্গে ব্যাংক হিসাবের তথ্য মিলিয়ে দেখলেই প্রকৃত সত্য উঠে আসবে। এমনকি বাড়তি দামে বিক্রির বিষয়টিও ধরে ফেলা সম্ভব।

বিইআরসির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, তথ্য পাওয়ার পর অবশ্যই যাচাই-বাছাই করা হবে। এখানে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিষয়টি এমন না একটি হিসাব জমা দেবেন আর শেষ হয়ে গেল। কারো বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।

এলপি গ্যাস নিয়ে বৈঠকের পর বৈঠকে চলছে দায় অস্বীকারের খেলা, কিন্তু বাজারের অরাজকতা থামছেই না। অনেক এলাকায় এলপিজির দেখা মিলছে না, যেখানে পাওয়া যাচ্ছে ১৫৮৫ টাকার গ্যাসে গুনতে হচ্ছে ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকা। শনিবারও (৩ অক্টোবর) আমদানিকারকরা মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দাবি করেন, সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে তাদের দিক থেকে। কারসাজি হয়ে থাকলে পরিবেশক এবং খুচরা বিক্রেতারা করছেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

অন্যদিকে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তাহের বলেছেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে সরবরাহ ৮০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে আমদানিকারকরা। আর ২৫ সেপ্টেম্বরের পর পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। ঘোড়াশালে ওমেরা এলপিজির ডিপোতে আমার ট্রাক গিয়ে ৭ দিন ধরে বসে আছে গ্যাস দিচ্ছে না। আমার মতো আরও শতশত ট্রাক লাইন দিয়ে বসে আছে।

রাষ্ট্রীয় একটি গোয়েন্দা বাহিনীর রিপোর্টে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার ঊর্ধ্বমুখী (টনপ্রতি ৬৪ ডলার) দেখে ৫টি কোম্পানি ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিক্রি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। নতুন দামে বিক্রি করার জন্য হাজার হাজার টন এলপিজি ধরে রেখেছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, আগস্টে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার টন, আর সেপ্টেম্বর মাসে এসেছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন। সে কারণে বাজারে ঘাটতি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

শুধু সরবরাহ কমানো নয়, সেপ্টেম্বর মাসে বিইআরসি ঘোষিত দরের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির লিখিত অভিযোগ করেছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। সংগঠনটি ২১ সেপ্টেম্বর বিইআরসি চেয়ারম্যান বরাবরে দেওয়া অভিযোগে বলেছে, পরিবেশকদের জন্য বিইআরসি নির্ধারিত দর (১২ কেজি) ১৪৭৫ টাকা হলেও ১৫৫০ টাকা থেকে ১৭২০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। যে কারণে বিইআরসি নির্ধারিত দর ১৫৮৫ টাকা দরে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

চিঠিতে পরিস্থিতি বিবেচনায় জরুরি পদক্ষেপ চেয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি মোঃ সেলিম খান।

পরিবেশক, খুচরা বিক্রেতা এমনকি গোয়েন্দা তথ্যেও এলপিজি অবৈধ মজুতের বিষয়টি সামনে এলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। এমনকি জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ঘোষণা দিলেও বাজারে তার কোনো প্রভাব দৃশ্যমান নয়। আমদানিকারকরা রোববারের (৪ অক্টোবর) অপেক্ষায় রয়েছে, ওইদিন আন্তর্জাতিক বাজার দরের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন দর ঘোষণা করবে বিইআরসি। ততক্ষণ পর্যন্ত গা-বাঁচিয়ে চলতে চাইছে আমদানিকারকরা। বলা যায় কৌশলে তারা শতভাগ সফলতার পথেই রয়েছে।

এনবিআর এর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে সর্বোচ্চ এলপিজি আমদানি করেছে ইউনাইটেড গ্রুপ ৩৫ হাজার টন, পরেই রয়েছে যমুনা এলপিজি ৩০ হাজার টন, বিএম এলপিজি ২১ হাজার ৮০০ টন, ওমেরা ১৮ হাজার টন, পেট্রোম্যাক্স ১৩ হাজার টন, ফ্রেস এলপিজি ১৩ হাজার ৫০০ টন। ১২টি কোম্পানি সেপ্টেম্বর মাসে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছে। অর্ধেক আটকে রাখলেও প্রায় ৮০ হাজার টন। টন প্রতি ১০০ ডলার মুনাফা করলেও শত কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য। যা রোববার দাম বাড়লেই আর ধরার কোনো সুযোগ থাকছে না।

২০২১ সালে আমদানিকারকদের সুপারিশে মাইনাস ওয়ান অর্থাৎ আগের মাসের দামে পরবর্তী মাসে বিক্রির সিদ্ধান্ত থাকলেও যখনই দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে তখনই লোয়াব বেঁকে বসে, তখন নিজেদের থেকে দাম বাড়িয়ে আদায় করতে থাকে। এতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে বাধ্য হয়ে বিইআরসি বর্তমান মাস অর্থাৎ প্রতি মাসের ১ তারিখে সৌদি সিপি পাওয়ার পর দর সমন্বয় করে আসছে। ১ তারিখে নতুন দাম পেয়েছে সে হিসেবে রোববার (৪ অক্টোবর) দাম ঘোষণা করার কথা।

নিউজটি শেয়ার করুন

সিন্ডিকেট ধরতে সেপ্টেম্বরের এলপিজি বিক্রির তথ্য চেয়েছে বিইআরসি

আপডেট সময় : ১০:৫১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

বাড়তি দামেও মিলছে না এলপি গ্যাস, বাড়তি মুনাফার জন্য আমদানিকারকরা বিক্রি বন্ধ করে কৃত্রিম সংকটের কারণ মনে করা হচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে সেপ্টেম্বর মাসের আমদানি ও বিক্রির তথ্য চেয়ে ১২ আমদানিকারককে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

শনিবার (৩ অক্টোবর) ছুটির দিনে ইস্যু করা চিঠিতে একদিন পরেই (৪ অক্টোবর) হিসাব জমা দিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে প্রাপ্ত আমদানির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এলপিজি বিক্রির তথ্য চাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, আগামীকাল (৪ অক্টোবর) তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। এরপর পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে এলপি গ্যাসের সংকট শুরু হয়েছে। কৃত্রিম সংকটের সঙ্গে ইস্টকোস্ট গ্রুপ, বিএম এলপিজি, পেট্রোম্যাক্স, যমুনা স্পেসটেক জেভি লিমিটেডের নাম পাওয়া যাচ্ছে। পরিবেশক, খুচরা বিক্রেতা এবং গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে অবৈধভাবে মজুতের বিষয়টি।

তারই ধারাবাহিকতায় এলপিজির আমদানি ও বিক্রির তথ্য চাওয়া হয়েছে ১২ আমদানিকারককে। এরমধ্যে ইস্টকোস্ট গ্রুপ, বিএম এলপিজি, পেট্রোম্যাক্স, যমুনা স্পেসটেক জেভি লিমিটেড রয়েছে। বিইআরসির ওই চিঠি ইস্যুর বিষয়টি আরও আগে করা গেলে এই সংকট কিছুটা হলেও এড়ানো যেত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা দাবি করেছেন, শেষ সময়ে হলেও চিঠি ইস্যু করে কিছুটা কাজ এগিয়ে নিয়েছে। তারা যদি আন্তরিকতার সঙ্গে যাচাই এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারেন, তাহলে ভবিষ্যতে ভোক্তাদের জিম্মি করার সাহস কেউ দেখাবে না।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, শুধু বিক্রি ও মজুতের তথ্য নিলেও কৃত্রিম সংকট ধরা পড়বে এমনটা ভাবার সুযোগ নেই। অপরাধীরা ভুয়া তথ্য দিতে পারে, সরকার এবং বিইআরসি যদি সত্যি আন্তরিক হন, তাহলে বিক্রির তথ্যের সঙ্গে ব্যাংক হিসাবের তথ্য মিলিয়ে দেখলেই প্রকৃত সত্য উঠে আসবে। এমনকি বাড়তি দামে বিক্রির বিষয়টিও ধরে ফেলা সম্ভব।

বিইআরসির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, তথ্য পাওয়ার পর অবশ্যই যাচাই-বাছাই করা হবে। এখানে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিষয়টি এমন না একটি হিসাব জমা দেবেন আর শেষ হয়ে গেল। কারো বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।

এলপি গ্যাস নিয়ে বৈঠকের পর বৈঠকে চলছে দায় অস্বীকারের খেলা, কিন্তু বাজারের অরাজকতা থামছেই না। অনেক এলাকায় এলপিজির দেখা মিলছে না, যেখানে পাওয়া যাচ্ছে ১৫৮৫ টাকার গ্যাসে গুনতে হচ্ছে ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকা। শনিবারও (৩ অক্টোবর) আমদানিকারকরা মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দাবি করেন, সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে তাদের দিক থেকে। কারসাজি হয়ে থাকলে পরিবেশক এবং খুচরা বিক্রেতারা করছেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

অন্যদিকে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তাহের বলেছেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে সরবরাহ ৮০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে আমদানিকারকরা। আর ২৫ সেপ্টেম্বরের পর পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। ঘোড়াশালে ওমেরা এলপিজির ডিপোতে আমার ট্রাক গিয়ে ৭ দিন ধরে বসে আছে গ্যাস দিচ্ছে না। আমার মতো আরও শতশত ট্রাক লাইন দিয়ে বসে আছে।

রাষ্ট্রীয় একটি গোয়েন্দা বাহিনীর রিপোর্টে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার ঊর্ধ্বমুখী (টনপ্রতি ৬৪ ডলার) দেখে ৫টি কোম্পানি ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিক্রি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। নতুন দামে বিক্রি করার জন্য হাজার হাজার টন এলপিজি ধরে রেখেছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, আগস্টে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার টন, আর সেপ্টেম্বর মাসে এসেছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন। সে কারণে বাজারে ঘাটতি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

শুধু সরবরাহ কমানো নয়, সেপ্টেম্বর মাসে বিইআরসি ঘোষিত দরের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির লিখিত অভিযোগ করেছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। সংগঠনটি ২১ সেপ্টেম্বর বিইআরসি চেয়ারম্যান বরাবরে দেওয়া অভিযোগে বলেছে, পরিবেশকদের জন্য বিইআরসি নির্ধারিত দর (১২ কেজি) ১৪৭৫ টাকা হলেও ১৫৫০ টাকা থেকে ১৭২০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। যে কারণে বিইআরসি নির্ধারিত দর ১৫৮৫ টাকা দরে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

চিঠিতে পরিস্থিতি বিবেচনায় জরুরি পদক্ষেপ চেয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি মোঃ সেলিম খান।

পরিবেশক, খুচরা বিক্রেতা এমনকি গোয়েন্দা তথ্যেও এলপিজি অবৈধ মজুতের বিষয়টি সামনে এলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। এমনকি জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ঘোষণা দিলেও বাজারে তার কোনো প্রভাব দৃশ্যমান নয়। আমদানিকারকরা রোববারের (৪ অক্টোবর) অপেক্ষায় রয়েছে, ওইদিন আন্তর্জাতিক বাজার দরের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন দর ঘোষণা করবে বিইআরসি। ততক্ষণ পর্যন্ত গা-বাঁচিয়ে চলতে চাইছে আমদানিকারকরা। বলা যায় কৌশলে তারা শতভাগ সফলতার পথেই রয়েছে।

এনবিআর এর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে সর্বোচ্চ এলপিজি আমদানি করেছে ইউনাইটেড গ্রুপ ৩৫ হাজার টন, পরেই রয়েছে যমুনা এলপিজি ৩০ হাজার টন, বিএম এলপিজি ২১ হাজার ৮০০ টন, ওমেরা ১৮ হাজার টন, পেট্রোম্যাক্স ১৩ হাজার টন, ফ্রেস এলপিজি ১৩ হাজার ৫০০ টন। ১২টি কোম্পানি সেপ্টেম্বর মাসে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছে। অর্ধেক আটকে রাখলেও প্রায় ৮০ হাজার টন। টন প্রতি ১০০ ডলার মুনাফা করলেও শত কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য। যা রোববার দাম বাড়লেই আর ধরার কোনো সুযোগ থাকছে না।

২০২১ সালে আমদানিকারকদের সুপারিশে মাইনাস ওয়ান অর্থাৎ আগের মাসের দামে পরবর্তী মাসে বিক্রির সিদ্ধান্ত থাকলেও যখনই দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে তখনই লোয়াব বেঁকে বসে, তখন নিজেদের থেকে দাম বাড়িয়ে আদায় করতে থাকে। এতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে বাধ্য হয়ে বিইআরসি বর্তমান মাস অর্থাৎ প্রতি মাসের ১ তারিখে সৌদি সিপি পাওয়ার পর দর সমন্বয় করে আসছে। ১ তারিখে নতুন দাম পেয়েছে সে হিসেবে রোববার (৪ অক্টোবর) দাম ঘোষণা করার কথা।