ঢাকা ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১ ডলারে মিলছে ২০ লাখ ইরানি রিয়াল!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / 30

ইরানের মুদ্রার মান সর্বকালের সর্বনিম্নে নেমে গেছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে দেশটির অর্থনীতি এমনিতেই বিপর্যস্ত ছিল। এর ওপর সম্প্রতি ওয়াশিংটন নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানি রিয়াল ব্যাপক ধসের মুখে পড়েছে। খবর এপি’র।

সোমবার (২৪ আগস্ট) মুদ্রা বাজারে লেনদেনের শুরুতেই মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মান কমে ২০ লাখ ২০ হাজারে নেমে আসে। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক বিনিময় হার প্রতি ডলারে প্রায় ১৫ লাখ রিয়াল হলেও বেশিরভাগ ইরানি নাগরিককে বাজার দরেই ডলার কিনতে হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগে থেকেই দুই অঙ্কের মূল্যস্ফীতি এবং নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির কারণে ইরানের মুদ্রা চাপের মধ্যে ছিল। তবে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাবে মুদ্রার মান বারবার নতুন করে রেকর্ড পরিমাণ কমছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও ক্রমশ সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে ইরানিদের। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চালের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ এবং গরুর মাংসের দাম ১৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশটির জিডিপি ৫ শতাংশেরও বেশি সংকুচিত হবে।

তবে এই অর্থনৈতিক চাপ এখনও রাজনৈতিক চাপে পরিণত হয়নি। ইরান এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা ধরে রেখেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের ওপর তাদের হামলা এবং হুমকির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, পাশাপাশি নভেম্বরে মিডটার্ম নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

১ ডলারে মিলছে ২০ লাখ ইরানি রিয়াল!

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের মুদ্রার মান সর্বকালের সর্বনিম্নে নেমে গেছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে দেশটির অর্থনীতি এমনিতেই বিপর্যস্ত ছিল। এর ওপর সম্প্রতি ওয়াশিংটন নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানি রিয়াল ব্যাপক ধসের মুখে পড়েছে। খবর এপি’র।

সোমবার (২৪ আগস্ট) মুদ্রা বাজারে লেনদেনের শুরুতেই মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মান কমে ২০ লাখ ২০ হাজারে নেমে আসে। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক বিনিময় হার প্রতি ডলারে প্রায় ১৫ লাখ রিয়াল হলেও বেশিরভাগ ইরানি নাগরিককে বাজার দরেই ডলার কিনতে হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগে থেকেই দুই অঙ্কের মূল্যস্ফীতি এবং নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির কারণে ইরানের মুদ্রা চাপের মধ্যে ছিল। তবে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাবে মুদ্রার মান বারবার নতুন করে রেকর্ড পরিমাণ কমছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও ক্রমশ সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে ইরানিদের। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চালের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ এবং গরুর মাংসের দাম ১৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশটির জিডিপি ৫ শতাংশেরও বেশি সংকুচিত হবে।

তবে এই অর্থনৈতিক চাপ এখনও রাজনৈতিক চাপে পরিণত হয়নি। ইরান এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা ধরে রেখেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের ওপর তাদের হামলা এবং হুমকির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, পাশাপাশি নভেম্বরে মিডটার্ম নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে।