অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে: মির্জা ফখরুল
- আপডেট সময় : ০২:৩২:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
- / 60
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের ওপর যে আস্থা রেখেছিল তার মর্যাদা রাখেনি সরকার। জনগণের সাথে অন্তর্বর্তী সরকার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
জুলাই সনদ নিয়ে জাতীয় নির্বাচনের আগেই ঐকমত্য কমিশন গণভোটের যে সুপারিশ করেছে তার বিরোধিতা করেন তিনি। বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট করার কোনো সুযোগ নেই।
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সংকট তৈরি করেছে। প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা মেনে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চায় দেশের মানুষ। কিন্তু সেই নির্বাচন একটি মহল বাধাগ্রস্ত করতে চায়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের জন্য দায়ী বর্তমান সরকার। প্রায় এক বছর ধরে নানা বিষয়ে আলোচনার পর যে সমঝোতা হয়েছে, সেটি বৃষ্টিতে ভিজে রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করেছে— কিন্তু সরকার সেই আস্থার মর্যাদা দেয়নি।
প্রধান উপদেষ্টাকে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন দিতে হবে: আসাদুজ্জামান রিপন
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি সংস্কার চায় না— এমন প্রচার শুধুমাত্র জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য ছড়ানো হচ্ছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণভোট নির্বাচনের আগে করার সুযোগ নেই। ১৯৭১ সালে যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তাদের প্রতিও আহ্বান— জনগণের দাবি একটি অবাধ নির্বাচন; সেটিতে যেন কেউ বাধা না দেয়।
এ সময় রাজনৈতিক দল নয়, ঐক্যমত্য কমিশনই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে গণভোটের কোনো সুযোগ এখন আর নেই। নির্বাচনের দিনই গণভোট হবে, দুটি ব্যালট থাকবে, একটি গণভোটের জন্য, আরেকটি জাতীয় সংসদের জন্য। এই বিষয়ে কারও দ্বিমত থাকার কথা নয়।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যারা এই নিয়ে রাস্তায় নেমে গোলমাল করছেন, তাদের অনুরোধ করবো জনগণকে আর বিভ্রান্ত করবেন না। এক সময় আপনারা পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন। আজকে জনগণ যে নির্বাচন চায়, তার বিরোধিতা করবেন না। এই দেশের মানুষ দেশ বিক্রির রাজনীতি ক্ষমা করে না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠন করতে চাই। যাদের সঙ্গে আমরা দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে লড়েছি, একসঙ্গে কাজ করেছি, তাদের নিয়েই আমরা জাতীয় সরকার গঠন করতে চাই। এ ক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য খুবই স্পষ্ট আসুন, সবাই মিলে নির্বাচনের সুযোগকে কাজে লাগাই। সুন্দর ও সুষ্ঠু ভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করে জনগণের পার্লামেন্ট, জনগণের সরকার গঠন করি।’
জেএসডি সিনিয়র সহ-সভাপতি তানিয়া রবের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জেএসডি’র সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম স্বপন, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

























বাংলাদেশের কেউ সংখ্যালঘু নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী