আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কেউ এভাবে লড়তে পারত না: কেপ ভার্দে কোচ
- আপডেট সময় : ১২:৫০:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
- / 4
ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে হেরেছে কেপ ভার্দে। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াইয়ের পর খেলোয়াড়দের প্রশংসায় ভাসিয়েছেন কেপ ভার্দে কোচ বুবিস্তা।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৬৭ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে হাজির হয়। নিজেদের প্রথম বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট খেলতে এসেই গ্রুপ পর্বে সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়ের মতো পরাশক্তিদের রুখে দিয়েছিল তারা। যার ঝলক দেখা গিয়েছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও।
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে ম্যাচের ২৯ মিনিটে লিওনেল মেসির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে। পরে অতিরিক্ত যোগ করা ত্রিশ মিনিটের শুরুতে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের গোলে আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১০৩ মিনিটে দ্বিতীয়বার সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে।
১১৩ মিনিটে গিয়ে মেসির কর্নার থেকে পাওয়া আত্মঘাতী গোলে নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার জয়। ম্যাচের শেষ সময়টুকু পর্যন্ত আলবিসেলেস্তেদের কঠিন পরীক্ষা নেয় কেপ ভার্দে।
ম্যাচ শেষে বুবিস্তা বলেন, ‘ড্রেসিংরুম জুড়ে এখন কেবলই বিষাদের ছায়া। বিদায় নেওয়ার কারণে এবং জয়ের এতোটা কাছাকাছি এসেও তা ছুঁতে না পারায় আমাদের মন খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক।’
তিনি আরও বলেন করেন, ‘কষ্টের মাঝেও খেলোয়াড়রা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিল। এই অভিজ্ঞতা আমাদের আরও পরিপক্ব করবে, সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। আর এটা প্রমাণ করে যে এই দলের একটা প্রাণ আছে।’
আর্জেন্টিনার মতো বিশ্বমানের দলের বিপক্ষে ১২০ মিনিট লড়াই করাটাকে বিশাল এক অর্জন ও গর্বের বিষয় বলে মনে করেন বুবিস্তা, ‘আমি আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত। তারা মাঠে যে সাহসিকতা আর মর্যাদা দেখিয়েছে, তা অতুলনীয়। আর্জেন্টিনা কেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, তা তারা আজ প্রমাণ করেছে। তবে আমি এটাও বুক ফুলিয়ে বলতে পারি, আমাদের ছেলেরা ম্যাচটি জেতার জন্য নিজেদের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়েছে।’
বুবিস্তা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘আমার মনে হয় না অন্য কোনো দল আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুই গোল দিয়ে ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যেতে পারত। এটাই আমাদের দলের চরিত্র এবং দক্ষতার প্রমাণ। তারা চরম বীরত্বের সাথে খেলেছে এবং নিজেদের খেলার সহজাত ধরণটা কখনোই হারিয়ে যেতে দেয়নি।’
বিশ্বকাপে আসার আগে কেপভার্দেকে চিনত না অধিকাংশ মানুষই। বিশ্ব দরবারে নিজেদের পরিচিত করাতে চেয়েছিলেন বলে বুবিস্তা বলেন, ‘শুধু ফুটবল খেলার চেয়েও বড় লক্ষ্য ছিল বিশ্বের দরবারে আমাদের নিজস্ব পরিচিতি তুলে ধরা। পুরো টুর্নামেন্টে আমরা যতদিন টিকে ছিলাম, আমরা বুক চিতিয়ে বিশ্বের সেরা দলগুলোর মুখোমুখি হতে চেয়েছি।’
শেষে বুবিস্তা বলেন, ‘আমরা কোনো অন্যায় সুবিধা নেইনি, প্রতিপক্ষের সঙ্গে একদম সমান তালে লড়াই করেছি। আমাদের এই ছোট্ট দেশটার সামর্থ্য কতটুকু, তা ছেলেরা আজ বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে। এজন্য পুরো দেশেরই উচিত এই খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানানো।’


























ইউক্রেনের কস্তিয়ানতিনিভকা শহর দখলের দাবি রাশিয়ার