হুতিদের পাশে ইরান, মিলছে গোয়েন্দা সহায়তাও: প্রতিবেদন

- আপডেট সময় : ০১:৩৪:৩৫ অপরাহ্ন, রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
ইয়েমেনের হুতিদের সৌদি আরব ও দেশটির মিত্রদের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক হামলা চালাতে সহায়তা করছে ইরান। হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে সহায়তার পাশাপাশি হুতিদের প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য ও কৌশলগত দিকনির্দেশনাও দিচ্ছে তেহরান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সৌদি আরব এবং ইয়েমেনে হুতিবিরোধী জোটের গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। এতে বলা হয়েছে, ইরানের সহায়তা হুতিদের সাম্প্রতিক সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ইয়েমেনে দ্রুত ভূখণ্ড দখলেও ভূমিকা রেখেছে।
বর্তমানে বাব আল মান্দেব প্রণালির ইয়েমেন অংশের উপকূলীয় এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে হুতিরা। এ ছাড়া সৌদি আরবের তেলবাহী ট্যাংকার, জ্বালানি স্থাপনা ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সদস্যরা ইয়েমেনের ভেতরে অবস্থান করে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার মোতায়েনে সহায়তা করেছেন। এসব সামরিক সরঞ্জাম লোহিত সাগর ও বাব আল মান্দেব প্রণালির জন্য হুমকি তৈরি করছে।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুতে হুতিরা একটি বড় সামরিক অভিযান চালায়। এ সময় বিপুলসংখ্যক যোদ্ধার পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীকে অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে দেয় তারা। অভিযানে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা এবং বাব আল মান্দেব প্রণালির আশপাশের কিছু এলাকা দখল করে নেয় গোষ্ঠীটি।
হুতিবিরোধী বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, এবারের লড়াইয়ে হুতিদের সামরিক কৌশলে আগের তুলনায় বেশি দক্ষতা দেখা গেছে। পদাতিক বাহিনীর আক্রমণের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সমন্বয় করেছে তারা। এসব ড্রোনের মধ্যে তারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত প্রথম ব্যক্তি দৃষ্টিভিত্তিক ড্রোনও ছিল, যেগুলো তন্তু অপটিক তার ব্যবহার করে পরিচালিত হয়।
হুতিবিরোধী আরেক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, আইআরজিসির সদস্যরা সম্মুখসারিতে অবস্থান করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনায় সহায়তা করেছেন।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থায় ইরান শাখার সাবেক প্রধান ড্যানি সিত্রিনোভিচ বলেন, তেহরান ও হুতিদের মধ্যে সামরিক কার্যক্রমের সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী। হুতিদের সফলতায় ইরানের বড় ধরনের স্বার্থ রয়েছে। তিনি এই সম্পর্ককে কেবল পৃষ্ঠপোষক ও নির্ভরশীল গোষ্ঠীর সম্পর্ক হিসেবে না দেখে কৌশলগত সহযোগিতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তবে হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল বুখাইতি ইয়েমেনে ইরানের সামরিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, এসব অভিযোগে তেহরানের ভূমিকা অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে এবং হুতিরা নিজেদের সামরিক সক্ষমতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা উপেক্ষা করা হচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও গত মাসে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ইরানের হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ করেন। তিনি হুতিদের সম্পূর্ণ স্বাধীন পক্ষ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, নিজেদের স্বার্থ বিবেচনা করেই তারা সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ প্যানেল ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, হুতিরা লেবানন ও ইরাকে যৌথ পরিচালনা কক্ষ প্রতিষ্ঠা করেছে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রমের সমন্বয় করা হয়।























