ঢাকা ০১:২১ পূর্বাহ্ন, রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক আগ্রাসন ও একতরফা শুল্ক আরোপের নিন্দায় ১১ দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৪৭:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 4

জাতিসংঘসহ নিরাপত্তা পরিষদে ব্রাজিল এবং ভারতের মতো দেশগুলোর আরও বড় ভূমিকা পালনের আকাঙ্ক্ষার প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে সম্মেলনে উপস্থিত নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য দেশ চীন ও রাশিয়া।

ঘোষণাপত্রে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে নিজস্ব বা আঞ্চলিক মুদ্রার মাধ্যমে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। এতে আফ্রিকান, এশীয় এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ পুনর্গঠনের সুনির্দিষ্ট আহ্বান জানানো হয়।

সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘আজকের আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট যে, বর্তমান পরিবর্তনশীল বিশ্বকে পুরোনো ধ্যান-ধারণার ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানগুলো দিয়ে আর চালানো সম্ভব নয়। তাই বৈশ্বিক সংস্থায় প্রতিনিধিত্ব এবং নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় সংস্কার আনা অত্যন্ত জরুরি। আমরা এ বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছি যে, ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি এবং তা পরিচালনার নীতিমালা প্রণয়নে গ্লোবাল সাউথ-এর সমান অংশগ্রহণ থাকতে হবে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আজ (শনিবার) গৃহীত নয়াদিল্লি ঘোষণা আমাদের যৌথ সংকল্পের একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে। এখন এসব প্রস্তাব বাস্তব রূপ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

একইসঙ্গে ব্রিকস বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কারের দাবির পাশাপাশি একটি উন্মুক্ত, স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত এবং নিয়মনীতিভিত্তিক বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার প্রতি নিজদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে ব্রিকসের সদস্যরা।

একতরফা শুল্ক আরোপ বৃদ্ধির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ‘এসব পদক্ষেপ বাণিজ্যকে বিকৃত করে এবং ডব্লিউটিও-এর নীতির পরিপন্থী। বাণিজ্যে তৈরি হওয়া অস্থিতিশীলতা সমাধান এবং উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোর চাহিদা এবং অগ্রাধিকার মেটাতে ডব্লিউটিও-এর দক্ষতা বাড়াতে আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’

প্রসঙ্গত, ইরান যুদ্ধ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ব্রিকস সদস্যদের মধ্য বিভাজন থাকায় একটি যৌথ ঘোষণা প্রণয়ন কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করেছিলেন বিশ্লেষকরা। তবে শেষ পর্যন্ত সেসব দূরত্ব ঘুচিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক আগ্রাসন এবং বিশ্ব বাণিজ্যে অস্থিরতার মতো ইস্যুগুলোতে একসুরে কথা বলতে দেখা গেল ব্রিকস নেতাদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক আগ্রাসন ও একতরফা শুল্ক আরোপের নিন্দায় ১১ দেশ

আপডেট সময় : ১১:৪৭:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘসহ নিরাপত্তা পরিষদে ব্রাজিল এবং ভারতের মতো দেশগুলোর আরও বড় ভূমিকা পালনের আকাঙ্ক্ষার প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে সম্মেলনে উপস্থিত নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য দেশ চীন ও রাশিয়া।

ঘোষণাপত্রে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে নিজস্ব বা আঞ্চলিক মুদ্রার মাধ্যমে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। এতে আফ্রিকান, এশীয় এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ পুনর্গঠনের সুনির্দিষ্ট আহ্বান জানানো হয়।

সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘আজকের আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট যে, বর্তমান পরিবর্তনশীল বিশ্বকে পুরোনো ধ্যান-ধারণার ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানগুলো দিয়ে আর চালানো সম্ভব নয়। তাই বৈশ্বিক সংস্থায় প্রতিনিধিত্ব এবং নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় সংস্কার আনা অত্যন্ত জরুরি। আমরা এ বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছি যে, ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি এবং তা পরিচালনার নীতিমালা প্রণয়নে গ্লোবাল সাউথ-এর সমান অংশগ্রহণ থাকতে হবে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আজ (শনিবার) গৃহীত নয়াদিল্লি ঘোষণা আমাদের যৌথ সংকল্পের একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে। এখন এসব প্রস্তাব বাস্তব রূপ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

একইসঙ্গে ব্রিকস বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কারের দাবির পাশাপাশি একটি উন্মুক্ত, স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত এবং নিয়মনীতিভিত্তিক বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার প্রতি নিজদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে ব্রিকসের সদস্যরা।

একতরফা শুল্ক আরোপ বৃদ্ধির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ‘এসব পদক্ষেপ বাণিজ্যকে বিকৃত করে এবং ডব্লিউটিও-এর নীতির পরিপন্থী। বাণিজ্যে তৈরি হওয়া অস্থিতিশীলতা সমাধান এবং উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোর চাহিদা এবং অগ্রাধিকার মেটাতে ডব্লিউটিও-এর দক্ষতা বাড়াতে আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’

প্রসঙ্গত, ইরান যুদ্ধ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ব্রিকস সদস্যদের মধ্য বিভাজন থাকায় একটি যৌথ ঘোষণা প্রণয়ন কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করেছিলেন বিশ্লেষকরা। তবে শেষ পর্যন্ত সেসব দূরত্ব ঘুচিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক আগ্রাসন এবং বিশ্ব বাণিজ্যে অস্থিরতার মতো ইস্যুগুলোতে একসুরে কথা বলতে দেখা গেল ব্রিকস নেতাদের।