জাপানে জমকালো আয়োজনে শুরু হলো ২০তম এশিয়ান গেমস
- আপডেট সময় : ১১:১৫:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 10
নানা চড়াই-উতরাই ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে জাপানের নাগোয়া শহরের পালোমা মিজু স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠেছে ২০তম এশিয়ান গেমসের। জাপানের সম্রাট নারুহিতো আনুষ্ঠানিকভাবে গেমসের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অলিম্পিকের চেয়েও বেশি সংখ্যক অ্যাথলেটের অংশ নেয়া এই বহুমাত্রিক ক্রীড়া আসরে দেয়া হয়েছে ঐক্যের বার্তা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় বিকেলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সভাপতি কার্স্টি কভেন্ট্রির পাশে আসন গ্রহণের সময় জাপানের সম্রাট ও সম্রাজ্ঞীকে সম্মানজনক অভ্যর্থনা জানানো হয়। দুই ঘন্টার আয়োজনে জাপানের কৃষ্টি-সংষ্কৃতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে প্রস্তুতি পর্বে টিকিট বিক্রির খবর থাকলেও ৩০ হাজার ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামের অনেক আসন ফাঁকা ছিল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মুল আকর্ষন ছিল অংশগ্রহনকারী দেশগুলোর এ্যাথলেট ও কর্মকর্তাদের মার্চ পাস্টের আয়োজনকে ঘিড়ে। উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে সকলেই নিজ নিজ দেশের এ্যাথলেটদের স্টেডিয়ামে আগমনে হয়েছেন উচ্ছসিত। বিভিন্ন গেমসে বিশেষ করে অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জয়ী জাপানীজ সাবেক এ্যাথলেটরা এশিয়ান অলিম্পিক কাউন্সিলের (ওসিএ) পতাকা বহন করে নিয়ে আসেন। গেমসের মশালও বহন করেছেন বিভিন্ন সময় অলিম্পিকে স্বর্ণপদকজয়ী সাবেক এ্যাথলেটরা।
ইংরেজী বর্ণমালার ক্রমানুসারে বাংলাদেশ স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে আফগানিস্তান ও বাহরাইনের পর তিন নম্বরে। বাংলাদেশের শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকী ও কারাতেকা হুমায়রা আক্তার প্রিয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন। এবারের গেমসের ৪৩টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে বাংলাদেশ ২২টিতে অংশগ্রহণ করছে । এ্যাথলেট ও কর্মকর্তা মিলিয়ে প্রায় আড়াইশ জনের কন্টিনজেন্ট বাংলাদেশের।
নাগোয়া ও আইচি প্রিফেকচারে আয়োাজিত এই আসরে সাতটি খেলায় ২০২৮ অলিম্পিকের জায়গা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। অংশ নিচ্ছেন বিশ্বখ্যাত তারকা ও দ্রুত উঠে আসা প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা। তবে গেমসের আগে ধারাবাহিক নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল আয়োজনটি। ১১ হাজারের বেশি অ্যাথলেট ও ৬ হাজার কর্মকর্তা আয়োজকদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেন। সবাইকে থাকার ব্যবস্থা করতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হয়।
গত সপ্তাহে রেকর্ড বৃষ্টিতে নাগোয়ার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। এর মধ্যে পূর্ব জাপানের দিকে এগিয়ে আসছে একটি টাইফুন, যা আগামী কয়েক দিনে আরও বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে। অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া (ওসিএ) বলেছে, ৪৫টি দেশ ও অঞ্চল অংশ নেওয়া মহাদেশের এই প্রধান ক্রীড়া আসরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠান শুরুর আগে ওসিএ সভাপতি শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল-থানি বলেন, “উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বার্তা হলো, এশিয়ার বিভিন্ন সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সংঘাতের বিরুদ্ধে এশিয়ার ঐক্য দেখানো ও তুলে ধরা।”
২০২৩ সালে কোভিডের কারণে বিলম্বিত সর্বশেষ হাংঝু এশিয়ান গেমসে নিজেদের মাটিতে ২০১টি স্বর্ণসহ মোট ৩৮৩টি পদক জিতেছিল চীন। এবারও পদক তালিকায় শীর্ষে থাকার প্রত্যাশা তাদের। ১৯৫১ সালে শুরু হওয়া এশিয়ান গেমসে বরাবরের মতোই অ্যাথলেটিকস ও সাঁতারের মতো অলিম্পিকের গুরুত্বপূর্ণ খেলাগুলোর পাশাপাশি সেপাক টাকরো ও কাবাডির মতো আঞ্চলিক জনপ্রিয় খেলাও থাকবে। থাকছে ই-স্পোর্টস, ব্রেকড্যান্সিং ও বিএমএক্স সাইক্লিং। প্যাডেল ও এমএমএ প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে যুক্ত হয়েছে।
৪০টিরও বেশি খেলায় এশিয়ার সেরা অ্যাথলেটরা প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন। আসর শেষ হবে ৪ অক্টোবর। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মত জাপানের এশিয়ান গেমস আয়োজিত হচ্ছে। এর আগে ১৯৫৮ সালে টোকিও ও ১৯৯৪ সালে হিরোশিমায় এই গেমস অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বাস্কেটবল, ফুটবল ও ক্রিকেটসহ কয়েকটি খেলা ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। রোববার সকালে পুরুষদের ব্যক্তিগত ট্রায়াথলনের মাধ্যমে শুরু হবে পদকের লড়াই।























‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি জবাব চাই’