ঢাকা ০২:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেড় যুগ পর স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৫০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • / 38

দীর্ঘ দেড় যুগ পর ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে ঐতিহ্যবাহী সামরিক কুচকাওয়াজ রাজধানীর পুরাতন বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হল। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী প্যারেড মাঠে পৌঁছালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ দেশি-বিদেশি অসংখ্য অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সম্মান জানিয়ে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর একটি খোলা জিপে চড়ে প্যারেড পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গী হিসেবে জিপে ছিলেন প্যারেড অধিনায়ক ও নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হক। পরিদর্শন শেষে অভিবাদন মঞ্চে ফিরে রাষ্ট্রপ্রধান স্বাধীনতা দিবসের এই বিশেষ কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন।

প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িতে উড়ল জাতীয় পতাকা

জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর অংশগ্রহণে স্থল ও আকাশে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার মনোজ্ঞ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও এই প্যারেডে অংশ নেন। ঘোড়ায় চড়ে প্যারেড কমান্ডারের প্রবেশের মধ্য দিয়ে মূল কুচকাওয়াজ শুরু হয়।

এবারের কুচকাওয়াজে সাঁজোয়া, আর্টিলারি, সিগন্যালস, ইস্ট বেঙ্গল, এয়ার ডিফেন্স, সার্ভিসেস, প্যারা কমান্ডো, নৌবাহিনী ও আধুনিকায়িত ইনফ্যান্ট্রি কন্টিনজেন্ট অংশগ্রহণ করে। পাশাপাশি আকাশপথে প্যারাট্রুপারদের জাতীয় পতাকা নিয়ে অবতরণ এবং বিমানবাহিনীর বিভিন্ন কৌশলগত প্রদর্শনীও এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল।

২০০৮ সালের পর অর্থাৎ ১৮ বছর পরে এবার ২৬ মার্চের আনুষ্ঠানিকতায় যুক্ত হল এ প্রদর্শনী।

জাতীয় প্যারেড স্কয়ারের অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানসহ দেশি-বিদেশি কুটনৈতিক, রাজনৈতিক নেতা, আমন্ত্রিত অতিথি ছাড়াও কুচকাওয়াজ ও মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট দেখতে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে এসেছেন হাজারো দর্শনার্থী। দর্শনার্থীদের অনেকের হাতে ও মাথায় জাতীয় পতাকা ছিল।

চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কুচকাওয়াজ বা প্যারেড প্রদর্শনী বন্ধ ছিল। তবে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপনে এ আয়োজন থাকত।

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবার স্বাধীনতা দিবসে জাঁকজমকভাবে এ আয়োজন করতে রোজার শুরু থেকে প্যারেড স্কয়ার মাঠে প্রস্তুতি শুরু হয়, মঙ্গলবার ‘চূড়ান্ত রিহার্সেলের’ মাধ্যমে তার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

দেড় যুগ পর স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় : ০১:৫০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘ দেড় যুগ পর ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে ঐতিহ্যবাহী সামরিক কুচকাওয়াজ রাজধানীর পুরাতন বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হল। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী প্যারেড মাঠে পৌঁছালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ দেশি-বিদেশি অসংখ্য অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সম্মান জানিয়ে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর একটি খোলা জিপে চড়ে প্যারেড পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গী হিসেবে জিপে ছিলেন প্যারেড অধিনায়ক ও নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হক। পরিদর্শন শেষে অভিবাদন মঞ্চে ফিরে রাষ্ট্রপ্রধান স্বাধীনতা দিবসের এই বিশেষ কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন।

প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িতে উড়ল জাতীয় পতাকা

জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর অংশগ্রহণে স্থল ও আকাশে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার মনোজ্ঞ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও এই প্যারেডে অংশ নেন। ঘোড়ায় চড়ে প্যারেড কমান্ডারের প্রবেশের মধ্য দিয়ে মূল কুচকাওয়াজ শুরু হয়।

এবারের কুচকাওয়াজে সাঁজোয়া, আর্টিলারি, সিগন্যালস, ইস্ট বেঙ্গল, এয়ার ডিফেন্স, সার্ভিসেস, প্যারা কমান্ডো, নৌবাহিনী ও আধুনিকায়িত ইনফ্যান্ট্রি কন্টিনজেন্ট অংশগ্রহণ করে। পাশাপাশি আকাশপথে প্যারাট্রুপারদের জাতীয় পতাকা নিয়ে অবতরণ এবং বিমানবাহিনীর বিভিন্ন কৌশলগত প্রদর্শনীও এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল।

২০০৮ সালের পর অর্থাৎ ১৮ বছর পরে এবার ২৬ মার্চের আনুষ্ঠানিকতায় যুক্ত হল এ প্রদর্শনী।

জাতীয় প্যারেড স্কয়ারের অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানসহ দেশি-বিদেশি কুটনৈতিক, রাজনৈতিক নেতা, আমন্ত্রিত অতিথি ছাড়াও কুচকাওয়াজ ও মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট দেখতে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে এসেছেন হাজারো দর্শনার্থী। দর্শনার্থীদের অনেকের হাতে ও মাথায় জাতীয় পতাকা ছিল।

চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কুচকাওয়াজ বা প্যারেড প্রদর্শনী বন্ধ ছিল। তবে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপনে এ আয়োজন থাকত।

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবার স্বাধীনতা দিবসে জাঁকজমকভাবে এ আয়োজন করতে রোজার শুরু থেকে প্যারেড স্কয়ার মাঠে প্রস্তুতি শুরু হয়, মঙ্গলবার ‘চূড়ান্ত রিহার্সেলের’ মাধ্যমে তার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।