যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশিদের স্কলারশিপের সুযোগ

- আপডেট সময় : ০৫:৫৩:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / 51
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ ও আর্থিক সহায়তার সুযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তালিকা ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ থাকার দাবি করা হয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত সব বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি শিক্ষাস্তরেই ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পাওয়া যায়, এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়, ডিগ্রি, বিভাগ এবং শিক্ষার্থীর যোগ্যতা অনুযায়ী আর্থিক সহায়তার সুযোগ ও শর্ত আলাদা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ বলতে সাধারণত টিউশন ফি মওকুফের পাশাপাশি জীবনযাপনের জন্য নির্দিষ্ট আর্থিক সহায়তাকে বোঝানো হয়। তবে সব স্কলারশিপে একই সুবিধা থাকে না। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় শুধু টিউশন ফি মওকুফ করে, আবার কোনো প্রতিষ্ঠান আবাসন, খাবার, স্বাস্থ্যবিমা কিংবা অন্যান্য খরচের জন্যও সহায়তা দেয়। বিশেষ করে গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি প্রোগ্রামে টিউশন সহায়তার পাশাপাশি স্টাইপেন্ড পাওয়ার সুযোগ তুলনামূলক বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পারিবারিক আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় সহায়তা দেওয়া হয়। তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন ভর্তি মূল্যায়নে বিবেচিত হতে পারে। অন্যদিকে বিভিন্ন পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময় পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো এবং নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতেও স্নাতক ও গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে যোগ্য শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা, ফেলোশিপ কিংবা গবেষণা ও শিক্ষকতা সহকারীর দায়িত্বের মাধ্যমে অর্থায়ন পেতে পারেন। তবে মাস্টার্স পর্যায়ের সব প্রোগ্রাম একই ধরনের অর্থায়নের আওতায় পড়ে না।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া লস অ্যাঞ্জেলেস, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান ডিয়েগো, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান্তা বারবারা এবং ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন ম্যাডিসন উল্লেখযোগ্য। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে গবেষণাভিত্তিক স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য ফেলোশিপ, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থায়নের পরিমাণ ও যোগ্যতা সংশ্লিষ্ট বিভাগের নীতির ওপর নির্ভর করে।
স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক অ্যাট বাফেলো, সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনা, ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্ট এবং ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারেও বিভিন্ন পর্যায়ে স্কলারশিপ ও গবেষণাভিত্তিক অর্থায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মেধা, একাডেমিক ফলাফল এবং গবেষণার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় সহায়তা দেওয়া হয়। তবে ভর্তি হওয়া সব শিক্ষার্থী স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসব সুবিধা পান না।
যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়, যেমন সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি কার্বনডেল, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি কিংসভিল, টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব আরকানসাস এবং ইউনিভার্সিটি অব সিনসিনাটিতে বিভাগভিত্তিক স্কলারশিপ ও অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ থাকতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অর্থায়ন নীতি, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা এবং আবেদনের সময়সীমা যাচাই করা জরুরি।
একইভাবে আরকানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব নটর ডেম, ভার্জিনিয়া টেক, বেমিডজি স্টেট ইউনিভার্সিটি, বেইলর ইউনিভার্সিটি এবং ইস্ট টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতেও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম স্কলারশিপের তালিকায় থাকা মানেই সেখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়ার নিশ্চয়তা নয়।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের অর্থায়নের পার্থক্য বোঝা। ব্যাচেলর পর্যায়ে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মেধাভিত্তিক বা প্রয়োজনভিত্তিক স্কলারশিপ দেয়। মাস্টার্স পর্যায়ে কিছু প্রোগ্রামে আংশিক স্কলারশিপ পাওয়া গেলেও সম্পূর্ণ অর্থায়ন তুলনামূলক সীমিত হতে পারে। অন্যদিকে পিএইচডি পর্যায়ে গবেষণা ও শিক্ষকতা সহকারীর দায়িত্বের মাধ্যমে টিউশন এবং জীবনযাপনের খরচের জন্য সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণত একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গবেষণার অভিজ্ঞতা বিবেচনা করা হয়। কিছু প্রোগ্রামে জিআরই বা অন্যান্য পরীক্ষার স্কোর প্রয়োজন হতে পারে, আবার অনেক প্রোগ্রামে এসব পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা নেই। তাই প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের ভর্তি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
স্কলারশিপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আর্থিক সহায়তার মেয়াদ। কোনো প্রোগ্রামে এক বছরের জন্য সহায়তা দেওয়া হয়, আবার কিছু পিএইচডি প্রোগ্রামে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একাধিক বছরের অর্থায়নের ব্যবস্থা থাকে। অফার লেটারে টিউশন, স্টাইপেন্ড, স্বাস্থ্যবিমা, অতিরিক্ত ফি এবং অর্থায়নের মেয়াদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে কি না, তা দেখে নেওয়া প্রয়োজন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় একই প্রতিষ্ঠানের নাম একাধিকবার এসেছে এবং কয়েকটি ক্রমিক নম্বর অনুপস্থিত রয়েছে। ফলে তালিকাটিকে ২৮টি পৃথক বিশ্ববিদ্যালয়ের যাচাইকৃত পূর্ণাঙ্গ তালিকা হিসেবে উপস্থাপন করা যথাযথ নয়। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের সব ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ রয়েছে বলেও নিশ্চিত হওয়া যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের চেয়ে নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের অর্থায়ন ব্যবস্থা যাচাই করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল অ্যাডমিশন, ফিন্যান্সিয়াল এইড এবং গ্র্যাজুয়েট ফান্ডিং বিভাগের তথ্য দেখে আবেদন করলে স্কলারশিপের প্রকৃত সুযোগ, শর্ত এবং সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব।























