ঢাকা ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি বিমানবন্দরে হুথি হামলায় নিহত ৩, পাল্টা ৮০ সামরিক স্থাপনায় হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৫১:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন বলে বুধবার দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ইয়েমেনে ইরান-ঘনিষ্ঠ হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেই এসব হামলার ঘটনা ঘটল।

এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানায়, সৌদি রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন; এছাড়া আবহা বিমানবন্দরের স্থাপনায় হামলায় দুজন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলা দুটির একটি বুধবার এবং অন্যটি মঙ্গলবার হয়েছে; তবে কোন দিন কোন হামলাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে তারা সুনির্দিষ্ট কিছু বলেনি।

হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করে বলেছে, এই হামলাগুলোর জন্য “শাস্তি পেতে হবে”। বুধবার গভীর রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে জোটটি জানায় যে, তারা সাদা (Saada), হোদেইদাহ (Hodeidah), জাওফ (Jawf) ও মারিব (Marib) অঞ্চলে হুথিদের ৮০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

বুধবার বিমান চলাচল অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবেই সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে এসব হামলা চালানো হয়।

দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার দিনের শুরুর দিকে হুথিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দিয়ে এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালায়।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, কায়রো থেকে আসা একটি বিমানের অবতরণের মাত্র কয়েক মিনিট আগে রানওয়ের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হুথিদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ইয়েমেনের বিভিন্ন অংশের জন্য এই বিমানবন্দরটিই প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশপথ হিসেবে কাজ করে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের লড়াই মূলত বাব আল-মান্দেব প্রণালীর আশপাশের এলাকাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্য সীমিত হয়ে পড়ায় জ্বালানি রপ্তানির ক্ষেত্রে এই নৌপথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই সপ্তাহে, সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান সহায়তায় ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী একটি পাল্টা অভিযান শুরু করেছে। এর লক্ষ্য হলো প্রণালীর কাছে এবং মোচা শহরের আশপাশের কৌশলগত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধার করা, যা গত সেপ্টেম্বরে হুতিরা দখল করে নিয়েছিল; তবে তাদের এই অগ্রযাত্রা কতটা স্থায়ী হবে, তা এখনো অস্পষ্ট।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বৃহত্তর সংঘাতের রেশ হিসেবে ছড়িয়ে পড়া এই লড়াই ইয়েমেনের দীর্ঘ ১২ বছরের জটিল যুদ্ধকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। এই যুদ্ধ দেশটিতে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করেছে এবং আরব বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশটিকে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলেছে। ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)-এর তথ্যমতে, লড়াইয়ের সর্বশেষ ধাপ শুরুর পর থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

আইওএম-এর মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেছেন, “মানুষ জীবন বাঁচাতে ছুটছে কিন্তু নিরাপদ কোনো আশ্রয় খুঁজে পাচ্ছে না।” খাদ্য ও আশ্রয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আরও অর্থায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। লড়াইয়ে শত শত মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগ উভয় পক্ষই করেছে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় প্রতি চারটি পরিবারের মধ্যে তিনটিই অনাহারের শিকার হচ্ছে।

বুধবার সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে যে, তারা সৌদি রাজধানী রিয়াদের উত্তরে হুথিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। জোটটি জানায়, তারা হুথি-নিয়ন্ত্রিত সানা এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী প্ল্যাটফর্মটির ওপর নজর রাখছে এবং সেটি ধ্বংস করবে; তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, গোষ্ঠীটি বেশ কয়েকটি ড্রোন দিয়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

এই প্রণালীর ওপর হুথিদের কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ জাহাজ চলাচল বা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে; আর হুথিদের প্রতিহত করতে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইছে। বুধবার দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে তুরস্ক মূলত প্রতিরক্ষামূলক ও কারিগরি সহায়তা পাঠাচ্ছে। ন্যাটো সদস্য তুরস্ক এবং পাকিস্তান তাদের নবগঠিত জোটের আওতায় যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সৌদি বিমানবন্দরে হুথি হামলায় নিহত ৩, পাল্টা ৮০ সামরিক স্থাপনায় হামলা

আপডেট সময় : ১১:৫১:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন বলে বুধবার দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ইয়েমেনে ইরান-ঘনিষ্ঠ হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেই এসব হামলার ঘটনা ঘটল।

এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানায়, সৌদি রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন; এছাড়া আবহা বিমানবন্দরের স্থাপনায় হামলায় দুজন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলা দুটির একটি বুধবার এবং অন্যটি মঙ্গলবার হয়েছে; তবে কোন দিন কোন হামলাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে তারা সুনির্দিষ্ট কিছু বলেনি।

হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করে বলেছে, এই হামলাগুলোর জন্য “শাস্তি পেতে হবে”। বুধবার গভীর রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে জোটটি জানায় যে, তারা সাদা (Saada), হোদেইদাহ (Hodeidah), জাওফ (Jawf) ও মারিব (Marib) অঞ্চলে হুথিদের ৮০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

বুধবার বিমান চলাচল অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবেই সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে এসব হামলা চালানো হয়।

দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার দিনের শুরুর দিকে হুথিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দিয়ে এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালায়।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, কায়রো থেকে আসা একটি বিমানের অবতরণের মাত্র কয়েক মিনিট আগে রানওয়ের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হুথিদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ইয়েমেনের বিভিন্ন অংশের জন্য এই বিমানবন্দরটিই প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশপথ হিসেবে কাজ করে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের লড়াই মূলত বাব আল-মান্দেব প্রণালীর আশপাশের এলাকাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্য সীমিত হয়ে পড়ায় জ্বালানি রপ্তানির ক্ষেত্রে এই নৌপথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই সপ্তাহে, সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান সহায়তায় ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী একটি পাল্টা অভিযান শুরু করেছে। এর লক্ষ্য হলো প্রণালীর কাছে এবং মোচা শহরের আশপাশের কৌশলগত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধার করা, যা গত সেপ্টেম্বরে হুতিরা দখল করে নিয়েছিল; তবে তাদের এই অগ্রযাত্রা কতটা স্থায়ী হবে, তা এখনো অস্পষ্ট।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বৃহত্তর সংঘাতের রেশ হিসেবে ছড়িয়ে পড়া এই লড়াই ইয়েমেনের দীর্ঘ ১২ বছরের জটিল যুদ্ধকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। এই যুদ্ধ দেশটিতে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করেছে এবং আরব বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশটিকে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলেছে। ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)-এর তথ্যমতে, লড়াইয়ের সর্বশেষ ধাপ শুরুর পর থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

আইওএম-এর মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেছেন, “মানুষ জীবন বাঁচাতে ছুটছে কিন্তু নিরাপদ কোনো আশ্রয় খুঁজে পাচ্ছে না।” খাদ্য ও আশ্রয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আরও অর্থায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। লড়াইয়ে শত শত মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগ উভয় পক্ষই করেছে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় প্রতি চারটি পরিবারের মধ্যে তিনটিই অনাহারের শিকার হচ্ছে।

বুধবার সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে যে, তারা সৌদি রাজধানী রিয়াদের উত্তরে হুথিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। জোটটি জানায়, তারা হুথি-নিয়ন্ত্রিত সানা এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী প্ল্যাটফর্মটির ওপর নজর রাখছে এবং সেটি ধ্বংস করবে; তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, গোষ্ঠীটি বেশ কয়েকটি ড্রোন দিয়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

এই প্রণালীর ওপর হুথিদের কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ জাহাজ চলাচল বা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে; আর হুথিদের প্রতিহত করতে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইছে। বুধবার দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে তুরস্ক মূলত প্রতিরক্ষামূলক ও কারিগরি সহায়তা পাঠাচ্ছে। ন্যাটো সদস্য তুরস্ক এবং পাকিস্তান তাদের নবগঠিত জোটের আওতায় যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।