‘আইনি অধিকারের মধ্যে কাউকে হত্যার অধিকার পুলিশের আছে’

- আপডেট সময় : ০২:০৯:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / 3
‘আইনি অধিকারের মধ্যে কাউকে হত্যা করার অধিকার পুলিশের আছে, যদি সেই ধরনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়’- এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘পুলিশের বল প্রয়োগ করার আইনি অধিকার আছে। আইনি অধিকারের মধ্যে কাউকে হত্যা করার অধিকার পুলিশের আছে, যদি সেই ধরনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। যে কথাটা বারবার বলছি, আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে এবং প্রপোশনেট বল প্রয়োগের মাধ্যমে।’
তিনি বলেন, একটা জিনিস একটু আমরা মাথায় রাখবো, সেটা হচ্ছে কোনো একটা অস্থিরতা বা আনরেস্ট সরকার কীভাবে হ্যান্ডেল করবে? কীভাবে সেটাকে ডিল করবে?
সরকার আগের মতো আন্দোলন দমনের পথে যেতে চায় না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের পুলিশ আর কখনো হাসিনার পুলিশের মতো হবে না। আমি নাগরিক হিসেবে বলছি, সরকারে থাকা মানুষ হিসেবে বলছি না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোথাও কোথাও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বল প্রয়োগের ঘটনা দেখা গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনারা হয়তো দেখেছেন, কোথাও কোথাও ডিসপ্রপোশনেট বল প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, যে কথাটা বলতে চেয়েছি, আগে যেভাবে এগুলো দমন করার চেষ্টা করা হয়েছে এই সরকার সেভাবে চাচ্ছে না। কারণ দিনের শেষে আমরা কিশোর গ্যাং বলি বা অন্য কাউকে বলি না কেন, এরা এই রাষ্ট্রের নাগরিক।
আন্দোলনকারীদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য আছে এবং সেটা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বলেছেন, এটা কীভাবে হচ্ছে? এর সবকিছুই সেই বাহিনীর কাছে আছে। কিন্তু আমরা এটাকে এমনভাবে করতে চাই যেন জনগণের উপরে খুব কম ভয়-ক্ষতি হয়, খুব কম সমস্যা হয়।
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে শ্রমিকদের জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার আগেই নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।
তিনি বলেন, আমরা আশা করি খুব অল্প সময়ের মধ্যে এটা শেষ হবে, কারণ প্রাথমিকভাবে কিন্তু শ্রমিকরাও মাঠে নেমেছিলেন, কারণ তাদের কিছু ন্যায্য দাবি ছিল। এখন যেহেতু কমিশন তৈরি হয়েছে, আমরা আশা করি তাদের আমরা বোঝাতে পারব।
শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অন্য কেউ অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে কি না, এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের পোশাকশ্রমিকরা মাঠে নেমেছেন, সেটার ভেতরে ঢুকে অন্যরা এ কাজটি করছে। তারা না নামলে এ সমস্যা হয় না।
সাম্প্রতিক নাশকতার ঘটনা প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এসব ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশ্রমিকদের সম্পৃক্ততা থাকার কথা নয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিনি বলেছেন, এসব ঘটনা সীমান্তের ওপার থেকে ঘটানো হয়েছে। তবে এর সঙ্গে ডিসেম্বর মাসের কোনো যোগসূত্র রয়েছে বলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন না।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ দেশে তেমন কিছু করতে পারবে বলে সরকার মনে করে না। তবে দলটির কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ রয়েছে, যা ক্ষমতায় থাকাকালে লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সেই অর্থ ব্যয় করে বিভিন্ন জায়গায় নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা তারা করতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার কথা বলেছেন। নিশ্চয়ই তার কাছে এ বিষয়ে তথ্য রয়েছে। তবে এর মাধ্যমে ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পথ তৈরি করা হচ্ছে, সরকার বিষয়টিকে সেভাবে দেখছে না।
তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা শুধু ডিসেম্বরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এ সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা বিভিন্ন সময়ে চলতে পারে। এ প্রসঙ্গে ১৯৯১ সালে সংসদে দেওয়া শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেন তিনি। ওই সময় নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তিনি সরকারকে একদিনও শান্তিতে থাকতে দেবেন না।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আর এখন তাকে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিয়ে দেশ ছাড়তে হয়েছে। তাই তিনি বর্তমান সরকারকে শান্তিতে থাকতে দেবেন না বলে মনে করে সরকার। তবে এ ধরনের যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদী কল্যানের কথা মাথায় রেখে সরকার এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। আমদানি নির্ভর ও দেশে উৎপাদিত পণ্যের সাবসুটি এক নয়। আমদানি নির্ভর পণে সাবসিটি দেয়ার সামর্থ্য কমছে। আর বর্তমানে ৩০ ডলার পার ইউনিট দরে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। বিগত সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে।’
উপদেষ্টা বলেন, এলপিজির দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ওপর চাপ পড়বে সরকারও বিষয়টি অনুধাবন করতে পারে।
তবে দীর্ঘমেয়াদি জনকল্যাণের কথা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে দাম মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে সরকার ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।


















