ইতালিতে স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধ, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মুসলিমদের ক্ষোভ

- আপডেট সময় : ১২:২৭:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 0
ইতালির স্কুলে ছাত্রীদের বোরকা ও নিকাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার। গত ২০ সেপ্টেম্বর মেলোনি তার দল ন্যাশনালিস্ট কনজারভেটিভ ব্রাদার্স অব ইতালি (এফডিআই)-এর এক সমাবেশে এই প্রস্তাব তুলে ধরে একে নারী সমতার পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেন।
মেলোনির মতে, স্কুলে মুখ খোলা রেখেই যেতে হবে এবং কোনো তথাকথিত ঐতিহ্যের নামে তরুণীদের মুখ লুকিয়ে রাখতে বাধ্য করা যাবে না। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ইতালির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনসার তথ্য অনুযায়ী, পুরো দেশটিতে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ জন নারী শিক্ষার্থী এমন মুখ ঢাকা পোশাক ব্যবহার করেন। তাই মুসলিম নাগরিকদের মতে, এটি বাস্তব কোনো সমস্যা নয়, বরং একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে কৃত্রিম বিতর্ক তৈরির অপচেষ্টা মাত্র।
শিক্ষক ও মুসলিম নেতারা সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘অমানবিক’ এবং ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। মিলানের একটি বিদ্যালয়ের ৫৮ বছর বয়সী গণিত শিক্ষিকা মুলায়কা লরা এনরিয়েলো জানান, দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি কোনো শিক্ষার্থীকে পুরো মুখ ঢাকা পোশাক পরতে দেখেননি। অন্যদিকে মিলানের আল-ওয়াহিদ মসজিদের ইমাম ও ইতালিয়ান ইসলামিক রিলিজিয়াস কমিউনিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া পাল্লাভিচিনি এই উদ্যোগকে ‘বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজের অধ্যাপক রেনাতা পেপিচেল্লি এই ঘটনাকে ১৯৫৮ সালে আলজেরিয়ায় ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনামলের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যেখানে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে নারীদের প্রকাশ্যে পর্দা খুলতে বাধ্য করা হয়েছিল। তাঁর মতে, নারীর পর্দা এখনও একটি রাজনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষেত্র হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে।
যদিও সরকারি আদেশে সরাসরি ‘বোরকা’ বা ‘নিকাব’ শব্দটি উল্লেখ করা হয়নি, তবে বলা হয়েছে স্কুলে পরিচয় শনাক্তে বাধা সৃষ্টিকারী কোনো পোশাক পরা যাবে না। বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক নিকো তন্তি জানান, ইতালির আইনে আগে থেকেই পরিচয় গোপনকারী পোশাকের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে, তবে ধর্মীয় চর্চাকে প্রায়শই বৈধ কারণ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রস্তাবটির পেছনে মেলোনির সূক্ষ্ম রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ কাজ করছে। ২০২৭ সালের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে মেলোনি বর্তমানে চরম ডানপন্থি দলগুলোর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে রয়েছেন, বিশেষ করে সাবেক জেনারেল রবার্তো ভানাচ্চির ন্যাশনাল ফিউচার পার্টির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা তাকে চাপে ফেলেছে। লুইস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লোরেঞ্জো ক্যাস্তেলানির মতে, এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে মেলোনি মূলত নিজের কঠোর জাতীয়তাবাদী অবস্থান তুলে ধরে কট্টরপন্থি ভোটারদের সমর্থন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।























