ঢাকা ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রকারীদের সতর্ক করে দিলেন জয়নুল আবদিন ফারুক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:০১:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • / 38

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, “আমরা সংঘর্ষ চাই না, কিন্তু কেউ যদি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করে, তাহলে তা সহজে মেনে নেওয়া হবে না। বিএনপি সেই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত আছে।”

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘অপরাজেয় বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সমাবেশের মূল দাবি ছিল—জোরপূর্বক গুমের ঘটনাগুলো দ্রুত তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানিয়ে ফারুক বলেন, “আপনারা আশ্বস্ত করেছেন যে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচন বাস্তবায়নে আপনাদের পথচলায় কেউ যাতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন। আপনারা ১৮ কোটি মানুষের সঙ্গে আছেন, কাজেই কারও কথায় কান না দিয়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।”

আইনি ভিত্তি ছাড়া জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে না এনসিপি: নাহিদ ইসলাম

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের মাত্র তিন মাস আগে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যা নির্বাচনকে ব্যাহত করতে পারে। এই ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে আরও সতর্ক হতে হবে।”

দেশকে ভালোবাসলে অনির্বাচিত সরকারকে আর ক্ষমতায় রাখা যাবেনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিদেশিদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে নির্বাচন এখনই প্রয়োজন।’

বিএনপির সিনিয়র নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে ফারুক বলেন, “আমরা এমন কোনো কাজ করতে চাই না, যার ফলে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের রক্ত বৃথা যায় বা হিন্দুস্থান (ভারত) যেন আবার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের সুযোগ না পায়।”

ফারুক অভিযোগ করে বলেন, “যারা ১৬ বছর আয়না ঘর বানিয়েছিল, গুম-খুন করেছে—চৌধুরী আলম, ইলিয়াস আলীকে গুম করেছে—তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। এই সরকার গত এক বছর চার মাসে তাদের কয়জনকে আইনের আওতায় আনতে পেরেছে?”

তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, “আর দেরি নয়, দ্রুত জাতীয় নির্বাচন দিন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে নতুন সরকার গঠন করে আমরা গুম-খুনের সঙ্গে জড়িতদের এবং বিচার বিভাগ ধ্বংসকারীদের বিচার করব।”

নাগরিক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সহসভাপতি বাদল সরকার। আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদ, দলটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সিরাজী।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রকারীদের সতর্ক করে দিলেন জয়নুল আবদিন ফারুক

আপডেট সময় : ০৫:০১:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, “আমরা সংঘর্ষ চাই না, কিন্তু কেউ যদি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করে, তাহলে তা সহজে মেনে নেওয়া হবে না। বিএনপি সেই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত আছে।”

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘অপরাজেয় বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সমাবেশের মূল দাবি ছিল—জোরপূর্বক গুমের ঘটনাগুলো দ্রুত তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানিয়ে ফারুক বলেন, “আপনারা আশ্বস্ত করেছেন যে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচন বাস্তবায়নে আপনাদের পথচলায় কেউ যাতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন। আপনারা ১৮ কোটি মানুষের সঙ্গে আছেন, কাজেই কারও কথায় কান না দিয়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।”

আইনি ভিত্তি ছাড়া জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে না এনসিপি: নাহিদ ইসলাম

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের মাত্র তিন মাস আগে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যা নির্বাচনকে ব্যাহত করতে পারে। এই ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে আরও সতর্ক হতে হবে।”

দেশকে ভালোবাসলে অনির্বাচিত সরকারকে আর ক্ষমতায় রাখা যাবেনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিদেশিদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে নির্বাচন এখনই প্রয়োজন।’

বিএনপির সিনিয়র নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে ফারুক বলেন, “আমরা এমন কোনো কাজ করতে চাই না, যার ফলে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের রক্ত বৃথা যায় বা হিন্দুস্থান (ভারত) যেন আবার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের সুযোগ না পায়।”

ফারুক অভিযোগ করে বলেন, “যারা ১৬ বছর আয়না ঘর বানিয়েছিল, গুম-খুন করেছে—চৌধুরী আলম, ইলিয়াস আলীকে গুম করেছে—তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। এই সরকার গত এক বছর চার মাসে তাদের কয়জনকে আইনের আওতায় আনতে পেরেছে?”

তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, “আর দেরি নয়, দ্রুত জাতীয় নির্বাচন দিন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে নতুন সরকার গঠন করে আমরা গুম-খুনের সঙ্গে জড়িতদের এবং বিচার বিভাগ ধ্বংসকারীদের বিচার করব।”

নাগরিক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সহসভাপতি বাদল সরকার। আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদ, দলটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সিরাজী।