বাজারে টিকে থাকা যাবে কেমন করে?
- আপডেট সময় : ০১:২৪:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
- / 55
সরবরাহ বাড়ায় রাজধানীর বাজারগুলোতে গ্রীষ্মকালীন সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহের চেয়ে গ্রীষ্মকালীন সবজি কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা কমেছে। রাজধানীর বাজারে দেখা দিয়েছে মাছের টানাপোড়েন। গত দুই সপ্তাহ ধরে সরবরাহ কমে যাওয়ায় রুই, কাতলা, চিংড়ি, ট্যাংরা থেকে শুরু করে ছোট মাছ– সব কিছুর দাম বেড়েছে। এদিকে গরু-মুরগির বাজারেও স্বস্তি নেই।
তবে বাজারে শীতকালীন সবজি আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে আলু আগের দামে বিক্রি হলেও পেঁয়াজের কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে ও বাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাজারে দেখা গেছে, গ্রীষ্মকালীন সবজি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। এসব বাজারে ঝিঙা, করলা, বরবটি, বেগুন, কচুর লতি, পটল, চিচিঙা কেজিতে ২০ টাকা কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ প্রকারভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ২০ থেকে ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া কেজিতে ১০ টাকা কমে ৪০ টাকা, দেশি শসা ৬০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
স্পেনের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের
এসব বাজারে শীতকালীন সবজি শিম ২০০ টাকা কেজি, টমেটো ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা, ছোট আকারের ফুলকপি ৬০ থেকে ৮০ টাকা পিস, বাঁধাকপি ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে লেবুর হালি ২০ থেকে ৪০ টাকা, ধনেপাতা ৩০০ টাকা কেজি, কাঁচা কলার হালি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০ টাকা পিস, ক্যাপসিকাম ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল শাক ২৫ টাকা আঁটি, লাউ শাক ৫০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ৪০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক ২ আঁটি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর আলু ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে দেশি আদা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, চায়না আদা ২০০ টাকা, রসুন দেশি ১০০ টাকা এবং ভারতীয় ১৬০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১৬০ টাকা, মুগডাল ১৮০ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা এবং খেসারির ডাল ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে মিনিকেট চাল প্রকারভেদে ৮৫ থেকে ৯২ টাকা কেজি, নাজিরশাইল ৮৪ থেকে ৯০ টাকা, স্বর্ণা ৫৫ টাকা এবং আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি দরে।
বাজারগুলোতে সোনালি কক মুরগি ৩১০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড মুরগি ২৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগি ৩১০ টাকা, সাদা লেয়ার ৩০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১০ টাকা কমে ১৮০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৮০ থেকে ৫৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছ-মাংসের দাম বাড়ায় অনেকেই এখন বিকল্প হিসেবে ডিমের ওপর নির্ভর করছেন। কিন্তু প্রোটিনের এই ‘সহজ বিকল্প’-এর দামও বেড়েছে। রাজধানীর বাজারে এখন লাল ডিম ডজন প্রতি ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা, সাদা ডিম ১৩৫ টাকা। প্যাকেটজাত ডিমের দাম আরও বেশি– ডজন প্রতি ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায়, গরুর কলিজা ৭৮০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজি প্রতি ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি শিং ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, চাষের পাঙ্গাস ২০০ থেকে ২৩০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২২০ টাকায়, কৈ মাছ ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৩০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৫০০ টাকায় এবং পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
একই বাজারে গৃহিণী রত্না বেগম বলেন, ‘আগে এক কেজি পাবদা কিনতাম, এখন আধা কেজি কিনি। ট্যাংরা মাছের দাম এত বেড়ে যাবে, ভাবিনি। এখন বাজারে ঢুকলেই ভয় লাগে– কী কিনব, কী ছাড়ব বুঝি না।’
রামপুরা বাজারের বিক্রেতা মো. কামাল বলেন, ‘সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম বেড়েছে ১০ টাকা। বৃষ্টির কারণে সবজির দাম বেড়েছে, ফলে অনেকে ডিমের দিকে ঝুঁকছেন। তাতেই চাপ পড়েছে বাজারে।’
বনশ্রী বাজারের মাংস বিক্রেতা আবদুল হালিম বলেন, ‘গরুর মাংসের দাম আগের মতোই, তবে খাসি ও দেশি মুরগির দাম কিছুটা বেড়েছে। খামারিরা ফিড ও পরিবহন খরচ বাড়ার কথা বলে পাইকারিতে দাম বাড়াচ্ছেন।’
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইলিশে সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ায় বাজারে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে বিকল্প মাছের দামও বেড়েছে। অন্যদিকে গরু-মুরগির দামও অপরিবর্তিত থেকে চাপে রেখেছে ক্রেতাদের। প্রোটিনের সব উৎসই যখন ক্রেতার নাগালের বাইরে– তখন মধ্যবিত্তের একটাই প্রশ্ন: এই বাজারে টিকে থাকা যাবে কেমন করে?























রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ