ঢাকা ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মরিয়মকে ঘুমাতে দেওয়া হতো ফ্ল্যাটের বারান্দা বা ব্যালকনিতে

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:১৫:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 5

বিয়ের পর ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে নিয়ে আসা হলেও স্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হতো না সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে। গাজী নজরুল প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে থাকতেন। আর মরিয়মকে ঘুমাতে দেওয়া হতো ফ্ল্যাটের বারান্দা বা ব্যালকনিতে।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন এভাবে মরিয়মকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এর ফলে তিনি আত্মহত্যা করেন।

দুই দফার রিমান্ড শেষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) গাজী নজরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদনে এসব কথা লেখেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, “রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গাজী নজরুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার কাছে মামলার ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।”

আবেদনে বলা হয়, গাজী নজরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, মামলার বাদী তার পূর্বপরিচিত ও আত্মীয়। বাদীর মেয়েই ভুক্তভোগী মরিয়ম। ঢাকায় এলে তিনি বিভিন্ন সময় বাদীর বাসায় রাতযাপন করতেন এবং বাদীকে আর্থিকভাবেও সহযোগিতা করতেন।

আবেদনে আরও বলা হয়, বিয়ের পর মরিয়মকে ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে থাকার সুযোগ দেন গাজী নজরুল ইসলাম। তবে স্ত্রী হিসেবে মরিয়মকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হতো না বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

আসামির বক্তব্যের বরাত দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, গাজী নজরুল ইসলাম শয়নকক্ষে প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন এবং মরিয়মকে ফ্ল্যাটের বারান্দা বা ব্যালকনিতে রাতযাপন করতে দেওয়া হতো।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন এভাবে থাকার পর মরিয়মকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এর ফলে তিনি আত্মহত্যা করেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে আদালতকে জানানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও জানান, বাদীর বাসায় আসা-যাওয়ার সূত্রে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের সুসম্পর্ক তৈরি হয়। ওই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৬ জুন তিনি মরিয়মকে মৌখিকভাবে বিয়ে করেন এবং পরবর্তীতে ওই বিয়ে রেজিস্ট্রি করে কাবিননামা করা হয় বলে তদন্ত কর্মকর্তাকে জানান গাজী নজরুল।

নিউজটি শেয়ার করুন

মরিয়মকে ঘুমাতে দেওয়া হতো ফ্ল্যাটের বারান্দা বা ব্যালকনিতে

আপডেট সময় : ১১:১৫:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিয়ের পর ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে নিয়ে আসা হলেও স্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হতো না সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে। গাজী নজরুল প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে থাকতেন। আর মরিয়মকে ঘুমাতে দেওয়া হতো ফ্ল্যাটের বারান্দা বা ব্যালকনিতে।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন এভাবে মরিয়মকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এর ফলে তিনি আত্মহত্যা করেন।

দুই দফার রিমান্ড শেষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) গাজী নজরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদনে এসব কথা লেখেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, “রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গাজী নজরুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার কাছে মামলার ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।”

আবেদনে বলা হয়, গাজী নজরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, মামলার বাদী তার পূর্বপরিচিত ও আত্মীয়। বাদীর মেয়েই ভুক্তভোগী মরিয়ম। ঢাকায় এলে তিনি বিভিন্ন সময় বাদীর বাসায় রাতযাপন করতেন এবং বাদীকে আর্থিকভাবেও সহযোগিতা করতেন।

আবেদনে আরও বলা হয়, বিয়ের পর মরিয়মকে ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে থাকার সুযোগ দেন গাজী নজরুল ইসলাম। তবে স্ত্রী হিসেবে মরিয়মকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হতো না বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

আসামির বক্তব্যের বরাত দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, গাজী নজরুল ইসলাম শয়নকক্ষে প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন এবং মরিয়মকে ফ্ল্যাটের বারান্দা বা ব্যালকনিতে রাতযাপন করতে দেওয়া হতো।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন এভাবে থাকার পর মরিয়মকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এর ফলে তিনি আত্মহত্যা করেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে আদালতকে জানানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও জানান, বাদীর বাসায় আসা-যাওয়ার সূত্রে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের সুসম্পর্ক তৈরি হয়। ওই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৬ জুন তিনি মরিয়মকে মৌখিকভাবে বিয়ে করেন এবং পরবর্তীতে ওই বিয়ে রেজিস্ট্রি করে কাবিননামা করা হয় বলে তদন্ত কর্মকর্তাকে জানান গাজী নজরুল।