ঢাকা ০১:৫৯ অপরাহ্ন, রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেষ লড়াইয়ে মেসি-রোনালদোর গল্প আলাদা

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৪৪:৩৬ অপরাহ্ন, রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 7

একজনের সামনে আরেকটি অসম্ভব মাইলফলক। অন্যজন যেন ধীরে ধীরে গুছিয়ে নিচ্ছেন বিদায়ের শেষ দৃশ্যপট! লিওনেল মেসি আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সেই দীর্ঘ দ্বৈরথ এখন ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বয়সের ভার তাদের গোলের ক্ষুধাকে থামাতে পারেনি।

বরং শেষ ১০০ ম্যাচের পরিসংখ্যান খুললে দেখা যায়, দুজনের গল্প এখন আর এক নয়!

রোনালদো ছুটছেন একটি সংখ্যার পেছনে-১০০০ ক্যারিয়ার গোল। বয়স ৪১ পেরিয়েও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেননি পর্তুগিজ মহাতারকা। তার ক্যারিয়ার গোল এখন ৯৭৯। বহুল কাঙ্ক্ষিত চার অঙ্কের মাইলফলক থেকে দূরে আর মাত্র ২১ গোল!

মেসির সামনে অবশ্য এখন আর এমন কোনো সংখ্যার শিকার নেই। গত মাসের শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। তার সমস্ত মনোযোগ এখন ইন্টার মায়ামিকে ঘিরে। আর শেষ ১০০ ম্যাচের হিসাব বলছে, এই সময়ে গোল করার পাশাপাশি ম্যাচকে প্রভাবিত করার জায়গায় মেসি তৈরি করেছেন বিশাল ব্যবধান।

ক্লাব ও জাতীয় দলের সর্বশেষ ১০০ ম্যাচে মেসির গোল ৮৬টি। রোনালদোর ৮০। ব্যবধান মাত্র ছয়। এই জায়গায় লড়াইটা এখনও যথেষ্ট কাছাকাছি। কিন্তু গোলের পর যখন প্রশ্ন আসে সতীর্থকে দিয়ে গোল করানোর, তখনই যেন দুই তারকার মাঝখানে তৈরি হয় বড় এক দেয়াল।

মেসির অ্যাসিস্ট ৪৮টি। রোনালদোর মাত্র ৭টি! শেষ ১০০ ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে মেসির সরাসরি গোল-অবদান ১৩৪টি। রোনালদোর ৮৭। গোলের ব্যবধান যেখানে ছয়, সেখানে মোট গোল-অবদানের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৪৭-এ। এটাই শেষ অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় পরিসংখ্যানগত গল্প।

গোল করার গতিতেও মেসি সামান্য এগিয়ে। একটি গোল করতে আর্জেন্টাইন তারকার গড়ে লেগেছে ৯৭ মিনিট। রোনালদোর লেগেছে ১০৪ মিনিট। পেনাল্টি বাদ দিলে ব্যবধান আরও বড়, মেসি প্রতি ১০৩ মিনিটে একটি গোল করেছেন! রোনালদোর ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়েছে ১৩৯ মিনিট।

আর গোল কিংবা অ্যাসিস্ট-যেকোনো একটি দিয়ে ম্যাচে সরাসরি প্রভাব রাখার হিসাবেও মেসির এগিয়ে থাকার চিত্র পরিষ্কার। গড়ে প্রতি ৬২ মিনিটে একটি গোল-অবদান রেখেছেন তিনি। রোনালদোর ক্ষেত্রে সময়টি ৯৬ মিনিট।

তবে গল্পের অন্য প্রান্তে রোনালদোর শক্তির জায়গাটিও স্পষ্ট। পেনাল্টি স্পট থেকে তিনি মেসির চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। শেষ ১০০ ম্যাচে ২৬টি পেনাল্টি নিয়ে ২০টিতে গোল করেছেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। মেসি পেয়েছেন ৯টি, গোল করেছেন ৫টিতে।

কিন্তু বল যখন মাটি ছেড়ে আকাশে ওঠে, ফ্রি-কিকের জাদুতে তখন পাল্লা ভারী মেসির। শেষ ১০০ ম্যাচে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে তাঁর গোল ৯টি। রোনালদোর মাত্র একটি।

হ্যাটট্রিকেও একই চিত্র। মেসি পাঁচবার তিন গোলের কীর্তি গড়েছেন, রোনালদোর হ্যাটট্রিক নেই!

রোনালদোর গল্পটা যেন এখন সংখ্যার সঙ্গে এক দৌড়। প্রতিটি গোল তাকে নিয়ে যাচ্ছে ১০০০-এর আরও কাছে। আর মেসির গল্পটা হয়ে উঠছে গোলের বাইরে আরও অনেক কিছু-গোল বানানো, ফ্রি-কিকে ম্যাচ বদলে দেওয়া, সতীর্থকে সামনে এগিয়ে দেওয়া এবং একই সঙ্গে নিজেও নিয়মিত স্কোর করা।

সাম্প্রতিক ট্রফির তাকেও অবশ্য দুজনের পাল্লা সমান। মেসি জিতেছেন ২০২৪ সালের এমএলএস সাপোর্টার্স শিল্ড ও ২০২৫ সালের এমএলএস কাপ। রোনালদোর সাম্প্রতিক সাফল্যের মধ্যে রয়েছে ২০২৫-২৬ মৌসুমের সৌদি প্রো লিগ এবং ২০২৫ উয়েফা নেশনস লিগ।

তাই শেষ অধ্যায়ে এসে প্রশ্নটা আর শুধু ‘কে বেশি গোল করেছেন’-এমন সরল জায়গায় আটকে নেই। রোনালদো যেখানে নিজের ক্যারিয়ারের শেষ বড় ব্যক্তিগত মিশন হিসেবে ১০০০ গোলের দরজায় কড়া নাড়ছেন, মেসি সেখানে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে ক্লাব ফুটবলে নিজের শেষ জাদুর অধ্যায় লিখছেন।

একজনের চোখে সামনে শুধু ২১টি গোলের দূরত্ব। অন্যজনের শেষ ১০০ ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে, গোলের পাশাপাশি খেলাটাকেই প্রভাবিত করার দৌড়ে তিনি অনেকটাই এগিয়ে।

দুই কিংবদন্তির গল্প তাই শেষের দিকে এসে আরও ভিন্ন হয়ে গেছে। রোনালদো ছুটছেন একটি ঐতিহাসিক সংখ্যার দিকে, আর মেসি যেন ছুটছেন শেষবারের মতো নিজের ফুটবলটাকে আরও একটু উপভোগ করার দিকে!

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

শেষ লড়াইয়ে মেসি-রোনালদোর গল্প আলাদা

আপডেট সময় : ১২:৪৪:৩৬ অপরাহ্ন, রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একজনের সামনে আরেকটি অসম্ভব মাইলফলক। অন্যজন যেন ধীরে ধীরে গুছিয়ে নিচ্ছেন বিদায়ের শেষ দৃশ্যপট! লিওনেল মেসি আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সেই দীর্ঘ দ্বৈরথ এখন ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বয়সের ভার তাদের গোলের ক্ষুধাকে থামাতে পারেনি।

বরং শেষ ১০০ ম্যাচের পরিসংখ্যান খুললে দেখা যায়, দুজনের গল্প এখন আর এক নয়!

রোনালদো ছুটছেন একটি সংখ্যার পেছনে-১০০০ ক্যারিয়ার গোল। বয়স ৪১ পেরিয়েও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেননি পর্তুগিজ মহাতারকা। তার ক্যারিয়ার গোল এখন ৯৭৯। বহুল কাঙ্ক্ষিত চার অঙ্কের মাইলফলক থেকে দূরে আর মাত্র ২১ গোল!

মেসির সামনে অবশ্য এখন আর এমন কোনো সংখ্যার শিকার নেই। গত মাসের শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। তার সমস্ত মনোযোগ এখন ইন্টার মায়ামিকে ঘিরে। আর শেষ ১০০ ম্যাচের হিসাব বলছে, এই সময়ে গোল করার পাশাপাশি ম্যাচকে প্রভাবিত করার জায়গায় মেসি তৈরি করেছেন বিশাল ব্যবধান।

ক্লাব ও জাতীয় দলের সর্বশেষ ১০০ ম্যাচে মেসির গোল ৮৬টি। রোনালদোর ৮০। ব্যবধান মাত্র ছয়। এই জায়গায় লড়াইটা এখনও যথেষ্ট কাছাকাছি। কিন্তু গোলের পর যখন প্রশ্ন আসে সতীর্থকে দিয়ে গোল করানোর, তখনই যেন দুই তারকার মাঝখানে তৈরি হয় বড় এক দেয়াল।

মেসির অ্যাসিস্ট ৪৮টি। রোনালদোর মাত্র ৭টি! শেষ ১০০ ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে মেসির সরাসরি গোল-অবদান ১৩৪টি। রোনালদোর ৮৭। গোলের ব্যবধান যেখানে ছয়, সেখানে মোট গোল-অবদানের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৪৭-এ। এটাই শেষ অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় পরিসংখ্যানগত গল্প।

গোল করার গতিতেও মেসি সামান্য এগিয়ে। একটি গোল করতে আর্জেন্টাইন তারকার গড়ে লেগেছে ৯৭ মিনিট। রোনালদোর লেগেছে ১০৪ মিনিট। পেনাল্টি বাদ দিলে ব্যবধান আরও বড়, মেসি প্রতি ১০৩ মিনিটে একটি গোল করেছেন! রোনালদোর ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়েছে ১৩৯ মিনিট।

আর গোল কিংবা অ্যাসিস্ট-যেকোনো একটি দিয়ে ম্যাচে সরাসরি প্রভাব রাখার হিসাবেও মেসির এগিয়ে থাকার চিত্র পরিষ্কার। গড়ে প্রতি ৬২ মিনিটে একটি গোল-অবদান রেখেছেন তিনি। রোনালদোর ক্ষেত্রে সময়টি ৯৬ মিনিট।

তবে গল্পের অন্য প্রান্তে রোনালদোর শক্তির জায়গাটিও স্পষ্ট। পেনাল্টি স্পট থেকে তিনি মেসির চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। শেষ ১০০ ম্যাচে ২৬টি পেনাল্টি নিয়ে ২০টিতে গোল করেছেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। মেসি পেয়েছেন ৯টি, গোল করেছেন ৫টিতে।

কিন্তু বল যখন মাটি ছেড়ে আকাশে ওঠে, ফ্রি-কিকের জাদুতে তখন পাল্লা ভারী মেসির। শেষ ১০০ ম্যাচে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে তাঁর গোল ৯টি। রোনালদোর মাত্র একটি।

হ্যাটট্রিকেও একই চিত্র। মেসি পাঁচবার তিন গোলের কীর্তি গড়েছেন, রোনালদোর হ্যাটট্রিক নেই!

রোনালদোর গল্পটা যেন এখন সংখ্যার সঙ্গে এক দৌড়। প্রতিটি গোল তাকে নিয়ে যাচ্ছে ১০০০-এর আরও কাছে। আর মেসির গল্পটা হয়ে উঠছে গোলের বাইরে আরও অনেক কিছু-গোল বানানো, ফ্রি-কিকে ম্যাচ বদলে দেওয়া, সতীর্থকে সামনে এগিয়ে দেওয়া এবং একই সঙ্গে নিজেও নিয়মিত স্কোর করা।

সাম্প্রতিক ট্রফির তাকেও অবশ্য দুজনের পাল্লা সমান। মেসি জিতেছেন ২০২৪ সালের এমএলএস সাপোর্টার্স শিল্ড ও ২০২৫ সালের এমএলএস কাপ। রোনালদোর সাম্প্রতিক সাফল্যের মধ্যে রয়েছে ২০২৫-২৬ মৌসুমের সৌদি প্রো লিগ এবং ২০২৫ উয়েফা নেশনস লিগ।

তাই শেষ অধ্যায়ে এসে প্রশ্নটা আর শুধু ‘কে বেশি গোল করেছেন’-এমন সরল জায়গায় আটকে নেই। রোনালদো যেখানে নিজের ক্যারিয়ারের শেষ বড় ব্যক্তিগত মিশন হিসেবে ১০০০ গোলের দরজায় কড়া নাড়ছেন, মেসি সেখানে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে ক্লাব ফুটবলে নিজের শেষ জাদুর অধ্যায় লিখছেন।

একজনের চোখে সামনে শুধু ২১টি গোলের দূরত্ব। অন্যজনের শেষ ১০০ ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে, গোলের পাশাপাশি খেলাটাকেই প্রভাবিত করার দৌড়ে তিনি অনেকটাই এগিয়ে।

দুই কিংবদন্তির গল্প তাই শেষের দিকে এসে আরও ভিন্ন হয়ে গেছে। রোনালদো ছুটছেন একটি ঐতিহাসিক সংখ্যার দিকে, আর মেসি যেন ছুটছেন শেষবারের মতো নিজের ফুটবলটাকে আরও একটু উপভোগ করার দিকে!