ঢাকা ০৩:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯২ বছরের দুঃখ মুছে শেষ ষোলোতে মিশর

স্পোটর্স ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:১৭:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • / 11

১৯৩৪ সালে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডেই হাঙ্গেরির কাছে হেরেছিল মিশর। ৪-২ ব্যবধানের সেই হারে সেবার ভেঙে যায় পিরামিডের দেশের ফুটবল যোদ্ধাদের মন। দীর্ঘ ৯২ বছর পর বিশ্বমঞ্চের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার নতুন সুযোগ আসে তাদের সামনে। Soccer

এবার আর আশাভঙ্গের গল্প নয়, বরং লেখা হলো ইতিহাস। আর্লিংটনের নির্ধারিত সময়ের রোমাঞ্চকর ১-১ লড়াইয়ের পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কোচ হোসাম হাসানের দল।

বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে মিশর। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় টাইব্রেকারে, যেখানে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়ে আফ্রিকার দলটি।

ম্যাচের ১৩তম মিনিটেই এগিয়ে যায় মিসর। ফ্রি-কিক থেকে পরিকল্পিত আক্রমণে মোহাম্মদ সালাহ ছোট পাস বাড়িয়ে দেন ইমান আশুরকে। তার প্রথম শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে এলেও দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় নিখুঁত হেডে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।

প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় মিশর। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫তম মিনিটে আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। ফ্রি-কিক থেকে ভেসে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন মিশরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি।

এরপর দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও নির্ধারিত সময়ে আর গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে ৩০ মিনিটেও ফল না আসায় খেলা টাইব্রেকারে গড়ায়।

টাইব্রেকারে শুরুতেই চাপের মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তাদের প্রথম শটটি হ্যারি শুটার বারের ওপর দিয়ে মারেন। অন্যদিকে মিশর ধীরস্থিরভাবে এগিয়ে যায়। মাহমুদ সাবের, রামি রাবিয়া, মোহাম্মদ সালাহ ও আবদেল মাগিদ; চারজনই সফলভাবে গোল করেন।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে জ্যাকসন আরভিন ও আওয়ার মাবিল গোল করলেও চতুর্থ শটে লুকাস হেরিংটনের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফলে পঞ্চম শটের আর প্রয়োজন হয়নি। ৪-২ ব্যবধানে টাইব্রেকার জিতে শেষ ষোলোয় ঐতিহাসিক জায়গা করে নেয় মিশর।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি ছিল মিশরের প্রথম নকআউট জয়। এর আগে ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে তারা প্রথম রাউন্ডেই হেরে বিদায় নিয়েছিল। প্রায় ৯২ বছর পর নকআউট পর্বে ফিরে এসে এবার প্রথমবারের মতো জয়ের স্বাদ পেল তারা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

৯২ বছরের দুঃখ মুছে শেষ ষোলোতে মিশর

আপডেট সময় : ১২:১৭:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

১৯৩৪ সালে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডেই হাঙ্গেরির কাছে হেরেছিল মিশর। ৪-২ ব্যবধানের সেই হারে সেবার ভেঙে যায় পিরামিডের দেশের ফুটবল যোদ্ধাদের মন। দীর্ঘ ৯২ বছর পর বিশ্বমঞ্চের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার নতুন সুযোগ আসে তাদের সামনে। Soccer

এবার আর আশাভঙ্গের গল্প নয়, বরং লেখা হলো ইতিহাস। আর্লিংটনের নির্ধারিত সময়ের রোমাঞ্চকর ১-১ লড়াইয়ের পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কোচ হোসাম হাসানের দল।

বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে মিশর। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় টাইব্রেকারে, যেখানে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়ে আফ্রিকার দলটি।

ম্যাচের ১৩তম মিনিটেই এগিয়ে যায় মিসর। ফ্রি-কিক থেকে পরিকল্পিত আক্রমণে মোহাম্মদ সালাহ ছোট পাস বাড়িয়ে দেন ইমান আশুরকে। তার প্রথম শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে এলেও দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় নিখুঁত হেডে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।

প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় মিশর। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫তম মিনিটে আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। ফ্রি-কিক থেকে ভেসে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন মিশরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি।

এরপর দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও নির্ধারিত সময়ে আর গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে ৩০ মিনিটেও ফল না আসায় খেলা টাইব্রেকারে গড়ায়।

টাইব্রেকারে শুরুতেই চাপের মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তাদের প্রথম শটটি হ্যারি শুটার বারের ওপর দিয়ে মারেন। অন্যদিকে মিশর ধীরস্থিরভাবে এগিয়ে যায়। মাহমুদ সাবের, রামি রাবিয়া, মোহাম্মদ সালাহ ও আবদেল মাগিদ; চারজনই সফলভাবে গোল করেন।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে জ্যাকসন আরভিন ও আওয়ার মাবিল গোল করলেও চতুর্থ শটে লুকাস হেরিংটনের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফলে পঞ্চম শটের আর প্রয়োজন হয়নি। ৪-২ ব্যবধানে টাইব্রেকার জিতে শেষ ষোলোয় ঐতিহাসিক জায়গা করে নেয় মিশর।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি ছিল মিশরের প্রথম নকআউট জয়। এর আগে ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে তারা প্রথম রাউন্ডেই হেরে বিদায় নিয়েছিল। প্রায় ৯২ বছর পর নকআউট পর্বে ফিরে এসে এবার প্রথমবারের মতো জয়ের স্বাদ পেল তারা।