ঢাকা ০৪:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিভি লটারি চালুর দাবিতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:১৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 61

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড লটারি বা ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) কর্মসূচির নিবন্ধন চালুর দাবিতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে নতুন মামলা হয়েছে। ২০২৭ ও ২০২৮ সালের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগ্রহ জানিয়ে রুশ নাগরিক ইভান ইভাননিকভ এই মামলা করেছেন। এর কয়েক দিন আগে দেশটির একটি আপিল আদালত নিম্ন আদালতের দেওয়া লটারি পুনরায় চালুর নির্দেশ স্থগিত করেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তায় থাকা কর্মসূচিটি নিয়ে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে।

নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে বিবাদী করা হয়েছে। ইভাননিকভের দাবি, পররাষ্ট্র দপ্তরকে ডিভি-২০২৭ ও ডিভি-২০২৮ কর্মসূচির জন্য নিবন্ধন চালু করতে বাধ্য করা হোক। তিনি নিজেও এই দুই কর্মসূচিতে অংশ নিতে চান বলে মামলায় উল্লেখ করেছেন।

এর আগে গত ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল জেলা আদালত ডিভি-২০২৭ কর্মসূচি পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই নির্দেশ অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা, ১ নভেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ এবং ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচিত ব্যক্তিদের আবেদন করার যোগ্যতা সম্পর্কে জানানোর কথা ছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে জরুরি ভিত্তিতে তা স্থগিত করার আবেদন জানায়।

গত ২৯ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের নবম সার্কিট আপিল আদালত সরকারের সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। এর ফলে নিম্ন আদালতের নির্দেশ আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত হয়ে যায়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, আগের মামলার বাদী অভিবাসন আইনটির মাধ্যমে সুরক্ষিত স্বার্থের আওতায় পড়ে কি না, তা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। বিচারক এন র‌্যান্ডি স্মিথ পৃথক মতামতে প্রতিষ্ঠানটির সাংবিধানিকভাবে মামলা করার অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তবে আদালত স্পষ্ট করে জানায়, নিবন্ধন চালু না করার বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের সিদ্ধান্তকে তারা সমর্থন করছে না।

নতুন মামলার বাদী ইভান ইভাননিকভের জন্ম রাশিয়ার মস্কোতে। তাঁর আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি দেশটির হায়ার স্কুল অব ইকোনমিকসে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। পরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এসে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আরভিনের স্কুল অব ল থেকে আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ক্যালিফোর্নিয়ার বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিজস্ব অভিবাসন আইনবিষয়ক চর্চা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা ও গ্রিন কার্ড পেতে আগ্রহীদের আইনি সহায়তা দেন।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ইভাননিকভ বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাস করছেন এবং ও-১এ শ্রেণির অস্থায়ী কর্মভিসার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান করছেন। বিশেষ দক্ষতা বা অসাধারণ যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য এই ভিসা দেওয়া হয়। তাঁর ও-১এ আবেদন ২০২৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুমোদিত এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের অনুমতি রয়েছে একই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

ইভাননিকভের আইনজীবী কার্টিস লি মরিসন নিউজউইককে বলেন, ডাইভারসিটি ভিসা লটারি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ এই লটারিতে অংশ নেন, কারণ তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখেন। তাঁর মতে, বিভিন্ন দেশের যোগ্য অভিবাসনপ্রত্যাশীদের এই সুযোগ দেওয়া হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্ন ও বহুমাত্রিক সমাজকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

মামলায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনে বেআইনি বিলম্ব এবং স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, ডিভি কর্মসূচির নিবন্ধন বন্ধ রাখা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। এ ছাড়া আদালতের মাধ্যমে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার আবেদনও জানানো হয়েছে। মামলায় ডিভি-২০২৭ ও ডিভি-২০২৮ উভয় কর্মসূচির জন্য কমপক্ষে ৩০ দিনের নিবন্ধন সময় নির্ধারণ এবং নির্বাচিত ব্যক্তিদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া চালু রাখার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। ইভাননিকভের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁরা প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদনও করবেন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি কয়েক দশক ধরে দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থার একটি অংশ। ১৯৮০-এর দশকে কংগ্রেসের উদ্যোগে চালু হওয়া এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কম অভিবাসী পাঠায় এমন দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ বাড়ানো। এর আওতায় প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা দেওয়া হয়। যোগ্য দেশগুলোর আবেদনকারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ব্যক্তিরা পরবর্তী সময়ে ভিসার জন্য আবেদন করার সুযোগ পান।

ডিভি কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা শুরু হয় ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, লটারিতে অংশগ্রহণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধনের তারিখ যথাসম্ভব দ্রুত ঘোষণা করা হবে। তবে নিবন্ধন শুরু হয়নি। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর ট্রাম্প প্রশাসন ডাইভারসিটি ভিসা ইস্যু স্থগিতের ঘোষণা দেয়। এরপর থেকেই কর্মসূচিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

নতুন মামলার বিষয়ে নিউজউইককে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এ নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবেন না। নতুন মামলার শুনানি ও আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে ডিভি-২০২৭ ও ডিভি-২০২৮ কর্মসূচির নিবন্ধন চালুর ভবিষ্যৎ। আপাতত ডিভি-২০২৭ নিবন্ধন চালুর বিষয়ে কোনো কার্যকর আদালতের নির্দেশ নেই। সূত্র: নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের নবম সার্কিট আপিল আদালত।

নিউজটি শেয়ার করুন

ডিভি লটারি চালুর দাবিতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় : ০২:১৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড লটারি বা ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) কর্মসূচির নিবন্ধন চালুর দাবিতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে নতুন মামলা হয়েছে। ২০২৭ ও ২০২৮ সালের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগ্রহ জানিয়ে রুশ নাগরিক ইভান ইভাননিকভ এই মামলা করেছেন। এর কয়েক দিন আগে দেশটির একটি আপিল আদালত নিম্ন আদালতের দেওয়া লটারি পুনরায় চালুর নির্দেশ স্থগিত করেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তায় থাকা কর্মসূচিটি নিয়ে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে।

নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে বিবাদী করা হয়েছে। ইভাননিকভের দাবি, পররাষ্ট্র দপ্তরকে ডিভি-২০২৭ ও ডিভি-২০২৮ কর্মসূচির জন্য নিবন্ধন চালু করতে বাধ্য করা হোক। তিনি নিজেও এই দুই কর্মসূচিতে অংশ নিতে চান বলে মামলায় উল্লেখ করেছেন।

এর আগে গত ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল জেলা আদালত ডিভি-২০২৭ কর্মসূচি পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই নির্দেশ অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা, ১ নভেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ এবং ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচিত ব্যক্তিদের আবেদন করার যোগ্যতা সম্পর্কে জানানোর কথা ছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে জরুরি ভিত্তিতে তা স্থগিত করার আবেদন জানায়।

গত ২৯ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের নবম সার্কিট আপিল আদালত সরকারের সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। এর ফলে নিম্ন আদালতের নির্দেশ আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত হয়ে যায়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, আগের মামলার বাদী অভিবাসন আইনটির মাধ্যমে সুরক্ষিত স্বার্থের আওতায় পড়ে কি না, তা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। বিচারক এন র‌্যান্ডি স্মিথ পৃথক মতামতে প্রতিষ্ঠানটির সাংবিধানিকভাবে মামলা করার অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তবে আদালত স্পষ্ট করে জানায়, নিবন্ধন চালু না করার বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের সিদ্ধান্তকে তারা সমর্থন করছে না।

নতুন মামলার বাদী ইভান ইভাননিকভের জন্ম রাশিয়ার মস্কোতে। তাঁর আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি দেশটির হায়ার স্কুল অব ইকোনমিকসে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। পরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এসে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আরভিনের স্কুল অব ল থেকে আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ক্যালিফোর্নিয়ার বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিজস্ব অভিবাসন আইনবিষয়ক চর্চা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা ও গ্রিন কার্ড পেতে আগ্রহীদের আইনি সহায়তা দেন।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ইভাননিকভ বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাস করছেন এবং ও-১এ শ্রেণির অস্থায়ী কর্মভিসার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান করছেন। বিশেষ দক্ষতা বা অসাধারণ যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য এই ভিসা দেওয়া হয়। তাঁর ও-১এ আবেদন ২০২৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুমোদিত এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের অনুমতি রয়েছে একই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

ইভাননিকভের আইনজীবী কার্টিস লি মরিসন নিউজউইককে বলেন, ডাইভারসিটি ভিসা লটারি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ এই লটারিতে অংশ নেন, কারণ তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখেন। তাঁর মতে, বিভিন্ন দেশের যোগ্য অভিবাসনপ্রত্যাশীদের এই সুযোগ দেওয়া হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্ন ও বহুমাত্রিক সমাজকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

মামলায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনে বেআইনি বিলম্ব এবং স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, ডিভি কর্মসূচির নিবন্ধন বন্ধ রাখা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। এ ছাড়া আদালতের মাধ্যমে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার আবেদনও জানানো হয়েছে। মামলায় ডিভি-২০২৭ ও ডিভি-২০২৮ উভয় কর্মসূচির জন্য কমপক্ষে ৩০ দিনের নিবন্ধন সময় নির্ধারণ এবং নির্বাচিত ব্যক্তিদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া চালু রাখার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। ইভাননিকভের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁরা প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদনও করবেন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি কয়েক দশক ধরে দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থার একটি অংশ। ১৯৮০-এর দশকে কংগ্রেসের উদ্যোগে চালু হওয়া এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কম অভিবাসী পাঠায় এমন দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ বাড়ানো। এর আওতায় প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা দেওয়া হয়। যোগ্য দেশগুলোর আবেদনকারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ব্যক্তিরা পরবর্তী সময়ে ভিসার জন্য আবেদন করার সুযোগ পান।

ডিভি কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা শুরু হয় ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, লটারিতে অংশগ্রহণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধনের তারিখ যথাসম্ভব দ্রুত ঘোষণা করা হবে। তবে নিবন্ধন শুরু হয়নি। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর ট্রাম্প প্রশাসন ডাইভারসিটি ভিসা ইস্যু স্থগিতের ঘোষণা দেয়। এরপর থেকেই কর্মসূচিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

নতুন মামলার বিষয়ে নিউজউইককে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এ নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবেন না। নতুন মামলার শুনানি ও আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে ডিভি-২০২৭ ও ডিভি-২০২৮ কর্মসূচির নিবন্ধন চালুর ভবিষ্যৎ। আপাতত ডিভি-২০২৭ নিবন্ধন চালুর বিষয়ে কোনো কার্যকর আদালতের নির্দেশ নেই। সূত্র: নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের নবম সার্কিট আপিল আদালত।