ঢাকা ১০:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাড়ছে অটোরিকশা: উৎপাদন বন্ধে নেই নজর, আমদানিতে ছাড়

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৪৭:২৯ অপরাহ্ন, রোববার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 60

রাজধানীর জুড়ে প্রতিদিন ব্যাঙের ছাতার মত বাড়ছে অটোরিকশা। নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালার বাস্তবায়নে যেমন ভ্রুক্ষেপ নেই কর্তৃপক্ষের, তেমনি অটোরিকশার উৎপাদন বন্ধেও নেই নজর। মুখে বন্ধের বুলি আওড়ালেও অটোরিকশার সরঞ্জাম আমদানির অনুমতি দিয়েছে রেখেছে সরকার। তিন চাকার এই বাহনে বাড়ছে নিত্য দুর্ঘটনা। এখনি যার উৎপাদন বন্ধের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।

৭ ডিসেম্বরের, ডেমড়া এলাকায় অটোরিকশায় পিষ্ট হয় কিশোরগঞ্জের বাবুলের জীবন। জীবনের মাঝপথে এসে প্রিয়তমকে হারিয়ে স্ত্রী ফাতেমা আক্তার আজ এক নিস্তব্ধ পাথর। একপাশে হারানো স্বামীর স্মৃতি, আর বুকে আগলে রাখা একমাত্র সন্তান।

শুধু মাত্র এই বাবুলই নন রোড সেফটির তথ্য বলছে, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত তিন চাকার যানবাহনের চাকায় প্রায় ১২ হাজার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৬ হাজার ৮২২ জনের। মৃত্যুর মিছিল বাড়লেও অবৈধ এই যানটি বন্ধে যেমন কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেই সরকারের। তেমনি উৎপাদন বন্ধেও নেই নজর।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের চরাইল এলাকা। প্রায় ২০০ টির অধিক অটোরিকশা তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে এখানে। এক কথায় অটোরিকশার একটি শিল্পাঞ্চলে পরিণত হয়েছে এলাকাটি। যেখানে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে ২ থেকে ৩০০টির বেশি অবৈধ গাড়ি।

ঝিনাইদহে সড়ক দুর্ঘটনায় ট্রাক চালক ও হেলপার নিহত

উৎপাদনকারীরা জানান, বংশাল থেকে উৎপাদনের কাঁচামাল এনে নিজেরাই তৈরি করেন অটোরিকশা। এতে কাগজপত্রের ঝামেলা না থাকায় একটা মেমো করেই ছেড়ে দেয়া হয় অটোরিকশা।।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবৈধ এ অটো রিকশার নিয়ে ভোগান্তির পেছনে দায়ী বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দায়িত্বরতদের গাফিলতিতেই অটোরিকশা পরিণত হয়েছে শহরের ক্যান্সারে।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যে সংস্থাগুলো আসলে কাজ করার কথা যেমন- বিআরটিএ, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এমনকি আমাদের রাজস্ব বোর্ড তারও এখানে ভূমিকা আছে। আমাদের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আমি মনে করি তাদের যে ভূমিকা ছিলো তা পালন করে নি।’

কোন মোটর যান তৈরিতে নকশার অনুমোদন ও সড়কে চলতে ফিটনেস ও লাইসেন্স প্রয়োজন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের। যদিও এসব যানবাহন বিআরটিএর আওতায় নয় দাবি কর্তৃপক্ষের।

এদিকে নীতিমালা ও নিবন্ধন না থাকায় অবৈধ এই মোটরযানে আইন প্রয়োগে জটিলতায় পড়ছে পুলিশ। তবে দ্রুত উৎপাদন বন্ধে অভিযান চালানোর আশ্বাস ডিএমপির।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ব্যাটারীচালিত রিকশা কিন্তু বিআরটিএর অথোরিটি নয়। এটা লোকাল গভর্নমেন্টের অথোরিটি। যে কারণে এ জায়গাটাই আমাদের সাথে কো-অর্ডিনেশনে আমি বলছি এ কো-অর্ডিনেশনটা আমরা করছি।’

ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমরা খুব দ্রুত আমরা ডেট টা ডিসক্লোজ করছি না। কিন্তু অত্যন্ত দ্রুত আমরা এ অটোরিকশার যে উৎপাদন আশেপাশের গ্যারেজগুলায় তা আমরা বন্ধ করে দেবো।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বাড়ছে অটোরিকশা: উৎপাদন বন্ধে নেই নজর, আমদানিতে ছাড়

আপডেট সময় : ০২:৪৭:২৯ অপরাহ্ন, রোববার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর জুড়ে প্রতিদিন ব্যাঙের ছাতার মত বাড়ছে অটোরিকশা। নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালার বাস্তবায়নে যেমন ভ্রুক্ষেপ নেই কর্তৃপক্ষের, তেমনি অটোরিকশার উৎপাদন বন্ধেও নেই নজর। মুখে বন্ধের বুলি আওড়ালেও অটোরিকশার সরঞ্জাম আমদানির অনুমতি দিয়েছে রেখেছে সরকার। তিন চাকার এই বাহনে বাড়ছে নিত্য দুর্ঘটনা। এখনি যার উৎপাদন বন্ধের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।

৭ ডিসেম্বরের, ডেমড়া এলাকায় অটোরিকশায় পিষ্ট হয় কিশোরগঞ্জের বাবুলের জীবন। জীবনের মাঝপথে এসে প্রিয়তমকে হারিয়ে স্ত্রী ফাতেমা আক্তার আজ এক নিস্তব্ধ পাথর। একপাশে হারানো স্বামীর স্মৃতি, আর বুকে আগলে রাখা একমাত্র সন্তান।

শুধু মাত্র এই বাবুলই নন রোড সেফটির তথ্য বলছে, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত তিন চাকার যানবাহনের চাকায় প্রায় ১২ হাজার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৬ হাজার ৮২২ জনের। মৃত্যুর মিছিল বাড়লেও অবৈধ এই যানটি বন্ধে যেমন কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেই সরকারের। তেমনি উৎপাদন বন্ধেও নেই নজর।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের চরাইল এলাকা। প্রায় ২০০ টির অধিক অটোরিকশা তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে এখানে। এক কথায় অটোরিকশার একটি শিল্পাঞ্চলে পরিণত হয়েছে এলাকাটি। যেখানে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে ২ থেকে ৩০০টির বেশি অবৈধ গাড়ি।

ঝিনাইদহে সড়ক দুর্ঘটনায় ট্রাক চালক ও হেলপার নিহত

উৎপাদনকারীরা জানান, বংশাল থেকে উৎপাদনের কাঁচামাল এনে নিজেরাই তৈরি করেন অটোরিকশা। এতে কাগজপত্রের ঝামেলা না থাকায় একটা মেমো করেই ছেড়ে দেয়া হয় অটোরিকশা।।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবৈধ এ অটো রিকশার নিয়ে ভোগান্তির পেছনে দায়ী বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দায়িত্বরতদের গাফিলতিতেই অটোরিকশা পরিণত হয়েছে শহরের ক্যান্সারে।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যে সংস্থাগুলো আসলে কাজ করার কথা যেমন- বিআরটিএ, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এমনকি আমাদের রাজস্ব বোর্ড তারও এখানে ভূমিকা আছে। আমাদের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আমি মনে করি তাদের যে ভূমিকা ছিলো তা পালন করে নি।’

কোন মোটর যান তৈরিতে নকশার অনুমোদন ও সড়কে চলতে ফিটনেস ও লাইসেন্স প্রয়োজন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের। যদিও এসব যানবাহন বিআরটিএর আওতায় নয় দাবি কর্তৃপক্ষের।

এদিকে নীতিমালা ও নিবন্ধন না থাকায় অবৈধ এই মোটরযানে আইন প্রয়োগে জটিলতায় পড়ছে পুলিশ। তবে দ্রুত উৎপাদন বন্ধে অভিযান চালানোর আশ্বাস ডিএমপির।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ব্যাটারীচালিত রিকশা কিন্তু বিআরটিএর অথোরিটি নয়। এটা লোকাল গভর্নমেন্টের অথোরিটি। যে কারণে এ জায়গাটাই আমাদের সাথে কো-অর্ডিনেশনে আমি বলছি এ কো-অর্ডিনেশনটা আমরা করছি।’

ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমরা খুব দ্রুত আমরা ডেট টা ডিসক্লোজ করছি না। কিন্তু অত্যন্ত দ্রুত আমরা এ অটোরিকশার যে উৎপাদন আশেপাশের গ্যারেজগুলায় তা আমরা বন্ধ করে দেবো।’