ঢাকা ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিশেষ সতর্কীকরণ নোটিশ ::
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম চালু করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীদের দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা হবে। এ জন্য ০১৩১৮২৩৪৯৬২, ০১৩১৮২৩৪৯৬৩, ০১৩২১১৩৯৫৪২ ও ০১৭০৯৬৫৪৭৯১ মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়া ffwcbwdb@gmail.com এবং ffwc05@yahoo.com ই-মেইলেও তথ্য পাওয়া যাবে।

সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৮:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • / 7

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সব সৃষ্টি থেকে উপকার ভোগ করতে হলে, মানুষ হিসেবে আমাদের অবশ্যই কিছু দায়িত্ব এবং কর্তব্য রয়েছে। যথানিয়মে সব সৃষ্টির যত্ন এবং পরিচর্যা করা মানব সমাজের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে এটি প্রমাণিত সত্য, বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মানব সমাজের সম্পর্ক গভীর এবং অবিচ্ছেদ্য। বাস্তুতন্ত্রের নিরাপদ লালন এবং বিকাশের সঙ্গে মানব সমাজের নিরাপদ বেড়ে ওঠা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং, আজকের এই পরিবেশ মেলা কিংবা বৃক্ষমেলার আয়োজন, এটি কিন্তু বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ বলেই আমি মনে করি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান তৃতীয়। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসা খুবই জরুরি। সভ্য দেশ হয়েও যেভাবে যত্রতত্র কলকারখানা গড়ে তোলা হচ্ছে, তা কাম্য নয়।

তিনি বলেন, দেশের বেশিরভাগ মানুষ পরিবেশ সম্পর্কে অজ্ঞ। তাই মানুষের মধ্যে পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

সরকারপ্রধান নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, কোন পরিবেশে কী ধরনের গাছ লাগানো উচিত, সে বিষয়েও সবাইকে সচেতন হতে হবে। ইউক্যালিপটাসের মতো ক্ষতিকর গাছ লাগানো থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের একপর্যায়ে পবিত্র কোরআনের সূরা আল-বাকারার ২৯ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তিনি সেই সত্তা, যিনি পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সব তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন’।

এ আয়াতের গভীর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘নদী-নালা, গাছপালা, কীট-পতঙ্গ, বন্য কিংবা গৃহপালিত প্রাণী, অর্থাৎ আমাদের চারপাশের পরিবেশ ও প্রতিবেশ—আল্লাহর সব সৃষ্টিই মানুষের উপকারের জন্য।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্মরণ করিয়ে দেন যে, প্রকৃতি থেকে শুধু সুবিধা নিলেই হবে না, এর সুরক্ষায় মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর সব সৃষ্টি থেকে যদি উপকার ভোগ করতে হয়, তাহলে মানুষ হিসেবে অবশ্যই আমাদের কিছু সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। যথানিয়মে প্রকৃতির সব সৃষ্টির যত্ন ও পরিচর্যা করা মানবসমাজের নৈতিক দায়িত্ব।’

বর্তমান যুগে বিজ্ঞানের অভাবনীয় উৎকর্ষের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিজ্ঞান আজ প্রমাণ করেছে যে, ইকো সিস্টেমের সঙ্গে মানবসমাজের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও অবিচ্ছেদ্য। এই ইকো সিস্টেমের নিরাপদ লালন এবং বিকাশের সঙ্গেই মানবসমাজের নিরাপদে বেড়ে ওঠা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের অস্তিত্বেরই অংশ।’

অনুষ্ঠানে পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় তিন ব্যক্তি ও তিন প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পরিবেশ পদক দেওয়া হয়। এছাড়া বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন ৭টি শ্রেণিতে মোট ২১ জন।

গত সোমবার (৬ জুলাই) বসবাসের অযোগ্য ১৭৩টি শহরের তালিকা প্রকাশ করে বিশ্বের প্রভাবশালী সাময়িকী ইকোনমিস্ট গ্রুপের গবেষণা বিভাগ ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)। ওই তালিকা অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে বসবাসের অযোগ্য শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান তৃতীয়। ২০২৫ সালেও ঢাকার অবস্থান একই ছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৩:৪৮:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সব সৃষ্টি থেকে উপকার ভোগ করতে হলে, মানুষ হিসেবে আমাদের অবশ্যই কিছু দায়িত্ব এবং কর্তব্য রয়েছে। যথানিয়মে সব সৃষ্টির যত্ন এবং পরিচর্যা করা মানব সমাজের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে এটি প্রমাণিত সত্য, বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মানব সমাজের সম্পর্ক গভীর এবং অবিচ্ছেদ্য। বাস্তুতন্ত্রের নিরাপদ লালন এবং বিকাশের সঙ্গে মানব সমাজের নিরাপদ বেড়ে ওঠা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং, আজকের এই পরিবেশ মেলা কিংবা বৃক্ষমেলার আয়োজন, এটি কিন্তু বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ বলেই আমি মনে করি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান তৃতীয়। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসা খুবই জরুরি। সভ্য দেশ হয়েও যেভাবে যত্রতত্র কলকারখানা গড়ে তোলা হচ্ছে, তা কাম্য নয়।

তিনি বলেন, দেশের বেশিরভাগ মানুষ পরিবেশ সম্পর্কে অজ্ঞ। তাই মানুষের মধ্যে পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

সরকারপ্রধান নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, কোন পরিবেশে কী ধরনের গাছ লাগানো উচিত, সে বিষয়েও সবাইকে সচেতন হতে হবে। ইউক্যালিপটাসের মতো ক্ষতিকর গাছ লাগানো থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের একপর্যায়ে পবিত্র কোরআনের সূরা আল-বাকারার ২৯ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তিনি সেই সত্তা, যিনি পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সব তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন’।

এ আয়াতের গভীর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘নদী-নালা, গাছপালা, কীট-পতঙ্গ, বন্য কিংবা গৃহপালিত প্রাণী, অর্থাৎ আমাদের চারপাশের পরিবেশ ও প্রতিবেশ—আল্লাহর সব সৃষ্টিই মানুষের উপকারের জন্য।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্মরণ করিয়ে দেন যে, প্রকৃতি থেকে শুধু সুবিধা নিলেই হবে না, এর সুরক্ষায় মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর সব সৃষ্টি থেকে যদি উপকার ভোগ করতে হয়, তাহলে মানুষ হিসেবে অবশ্যই আমাদের কিছু সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। যথানিয়মে প্রকৃতির সব সৃষ্টির যত্ন ও পরিচর্যা করা মানবসমাজের নৈতিক দায়িত্ব।’

বর্তমান যুগে বিজ্ঞানের অভাবনীয় উৎকর্ষের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিজ্ঞান আজ প্রমাণ করেছে যে, ইকো সিস্টেমের সঙ্গে মানবসমাজের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও অবিচ্ছেদ্য। এই ইকো সিস্টেমের নিরাপদ লালন এবং বিকাশের সঙ্গেই মানবসমাজের নিরাপদে বেড়ে ওঠা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের অস্তিত্বেরই অংশ।’

অনুষ্ঠানে পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় তিন ব্যক্তি ও তিন প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পরিবেশ পদক দেওয়া হয়। এছাড়া বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন ৭টি শ্রেণিতে মোট ২১ জন।

গত সোমবার (৬ জুলাই) বসবাসের অযোগ্য ১৭৩টি শহরের তালিকা প্রকাশ করে বিশ্বের প্রভাবশালী সাময়িকী ইকোনমিস্ট গ্রুপের গবেষণা বিভাগ ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)। ওই তালিকা অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে বসবাসের অযোগ্য শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান তৃতীয়। ২০২৫ সালেও ঢাকার অবস্থান একই ছিল।