ঢাকা ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে আসা বিমানকে আকাশসীমায় ঢুকতে দেয়নি পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৩৭:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 2

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম আনার নির্ধারিত চালান আটকে গেছে। আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা থাকা পারমাণবিক জ্বালানিবাহী কার্গো উড়োজাহাজটি নির্ধারিত সময়ে আসতে পারেনি।

বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, জ্বালানি বহনকারী উড়োজাহাজকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে অনুমতি না পাওয়ার কারণ এখনো জানা যায়নি।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে মন্ত্রী বলেন, ইউরেনিয়ামবাহী উড়োজাহাজটি ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি আনা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এএনআইকে বলেন, উড়োজাহাজটি গ্রহণের জন্য বিমানবন্দরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। পরে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের যোগাযোগ কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত আকাশপথ ব্যবহারের ছাড়পত্র পাওয়া যায়নি। তবে কোন দেশ ছাড়পত্র দেয়নি, সে বিষয়ে যুগ্ম সচিব নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।

মন্ত্রী জানান, নতুন সময়সূচিতে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানি পাঠানোর কথা বলেছে রাশিয়া। এ বিষয়ে রোসাটমের বক্তব্য জানতে চেয়েছে এএনআই; প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত সংস্থাটির জবাব পাওয়া যায়নি।

এদিকে নির্ধারিত রুটে ইউরেনিয়াম পাঠাতে না পারায় এখন বিকল্প রুট খুঁজছে রাশিয়া। নতুন পথ ব্যবহার করে পারমাণবিক জ্বালানির চালান বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে রোসাটমের সঙ্গে ইমেইলে যোগাযোগ করেছিল এএনআই। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থাটির কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি নির্মিত হচ্ছে।

রূপপুর কেন্দ্রে তৃতীয় প্রজন্মের দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। দুটি ইউনিট চালু হলে কেন্দ্রটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে রাশিয়ার নভোসিবির্স্ক কেমিক্যাল কনসেন্ট্রেটস প্ল্যান্টে তৈরি রূপপুরের প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। সে সময় ১৬৪টি ফ্রেশ ফুয়েল অ্যাসেম্বলি নিয়ে একটি কার্গো বিমান সরাসরি ঢাকায় আসে।

পরে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় সুরক্ষিত গ্রিন করিডোরের মাধ্যমে ওই পারমাণবিক জ্বালানি পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তা হস্তান্তর করা হয়। তথ্যসূত্র: এএনআই

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে আসা বিমানকে আকাশসীমায় ঢুকতে দেয়নি পাকিস্তান

আপডেট সময় : ০১:৩৭:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম আনার নির্ধারিত চালান আটকে গেছে। আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা থাকা পারমাণবিক জ্বালানিবাহী কার্গো উড়োজাহাজটি নির্ধারিত সময়ে আসতে পারেনি।

বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, জ্বালানি বহনকারী উড়োজাহাজকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে অনুমতি না পাওয়ার কারণ এখনো জানা যায়নি।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে মন্ত্রী বলেন, ইউরেনিয়ামবাহী উড়োজাহাজটি ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি আনা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এএনআইকে বলেন, উড়োজাহাজটি গ্রহণের জন্য বিমানবন্দরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। পরে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের যোগাযোগ কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত আকাশপথ ব্যবহারের ছাড়পত্র পাওয়া যায়নি। তবে কোন দেশ ছাড়পত্র দেয়নি, সে বিষয়ে যুগ্ম সচিব নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।

মন্ত্রী জানান, নতুন সময়সূচিতে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানি পাঠানোর কথা বলেছে রাশিয়া। এ বিষয়ে রোসাটমের বক্তব্য জানতে চেয়েছে এএনআই; প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত সংস্থাটির জবাব পাওয়া যায়নি।

এদিকে নির্ধারিত রুটে ইউরেনিয়াম পাঠাতে না পারায় এখন বিকল্প রুট খুঁজছে রাশিয়া। নতুন পথ ব্যবহার করে পারমাণবিক জ্বালানির চালান বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে রোসাটমের সঙ্গে ইমেইলে যোগাযোগ করেছিল এএনআই। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থাটির কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি নির্মিত হচ্ছে।

রূপপুর কেন্দ্রে তৃতীয় প্রজন্মের দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। দুটি ইউনিট চালু হলে কেন্দ্রটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে রাশিয়ার নভোসিবির্স্ক কেমিক্যাল কনসেন্ট্রেটস প্ল্যান্টে তৈরি রূপপুরের প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। সে সময় ১৬৪টি ফ্রেশ ফুয়েল অ্যাসেম্বলি নিয়ে একটি কার্গো বিমান সরাসরি ঢাকায় আসে।

পরে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় সুরক্ষিত গ্রিন করিডোরের মাধ্যমে ওই পারমাণবিক জ্বালানি পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তা হস্তান্তর করা হয়। তথ্যসূত্র: এএনআই