বসুন্ধরা শুভসংঘের সেলাই মেশিন পেলেন ২০ অস্বচ্ছল নারী
- আপডেট সময় : ০৯:২৮:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 15
মরিয়ম আক্তার রিয়ার স্বপ্ন খুব বড় কিছু নয়, পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। গৌরীপুরের একটি স্থানীয় মাদরাসায় আলিম পড়ছেন তিনি।
বাবা কৃষক, মা গৃহিণী। কৃষিকাজের সীমিত আয়ে সংসারের খরচ চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের জন্য কিছু করার ইচ্ছাটা দিন দিন আরও প্রবল হয়ে উঠছিল তার।
সেই ইচ্ছার পথ দেখিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। তিন মাসের সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে রিয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি সেলাই মেশিন।
তার কাছে এটি শুধু একটি যন্ত্র নয়, বরং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর নতুন সুযোগ। পড়াশোনার পাশাপাশি সেলাইয়ের কাজ করে আয় করতে পারবেন তিনি, ভাগ করে নিতে পারবেন পরিবারের দায়িত্ব।
ছোট্ট এই মেশিনটিই হয়তো একদিন তার স্বপ্নকে আরও বড় করে তুলবে।
অন্যদিকে কাকলী রানি দাসের গল্পে সংগ্রামের অধ্যায় আরও দীর্ঘ। বাবা-মা কেউ নেই। পাঁচ ভাইবোনের সংসারে অনেকেই এখনো বেকার। অভাবের সঙ্গে প্রতিদিনের লড়াইয়ে একটি সেলাই মেশিন তার কাছে হয়ে উঠেছে নতুন আশার ঠিকানা।
কাকলীর হাতে পাওয়া মেশিনটি শুধু কাপড় সেলাই করবে না, সেলাই করবে জীবনের ছেঁড়া স্বপ্নগুলোও। ঘরে বসেই কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে, আসবে কিছু আয়। পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে সেই আয় হয়ে উঠবে বড় সহায়।
মরিয়ম ও কাকলীর গল্প আলাদা হলেও স্বপ্ন এক, অভাবের কাছে হার না মেনে নিজের হাতে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে বসুন্ধরা শুভসংঘের দেওয়া সেলাই মেশিন হয়ে উঠেছে তাদের নতুন আস্থার প্রতীক।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে গৌরীপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তিন মাসের সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে ২০ জন অস্বচ্ছল নারীর হাতে সেলাই মেশিন ও একটি করে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।
সেলিম আল রাজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংকর ঘোষ পিলু। প্রধান অতিথি ছিলেন দুই বাংলার প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান ইমদাদুল হক মিলন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) দেবাশীষ কর্মকার, গৌরীপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. হারুনুর রশিদ, গৌরীপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলী আকবর আনিছ, গৌরীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি বেগ ফারুক আহম্মদ, গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান, গৌরীপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী আব্দুল্লাহ আল আমান, সাবেক আহ্বায়ক মো. রইছ উদ্দিন, নান্দাইলের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসান কামু এবং গৌরীপুর লেখক সংঘের সাধারণ সম্পাদক পলাশ আজহার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, একজন লেখকের জীবনে সবচেয়ে বড় পুরস্কার তার পাঠক। গৌরীপুরের মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা আমার জীবনের বড় পুরস্কারগুলোর চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। বই মানুষকে ভেতর থেকে পরিবর্তন করে। বইয়ের মাধ্যমে মানুষ মানবিকতা, দেশপ্রেম এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা পায়।
তিনি বলেন, শিশুদের বইবিমুখ হওয়ার জন্য শুধু তাদের দায়ী না করে অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।
নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু একটি সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া নয়, এর মাধ্যমে তাদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে একজন নারী নিজের পরিবারের জন্য যেমন আয় করতে পারেন, তেমনি সমাজের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকার বলেন, আজ অসচ্ছল নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। একটি সেলাই মেশিন শুধু একটি যন্ত্র নয়, একজন নারীর জন্য এটি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর, পরিবারের পাশে থাকার এবং ভবিষ্যৎকে নতুনভাবে গড়ে তোলার একটি সুযোগ। প্রশিক্ষণের পর তাদের হাতে মেশিন তুলে দেওয়া হয়েছে, এটি উদ্যোগটিকে আরও অর্থবহ করেছে।
পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলী আকবর আনিছ বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ ও বসুন্ধরা শুভসংঘের এই আয়োজনটি সত্যিই ভিন্নধর্মী। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নামে অনেক আয়োজন হয়, কিন্তু এখানে যারা সহযোগিতা পাচ্ছেন, তারা প্রশিক্ষণসহ এমন একটি উপকরণ পাচ্ছেন, যা তাদের নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করবে। আজ এতগুলো অসহায় নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হচ্ছে, এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
গৌরীপুর থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। একটি সেলাই মেশিন শুধু একটি যন্ত্র নয়, এটি একজন নারীর আত্মনির্ভরতার হাতিয়ার। এর মাধ্যমে তারা ঘরে বসেই কাজ করে আয় করতে পারবেন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন। নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে এমন উদ্যোগ সমাজের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।























‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি জবাব চাই’