আমাদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে, অবিচারের শিকার হয়েছি: মিশর কোচ
- আপডেট সময় : ১১:২৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
- / 7
শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ১১ মিনিটে দুই গোলের লিড হারিয়ে নাটকীয়ভাবে বিদায় নিতে হয়েছে মিশরকে। তবে হার মেনে নিতে পারছেন না দলের কোচ হোসাম হাসান। তার অভিযোগ, রেফারিংয়ের একাধিক সিদ্ধান্তে অন্যায়ের শিকার হয়েছে মিশর, এমনকি ম্যাচের আগেই আর্জেন্টিনার পক্ষে পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার আটলান্টায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর গোলে ব্যবধান কমানোর পর ৮৩ মিনিটে সমতা ফেরান লিওনেল মেসি।
পরে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ৫৮ মিনিটের মাথায় আরও একটি গোল করেছিল মিশর। তবে তাদের পাল্টা আক্রমণ সাজানোর শুরুতেই ফাউল হওয়ায় ভিএআর দেখে সেটি বাতিল করে দেন রেফারি। এছাড়া ম্যাচের ২০ মিনিটে ডি বক্সে ফাউল করায় আর্জেন্টিনাকে দেওয়া হয় পেনাল্টি।
এসব সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মানতে পারছেন না হোসাম হাসান। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাই ক্ষোভ উগরে দেন মিশর কোচ।
“এই ফল আমি মেনে নিতে পারছি না। ম্যাচ যেভাবে এগিয়েছে, সেটাও মেনে নিতে পারছি না। সুন্দর সুন্দর কথা বলে ‘হার্ড লাক’ বলতে চাই না। আজ আমাদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। আমরা অবিচারের শিকার হয়েছি।”
আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের পর যোগ করা সময়ের শেষ দিকে আর্জেন্টিনার পেনাল্টি বক্সে মোহামেদ সালাহ পড়ে গেলেও সেটি ভিএআরে দেখা হয়নি। আর এর আগে ভিএআর দেখে বাতিল হয় তাদের গোল। এই দুটি সিদ্ধান্ত নিয়েই সবচেয়ে বেশি আপত্তি মিশর শিবিরের।
হোসাম হাসান জানান, ম্যাচের আগেই ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিল মিশর। যদিও ঠিক কী কারণে সেই আপত্তি, তা স্পষ্ট করেননি তিনি। অতিরিক্ত সময়ের নবম মিনিটে ভিএআর না দেখার প্রতিবাদ করায় হলুদ কার্ডও দেখেন মিসর কোচ।
রেফারির সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে ওই মুহূর্তের বর্ণনা দেন হোসাম হাসান।
“আমি শুধু বলেছিলাম, এটা অন্যায়। হয়তো তার ভেতরে কোনো ক্ষত আছে। হয়তো এমন কিছু আছে, যা তিনি লুকাতে চাইছেন। কিন্তু অনেক সময় মানুষ যা লুকাতে চায়, সেটাই সবচেয়ে বেশি প্রকাশ পেয়ে যায়।”
এখানেই থেমে থাকেননি হাসান। তার দাবি, ম্যাচে রেফারির ওপর আর্জেন্টিনার প্রভাবও ছিল।
“বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে আমরা সব দিক থেকেই ভালো খেলেছি। শুধু ফলটা আমাদের পক্ষে আসেনি। মাঠের ভেতরের কিছু সিদ্ধান্ত এবং ম্যাচের আগের কিছু বিষয় এই ফল নির্ধারণ করেছে। মনে হয়েছে, আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে রেফারির ওপর চাপ ছিল।”
ম্যাচজুড়ে মিশরের খেলোয়াড়রা পাঁচটি হলুদ কার্ড দেখলেও আর্জেন্টিনার কোনো খেলোয়াড় কার্ড দেখেননি। ম্যাচের উত্তেজনার মধ্যে হাসানের কোচিং স্টাফের একজন লাল কার্ডও দেখেন।
হারের হতাশা থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপের আর কোনো ম্যাচই দেখবেন না বলেও জানান মিসর কোচ। তার প্রশ্ন, ‘স্বাভাবিক জীবন অন্যায্য হতে পারে। কিন্তু খেলাধুলায়ও কেন ন্যায্যতা থাকবে না?’
ম্যাচের সময়সূচি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাসান। আটলান্টায় স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্তকে ‘ফুটবলবিরোধী’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
“যিনি দুপুর ১২টায় ম্যাচ রেখেছেন, তিনি কখনও ফুটবল খেলেননি। দুপুরে মানুষ হাঁটতে যায়, বাতাস খেতে যায়, ব্রাঞ্চ করতে যায়- ফুটবল খেলতে নয়। খেলোয়াড়রা তাহলে কখন খাবে? সকাল সাড়ে সাতটায় নাশতা করে কি বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ খেলতে নামতে হবে?”
শেষ পর্যন্ত হতাশার মধ্যেও নিজের খেলোয়াড়দের প্রশংসা করতে ভোলেননি মিসর কোচ।
“আমি আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত। কিন্তু আমরা আমাদের প্রাপ্যটা পাইনি।”

























জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় নির্বাচন করবে ইসি