ঢাকা ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদক

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:২১:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 4

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় উপদেষ্টা থাকাকালীন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে যুব উন্নয়নের ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

‎যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকাকালীন বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ, পদোন্নতিসহ দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগগুলো অনুসন্ধানের জন্য চার সদস্যদের অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে দুদক।

‎বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় দুদক কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম।

আকতারুল ইসলাম বলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, ব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো.মাহবুব-উল-আলম, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুব-১ শাখার উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ,পদোন্নতিসহ দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এদিকে, বুধবার গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম-দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।

এবার দুদকের মুখপাত্র নিশ্চিত করলেন তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার বিষয়ে।

তিনি বলেন, অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। অনুসন্ধান টিমের নেতৃত্বে থাকবেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালাম। তার নেতৃত্বে সদস্য হিসেবে সহকারী পরিচালক মো. নাছরুল্লাহ হোসাইন,উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন ও ‎উপসহকারী পরিচালক রোমান উদ্দিনকে অনুসন্ধান টিমের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার মন্ত্রণালয়ের বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ, পদোন্নতির ক্ষেত্রে চরম দুর্নীতি করেছেন। এছাড়াও অভিযুক্তরা ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়ন আদেশ করিয়ে ৭৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য দেড় কোটি টাকা এবং পদোন্নতিপূর্বক পছন্দের জায়গায় পদায়ন করার জন্য সর্বমোট ২ কোটি টাকার দুর্নীতি করার অভিযোগ রয়েছে।

‎তিনি আরও বলেন, এ অপরাধগুলো যুব উন্নয়নের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ এবং যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা, মামুন, জাহিদ, আমির (ঢাকা), আনিচ, জাহিদ, ইব্রাহিম (বগুড়া), জুলহাস (বরিশাল), নাকিম উদ্দিন, আলী হোসেন, আবু সাঈদ (পাবনা), কোরবান আলী (ধামরাই, ঢাকা) ও আলী হোসেন (নরসিংদী)-কে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট চক্র দ্বারা যুব উন্নয়নের সকল ধরনের টেন্ডারবাজি, কেনাকাটাসহ দুর্নীতিলব্ধ অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপনে দুর্নীতির মহোৎসব চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে। ‎এ ঘটনায় আমাদের অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদক

আপডেট সময় : ১১:২১:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় উপদেষ্টা থাকাকালীন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে যুব উন্নয়নের ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

‎যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকাকালীন বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ, পদোন্নতিসহ দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগগুলো অনুসন্ধানের জন্য চার সদস্যদের অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে দুদক।

‎বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় দুদক কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম।

আকতারুল ইসলাম বলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, ব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো.মাহবুব-উল-আলম, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুব-১ শাখার উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ,পদোন্নতিসহ দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এদিকে, বুধবার গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম-দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।

এবার দুদকের মুখপাত্র নিশ্চিত করলেন তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার বিষয়ে।

তিনি বলেন, অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। অনুসন্ধান টিমের নেতৃত্বে থাকবেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালাম। তার নেতৃত্বে সদস্য হিসেবে সহকারী পরিচালক মো. নাছরুল্লাহ হোসাইন,উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন ও ‎উপসহকারী পরিচালক রোমান উদ্দিনকে অনুসন্ধান টিমের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার মন্ত্রণালয়ের বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ, পদোন্নতির ক্ষেত্রে চরম দুর্নীতি করেছেন। এছাড়াও অভিযুক্তরা ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়ন আদেশ করিয়ে ৭৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য দেড় কোটি টাকা এবং পদোন্নতিপূর্বক পছন্দের জায়গায় পদায়ন করার জন্য সর্বমোট ২ কোটি টাকার দুর্নীতি করার অভিযোগ রয়েছে।

‎তিনি আরও বলেন, এ অপরাধগুলো যুব উন্নয়নের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ এবং যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা, মামুন, জাহিদ, আমির (ঢাকা), আনিচ, জাহিদ, ইব্রাহিম (বগুড়া), জুলহাস (বরিশাল), নাকিম উদ্দিন, আলী হোসেন, আবু সাঈদ (পাবনা), কোরবান আলী (ধামরাই, ঢাকা) ও আলী হোসেন (নরসিংদী)-কে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট চক্র দ্বারা যুব উন্নয়নের সকল ধরনের টেন্ডারবাজি, কেনাকাটাসহ দুর্নীতিলব্ধ অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপনে দুর্নীতির মহোৎসব চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে। ‎এ ঘটনায় আমাদের অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে।