ঢাকা ১১:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে সংসদে ও রাজপথে আন্দোলন চলবে: গোলাম পরওয়ার

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৫:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 4

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংসদে এবং সংসদের বাইরে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের আন্দোলন চলবে। এ আন্দোলন সফল করতে জাতীয় ইউনিয়ন, ক্রাফট ফেডারেশন ও সেক্টর দায়িত্বশীলদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী ‘জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন কর্মশালা-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় পর্যায়ে শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ১৯৬৮ সালের ২৩ মে তৎকালীন পাকিস্তানের শ্রম আইন অনুযায়ী ইসলামী আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ করা, তাদের মধ্যে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেয়া এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, ন্যায্য দাবি ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করাই ছিল সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, কলকারখানা, মিল ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শোষণ-বঞ্চনা দূর করা এবং জীবনমান উন্নয়নে ট্রেড ইউনিয়নের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিকদের দাবি আদায়ে আইনসম্মত ও নিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়নের মাধ্যমে সংগঠিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাবের পরিবর্তে শ্রমিক সংগঠনগুলোকে শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

ফেডারেশনের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের অধীনে এক হাজারের বেশি ট্রেড ইউনিয়ন রয়েছে। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি তাদের নৈতিক ও আদর্শিকভাবে গড়ে তোলাও সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য।

শ্রমিক নেতাদের উদ্দেশে গোলাম পরওয়ার বলেন, শ্রমিক সেক্টরের নেতৃত্ব শ্রমিকদের মধ্য থেকেই গড়ে তুলতে হবে। তাদের বাস্তব সমস্যা ও কর্মপরিবেশ সম্পর্কে জানতে হবে। ট্রেড ইউনিয়ন পরিচালনা, মালিকপক্ষের সঙ্গে দরকষাকষি এবং শ্রমিকদের পক্ষে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য নেতাদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে শ্রমিক নেতাদের নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। একই সঙ্গে ইসলামী আদর্শ, নৈতিকতা, উন্নত চরিত্র, কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সততার চর্চা বাড়াতে হবে। এসব গুণের সমন্বয়ে শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে কার্যকর নেতৃত্ব গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে অতীতের ত্যাগ ও আদর্শ থেকে শিক্ষা নিতে হবে। শ্রমজীবী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লসকর মো. তসলিম।

কর্মশালায় বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ে আলোচনা করেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান। শ্রম আইন ও শ্রমিকদের অধিকার বিষয়ে আলোচনা করেন লেবার কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম নাসিম। পবিত্র কুরআন থেকে আলোচনা করেন আন-নাহদা ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা কামরুল হাসান শাহীন।

এ সময় ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী, কবির আহমেদ, মাস্টার শফিকুল আলম ও মুজিবুর রহমান ভূঁইয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে সংসদে ও রাজপথে আন্দোলন চলবে: গোলাম পরওয়ার

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংসদে এবং সংসদের বাইরে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের আন্দোলন চলবে। এ আন্দোলন সফল করতে জাতীয় ইউনিয়ন, ক্রাফট ফেডারেশন ও সেক্টর দায়িত্বশীলদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী ‘জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন কর্মশালা-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় পর্যায়ে শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ১৯৬৮ সালের ২৩ মে তৎকালীন পাকিস্তানের শ্রম আইন অনুযায়ী ইসলামী আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ করা, তাদের মধ্যে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেয়া এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, ন্যায্য দাবি ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করাই ছিল সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, কলকারখানা, মিল ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শোষণ-বঞ্চনা দূর করা এবং জীবনমান উন্নয়নে ট্রেড ইউনিয়নের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিকদের দাবি আদায়ে আইনসম্মত ও নিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়নের মাধ্যমে সংগঠিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাবের পরিবর্তে শ্রমিক সংগঠনগুলোকে শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

ফেডারেশনের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের অধীনে এক হাজারের বেশি ট্রেড ইউনিয়ন রয়েছে। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি তাদের নৈতিক ও আদর্শিকভাবে গড়ে তোলাও সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য।

শ্রমিক নেতাদের উদ্দেশে গোলাম পরওয়ার বলেন, শ্রমিক সেক্টরের নেতৃত্ব শ্রমিকদের মধ্য থেকেই গড়ে তুলতে হবে। তাদের বাস্তব সমস্যা ও কর্মপরিবেশ সম্পর্কে জানতে হবে। ট্রেড ইউনিয়ন পরিচালনা, মালিকপক্ষের সঙ্গে দরকষাকষি এবং শ্রমিকদের পক্ষে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য নেতাদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে শ্রমিক নেতাদের নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। একই সঙ্গে ইসলামী আদর্শ, নৈতিকতা, উন্নত চরিত্র, কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সততার চর্চা বাড়াতে হবে। এসব গুণের সমন্বয়ে শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে কার্যকর নেতৃত্ব গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে অতীতের ত্যাগ ও আদর্শ থেকে শিক্ষা নিতে হবে। শ্রমজীবী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লসকর মো. তসলিম।

কর্মশালায় বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ে আলোচনা করেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান। শ্রম আইন ও শ্রমিকদের অধিকার বিষয়ে আলোচনা করেন লেবার কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম নাসিম। পবিত্র কুরআন থেকে আলোচনা করেন আন-নাহদা ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা কামরুল হাসান শাহীন।

এ সময় ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী, কবির আহমেদ, মাস্টার শফিকুল আলম ও মুজিবুর রহমান ভূঁইয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।