ঢাকা ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আগুন নিয়ন্ত্রণে; ফের চালু ফ্লাইট

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:১৩:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
  • / 60

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। আজ (শনিবার, ১৮ অক্টোবর) মন্ত্রণালয় থেকে পাঠনো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় রাত ৯টা থেকে পুনরায় সব ফ্লাইট চালু হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কোনো নিহতের ঘটনা ঘটেনি।

ফায়ার সার্ভিস ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করে নিশ্চিত করা যাচ্ছে যে আগুন সম্পূর্ণ নিভে গেছে। রাত ৯টা থেকে সব ফ্লাইট কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নিজে বিমানবন্দরে অবস্থান করে সমগ্র পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

শাহজালালের কার্গো ভিলেজে আগুন : আনসারের ১৭ সদস্য আহত

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে এরই মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হবে। অগ্নিকাণ্ডের উৎস শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে। বিমানবন্দর ব্যবহারকারী যাত্রী ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা ও ধৈর্য ধারণের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

তবে মন্ত্রণালয় থেকে পুরোপুরি আগুন নির্বাপনের কথা বলা হলেও বিমানবন্দরের দুর্ঘটনাস্থলের কিছু কিছু জায়গা আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। এটি নিয়ন্ত্রণে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা।

দুর্ঘটনার পর বিমানবন্দর ফের চালু হওয়ার পর রাত ৯টা ৭ মিনিটে শাহজালালে অবতরণ করে।

এছাড়া সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে রাত ৯টা ২২ মিনিটে নভোএয়ারের একটি ফ্লাইট ছেড়ে এসেছে। তবে বাংলাদেশ বিমানের একটি এবং ইউএস বাংলার দুটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করেছে ওসমানী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

নাশকতার প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রতি একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে সৃষ্ট উদ্বেগ সম্পর্কে অন্তর্বর্তী সরকার গভীরভাবে অবগত বলে জানানো হয়েছে। আজ (শনিবার, ১৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় নাশকতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে বলা হয়, নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রতিটি ঘটনা গভীরভাবে তদন্ত করছে এবং মানুষের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। যদি এসব অগ্নিকাণ্ডের পেছনে নাশকতা বা অগ্নিসংযোগের কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সরকার তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

এ সময় কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা উসকানির মাধ্যমে জনজীবন ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করার সুযোগ দেয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে দেশের নাগরিকদের ঐক্য, সংযম ও দৃঢ় সংকল্প বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছেন, বাংলাদেশ অতীতেও বহু কঠিন সময় অতিক্রম করেছে এবং গণতন্ত্রের উত্তরণের পথে যেকোনো হুমকির মোকাবিলা করা হবে। ভয়ের কিছু নেই বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আজ (শনিবার, ১৮ অক্টোবর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রশাসন ও মানব সম্পদ পরিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) মো. নওসাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী, পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ, ক্ষয়ক্ষতি ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চিফ (ফ্লাইট সেফটি)। এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি থাকবেন সদস্য হিসেবে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, মহাব্যবস্থাপক (কর্পোরেট সেফটি অ্যান্ড কোয়ালিটি), চিফ ইঞ্জিনিয়ার (কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স), উপ-মহাব্যবস্থাপক (সিকিউরিটি), উপ-মহাব্যবস্থাপক (কার্গো-রপ্তানি) এবং উপ-ব্যবস্থাপক (ইনস্যুরেন্স)।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কমিটি অগ্নিকাণ্ডের কারণ চিহ্নিত করা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ, দায়-দায়িত্ব নিরূপণ এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশ তৈরি করবে।

কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইওর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আগুন নিয়ন্ত্রণে; ফের চালু ফ্লাইট

আপডেট সময় : ১১:১৩:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। আজ (শনিবার, ১৮ অক্টোবর) মন্ত্রণালয় থেকে পাঠনো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় রাত ৯টা থেকে পুনরায় সব ফ্লাইট চালু হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কোনো নিহতের ঘটনা ঘটেনি।

ফায়ার সার্ভিস ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করে নিশ্চিত করা যাচ্ছে যে আগুন সম্পূর্ণ নিভে গেছে। রাত ৯টা থেকে সব ফ্লাইট কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নিজে বিমানবন্দরে অবস্থান করে সমগ্র পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

শাহজালালের কার্গো ভিলেজে আগুন : আনসারের ১৭ সদস্য আহত

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে এরই মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হবে। অগ্নিকাণ্ডের উৎস শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে। বিমানবন্দর ব্যবহারকারী যাত্রী ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা ও ধৈর্য ধারণের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

তবে মন্ত্রণালয় থেকে পুরোপুরি আগুন নির্বাপনের কথা বলা হলেও বিমানবন্দরের দুর্ঘটনাস্থলের কিছু কিছু জায়গা আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। এটি নিয়ন্ত্রণে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা।

দুর্ঘটনার পর বিমানবন্দর ফের চালু হওয়ার পর রাত ৯টা ৭ মিনিটে শাহজালালে অবতরণ করে।

এছাড়া সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে রাত ৯টা ২২ মিনিটে নভোএয়ারের একটি ফ্লাইট ছেড়ে এসেছে। তবে বাংলাদেশ বিমানের একটি এবং ইউএস বাংলার দুটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করেছে ওসমানী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

নাশকতার প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রতি একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে সৃষ্ট উদ্বেগ সম্পর্কে অন্তর্বর্তী সরকার গভীরভাবে অবগত বলে জানানো হয়েছে। আজ (শনিবার, ১৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় নাশকতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে বলা হয়, নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রতিটি ঘটনা গভীরভাবে তদন্ত করছে এবং মানুষের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। যদি এসব অগ্নিকাণ্ডের পেছনে নাশকতা বা অগ্নিসংযোগের কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সরকার তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

এ সময় কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা উসকানির মাধ্যমে জনজীবন ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করার সুযোগ দেয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে দেশের নাগরিকদের ঐক্য, সংযম ও দৃঢ় সংকল্প বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছেন, বাংলাদেশ অতীতেও বহু কঠিন সময় অতিক্রম করেছে এবং গণতন্ত্রের উত্তরণের পথে যেকোনো হুমকির মোকাবিলা করা হবে। ভয়ের কিছু নেই বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আজ (শনিবার, ১৮ অক্টোবর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রশাসন ও মানব সম্পদ পরিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) মো. নওসাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী, পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ, ক্ষয়ক্ষতি ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চিফ (ফ্লাইট সেফটি)। এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি থাকবেন সদস্য হিসেবে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, মহাব্যবস্থাপক (কর্পোরেট সেফটি অ্যান্ড কোয়ালিটি), চিফ ইঞ্জিনিয়ার (কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স), উপ-মহাব্যবস্থাপক (সিকিউরিটি), উপ-মহাব্যবস্থাপক (কার্গো-রপ্তানি) এবং উপ-ব্যবস্থাপক (ইনস্যুরেন্স)।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কমিটি অগ্নিকাণ্ডের কারণ চিহ্নিত করা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ, দায়-দায়িত্ব নিরূপণ এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশ তৈরি করবে।

কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইওর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।