সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইনে ও ৩ দিন সশরীরে ক্লাস: শিক্ষামন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৫:২৪:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
- / 39
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশের মেট্রোপলিটন এলাকার বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সশরীরে ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইনেও শিক্ষা কার্যক্রম চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইনে এবং বাকি তিন দিন সশরীরে বা অফলাইনে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর দনিয়া কলেজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ এবং ইউনিসেফের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠান শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকেই নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু হবে। নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা শনিবার (১১ এপ্রিল) স্কুলে এসে সশরীরে ক্লাস করবে। এরপর পর্যায়ক্রমে রবিবার অনলাইনে, সোমবার অফলাইনে, মঙ্গলবার অনলাইনে, বুধবার অফলাইনে এবং বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, এ সিদ্ধান্ত সারা দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য নয়। শুধুমাত্র মহানগর বা মেট্রোপলিটন এলাকার যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি, প্রাথমিকভাবে সেখানেই এ হাইব্রিড শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
অনলাইন ক্লাস পরিচালনার রূপরেখা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, শিক্ষকরা নিজ নিজ বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকেই এ অনলাইন ক্লাসগুলো পরিচালনা করবেন। এ সময় বিদ্যালয়গুলোতে ইন্টারনেট বা ওয়াইফাইসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষাব্যবস্থায় যাতে কোনো ধরনের ধস বা বিরূপ প্রভাব না পড়ে, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই এখনই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়মটি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না বলে সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘ভিকারুননিসা একটি বিশাল প্রতিষ্ঠান যেখানে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। বৈশ্বিক ও জাতীয় জ্বালানি সংকটের এই সময়ে আমাদের সবারই দেশের পাশে দাঁড়ানো উচিত।
বর্তমানে যাত্রাবাড়ী বা দূরদূরান্ত থেকে আসা ছাত্রীরা সিএনজি বা রিকশা ভাড়া বৃদ্ধির কারণে নিয়মিত স্কুলে আসতে পারছে না। তাদের জন্য অনলাইন ক্লাস এক ধরনের বড় স্বস্তি নিয়ে আসবে।’
তিনি নতুন এই পদ্ধতির প্রায়োগিক দিক তুলে ধরে আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা বাসায় বসে অনলাইনে পাঠ গ্রহণ করবে এবং যে সব বিষয় বুঝতে সমস্যা হবে, সেগুলো সশরীরে ক্লাসের দিনে এসে সমাধান করে নেবে।’
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক ও রাজধানীর বিভিন্ন সুপরিচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

























Supreme leader’s body arrives at Tehran religious complex for funeral